দেশ গঠনে অংশ নিতে চান বৈষম্যের স্বীকার সশস্ত্র সেনানীরা

0
84

দেশ গঠনে অংশ নিতে চান বৈষম্যের স্বীকার তিন শতাধিক সশস্ত্র সেনানী। শনিবার ঢাকায় রাওয়া কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সেমিনারে এ আগ্রহের কথা জানান তারা। এসময় রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হওয়া প্রাক্তন সামরিক অফিসাররা বৈষম্যহীন ওপেশাদার সামরিক বাহিনী গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সেমিনারটি “বাংলাদেশ ২.০ নামক নতুন একটি ভিশন নিয়ে আলোচনা করে, যা দেশের সামরিক বাহিনীকে আরও দক্ষ, সমন্বিত এবং রাজনীতি থেকে মুক্ত করে গড়ে তোলার লক্ষ নিয়েকাজ করবে। সেমিনার এর শুরুতে সামরিক বাহিনীল অভ্যন্তরে চলমান বৈষম্য রাজনৈতিক প্রভাব এবং ক্ষমাতসীনদের স্বার্থে সামারিক বাহিনীর ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট সংকটের বিষয়ে গভীর বিশ্লেষন প্রদান করা হয়।

বক্তারা উল্লেখ করেন যে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে, সামরিক বাহিনীর রাজনীতিকরণ এবং ক্ষমতাসীনদের হস্তক্ষেপের ফলে এর পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। হত্যা, গুম-খুন, বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ড ছাড়াও অযৌক্তিক বিচারে বিভিন্নভাবে চাকুরিচুত্যির বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। সামরিক বাহিনিকে দেশের প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুনর্গঠন করা প্রয়েঅজন, যাতে এটি রাজনৈতিক স্বার্থ থেকে মুক্ত থাকে।

সেমিনারে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সামরিক বাহিনীর ভেতরে বিদ্যমান বৈষম্যের শিকার হওয়া অসিারদের ঘটনা সমূহ। বক্তাদের মাধ্যমে উঠে আসে কিভাবে মেধাবী কর্মকর্তা ও সদদ্যদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক বরখাস্ত এবং তাদের পেশাদার জীবনে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। নারী কর্মকর্তারাও তাদের দক্ষতা এবং পেশাদােিত্বর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন, কিন্তু তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে।

আলোচকগণ বাংলাদেশ ২.০ বির্নিমাণে সামরিক বাহিনীর রূপরেখা তুতেল ধরে বলেন, সামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান বৈষম্য এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অবসান ঘটিয়ে একটি মেধাবী ও ম্যায়বিচারপূর্ণ বাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব যা শুধু মাত্র দেশের নিরাপত্তার সেবা করবে না, বরং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। বৈষম্যের শিকার হওয়া সামরিক বাহিনীর দক্ষ সদস্যদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে নতুন বাংলাদেশের অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে হবে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকারকে সামারিক আইন সংস্কারের জন্য এবং বঞ্চিত অপিসারদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কমিশন তৈরির আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়াও বরখাস্ত ও নিপীড়িত সামরিক কর্ম কর্তাদের চাকুরিতে পুর্নবহালসহ একটি আর্থিক পুর্নবাসন প্যাকেজ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। সংস্কারের দাবী সমূহ :
১। রাজনৈতিক কারণে বরখাস্ত ও বৈষম্যের মাধ্যম নিপীড়িত কর্মকর্তাদের চাকুরিতে পুনর্বহাল করা
২। বঞ্চিত অফিসারদের পুনর্বাসন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।
৩। সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে কমিশন গঠন করে সামরিক আইনের সংস্কার করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here