মানুষ আগের থেকে অনেক বেশি আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। নতুন একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে প্রাপ্তবয়স্কদের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মনে করেন ইন্টারনেট তাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ।
খবর পাওয়া থেকে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ যে কোনো কিছুর জন্যই মানুষ এখন কম্পিউটারের চাইতেও অনেক বেশি নির্ভরশীল মোবাইল ফোনের ওপর। বর্তমানে ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রায় ৭৮ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন।
যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা অফকমের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষ দিনে প্রতি ১২ মিনিট পর পর তাদের স্মার্টফোন দেখেন। আরও বলা হয়েছে প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ ইন্টারনেট ছাড়া অচল।
গণসংযোগ প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী ক্রিস ক্লার্কের ব্যবসা পুরোপুরি ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল।
গণসংযোগ প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস ক্লার্ক বলেন, আমাদের কার্যক্রমগুলো লন্ডন-ভিত্তিক হলেও উগান্ডা, যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড ও ফ্রান্সের মতো বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করতে হয়। আমাদের কাজের ধরণটা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হওয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট ছাড়া বিকল্প নেই।
ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প না থাকলেও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে রয়েছে এর ভিন্নমত। স্মার্টফোন ব্যবহারের বেড়ে যাওয়ায়, বন্ধু-আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং দেখা করার প্রবণতা অনেকটাই কমে যাচ্ছে।
মেরিলবোন সেন্টারের মনোবিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু কোলে মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তির ওপর এমন আসক্তি মানুষের মস্তিস্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মানুষ পরিবারকে সরাসরি সময় না দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি দিচ্ছেন। যেমন ধরুন আপনি পরিবারের সঙ্গে বসে খাচ্ছেন কিন্তু কথা বলছেন না। সবাই যার যার মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংযুক্ত থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা পরিণত হচ্ছে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রতীক হিসেবে।




