পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির ফ্ল্যাট উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন হাবিবুল বাশার। তিনি বলেছিলেন, এই সিরিজ দিয়ে মিরাজের নবজাগরণ হয়েছে। টাইগার এ অফস্পিনার এখন থেকে বিদেশে যে কোনো কন্ডিশনে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বোলিং করতে পারবেন বলে মনে হয়েছিল বাশারের।
পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্টে ১০ উইকেট ও ১৫৫ রান করে সিরিজসেরা হয়েছিলেন মিরাজ। প্রথম টেস্টে জয়ের নায়ক মুশফিকুর রহিম হলেও মিরাজ ও সাকিবের ভূমিকা কোনো অংশে কম ছিল না। এ দুই স্পিনার ৭ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিপক্ষকে বেঁধে ফেলতে জোরালো ভূমিকা রেখেছিলেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, মুশফিকের রানের ভিতে দাঁড়িয়ে প্রথম টেস্ট জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাকিব-মিরাজ। তারাই কিনা ১৫ দিনের ব্যবধানে নিষ্প্রভ।
চেন্নাইয়ে ভারতের বিপক্ষে খেলা প্রথম টেস্টে দু’জনে মিলে পেয়েছেন তিন উইকেট। তিনটিই গেছে মিরাজের দখলে। কানপুরে মিরাজ-সাকিব জ্বলে না উঠলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। জাতীয় দল-সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ভালো করতে হলে বোলিংয়ে সাপোর্ট লাগবে স্পিনেও।
বাংলাদেশের স্পিন বিভাগ অনেক অভিজ্ঞ। বিদেশেও ভালো বোলিং করেন সাকিবরা। যে কারণে চেন্নাই টেস্টে সাকিব-মিরাজের কাছে প্রত্যাশাটাও বেশি ছিল অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর। অথচ তাঁকে বেশি হতাশ করেছে সাকিবের বোলিং। বাঁহাতি এ স্পিনার হয়ে ওঠেন রানের খনি। ছয়ের ওপরে ইকোনমি সমালোচনার মুখে ঠেলে দেয় তাঁকে। মিরাজ তবুও ৪৬ ওভার বল করে ইকোনমিটা নাগালে রাখতে পেরেছেন। উইকেটও পেয়েছেন তিনটি। বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম স্পিনারদের পারফরম্যান্স দেখে হতাশ হয়েছিলেন।
টানা বোলিং করেও খুশি ছিলেন না মিরাজ, ‘বোলিং হয়েছে মোটামুটি। আরও ভালো করতে পারলে ভালো হতো। সামনের ম্যাচে ভালো হবে আশা করি। কানপুরে কেমন উইকেট হয় দেখে গেম প্ল্যান করা যাবে।’ কানপুরের গ্রিন পার্ক স্টেডিয়ামের সেন্টার উইকেটের সঙ্গে আউট ফিল্ডকে আলাদা করা কঠিন। গতকাল পর্যন্ত সবুজের সমাহার ছিল। রোহিত শর্মারা চাইলে কিউরেটর হয়তো সেটাকে কেটে এবং ছেঁটে ভারতীয় দলের উপযোগী করে দেবেন। সেটা অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতির অংশ বানিয়ে না ফেললেই হলো। উইকেটে মুভমেন্ট থাকলেও বাংলাদেশি স্পিনাররা হাল ছেড়ে বোলিং করবেন না। কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের কৌশল বুঝে যাওয়ায় তারাও নিজেদের অন্যভাবে উপস্থাপন করতে চান বলে জানা গেছে।
কানপুরে ঘুরে দাঁড়ানোর তাড়না আছে শান্তদের। বোলাররাই পারেন এই লড়াই জমাতে। পেস ইউনিটের সঙ্গে স্পিন জুটি তেড়েফুঁড়ে বোলিং করতে সক্ষম হলে স্বাগতিক ব্যাটারদের চাপে ফেলা সম্ভব হবে। হাবিবুল বাশারও আশা করছেন, কানপুরে সাকিব নিজেকে আগের মতো মেলে ধরবেন। তিনি বলেন, ‘সাকিব ফিট থাকলে সে খেলবে। মিরাজ এ মুহূর্তে অটোচয়েস। কারণ সে ব্যাটিংটাও ভালো পারে। সাকিবের মতো সেও অলরাউন্ডার। চেন্নাই টেস্টে যেহেতু সাকিবের বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, আমি আশা করব, কানপুরে বিতর্ক চাপা দিতে সক্ষম হবে।’
সাকিবের বোলিং হাতের আঙুলে বলের আঘাতে রক্তক্ষরণ হলেও খেলতে সমস্যা হবে না বলে মনে করেন ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম। চেন্নাইয়ে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন খেলা শেষে নেটে এ কথা বলেছেন তিনি। এই কয়েক দিনে তো পুরোপুরি ফিট হয়ে যাওয়ার কথা সাকিবের।





