স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিভুক্তির দাবিতে ১৫ তম দিন চলছে আমরণ অনশন কর্মসূচি দাবি পূরণে দ্বিতীয় দফায় শুরু করা এ আন্দোলনে ২০০ জন অসুস্থ হয়ে পরেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজ।
রবিবার (৯ জুলাই ) জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীদ পাশে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষকরা অনশনে বসে কেউ শুয়ে পড়েছেন। এসময় নাগরিক সমাজের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন।
তারা হলেন, শিক্ষা বার্তার সম্পাদক এ এন রাশেদা, ডি. এইছ. ই. এন এর সভাপতি অধ্যক্ষ (অব:) আবু সাইদ, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যক্ষ (অব:) ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ শিক্ষা সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ রনজিৎ কুমার সাহা, এছাড়াও সিপিবি’র নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স।
এসময় তারা বলেন, শিক্ষদের এ দাবি যুক্তি সংঙ্গত। কারণ ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের শিক্ষত করে মানুষের মত মানুষ করেন এ শিক্ষকরা অথচ তারা আজ রাস্তায় ।আমরা কোন দেশে বাস করছি যে দেশের শিক্ষা গুরুরা রাস্তায় থাকে আর আমরা তাদের জন্য কিছুই করতে পারি না। অবিলম্বে আমরা তাদের এ দাবি সরকারকে মেনে নেওয়ার আহবান জানায়।
সংগঠনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার জানান, আমাদের আন্দোলনের ৩০ দিন। আমরণ অনশনের ১৫ তম দিন চলছে আজ। আমি নিজেই গুরুতর অসুস্থ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম।এখনো ২০০ জন অসুস্থ হয়ে আছে।
তিনি বলেন, আমাদের দাবি তো ন্যায্য। এই ন্যায্য দাবি প্রধানমন্ত্রী মেনে নেয়ায় এর আগের আন্দোলন আমরা স্তফা দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের আশাহত করা হয়েছে। বাজেটে আমাদের আশার প্রতিফলন ঘটে নি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা ফের আন্দোলনে নেমেছি। আশায় আছি। ন্যায্য দাবি সরকার মেনে নেবে।
নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায় বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দুটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো তার কার্যলয় থেকে কেনি খবর আসেনি।
দাবি দুটি হলো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আওতায় এনে আংশিক বেতন চালু করে পরবর্তী অর্থবছরে তা সমন্বয় করা। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত না হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য এমপিওভুক্তির পর তিন বছর সময় দেয়া।
অনশনে অংশ নেয়া শিক্ষকরা বলেন, গত ১২ জুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারি করা হয়েছে। এই নীতিমালা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদান অনুমতি ও স্বীকৃতির সময় আরোপিত শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
চলতি ২০১৮-১৯ বাজেটে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দের কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা নেই। যার ফলে নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারীর অত্যন্ত হতাশ ও আশাহত হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপে সারাদেশের নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্তি হলে সকলেই সন্তুষ্ট চিত্তে বাড়ি ফিরে যাবে।