দেশত্যাগের পর নিষেধাজ্ঞা দিলো দুদক!

0
111

পালিয়ে যাওয়ার পর দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নোমান গ্রুপের অন্তত: ৭ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি। অনুসন্ধানের বর্তমান পর্যায়ে আদালতের নির্দেশনা নিয়ে গত ২১ অক্টোবর ‘নোমান গ্রুপ’র চেয়ারম্যান মো: নূরুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। কিন্তু এর আগেই যার নামে প্রতিষ্ঠিত ‘নোমান গ্রুপ’, সেই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম রফিকুল ইসলাম নোমান পালিয়ে যান দেশ ছেড়ে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে এ তথ্য। তবে এখনো গ্রুপের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম দেশেই রয়েছেন বলে সুত্রটি নিশ্চিত করেছে। একই সাথে অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের সহযোগী নুরুল ইসলামের মেয়েও এখনও ঢাকায় অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে সুত্রটি।

সূত্রটি জানায়, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েকটি ব্যাংক থেকে অন্তত: হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ‘নোমান গ্রুপ’ভুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে অন্তত: ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে মালয়েশিয়া,দুবাই,সউদী আরব, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেন। এমন একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে গোয়েন্দা অনুসন্ধান করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর অভিযোগটির ‘প্রকাশ্য অনুসন্ধান’র সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এরই বর্তমান পর্যায়ে ইসলামী ব্যাংক, রূপালী ও অগ্রণী ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা যেকোনো সময় দেশত্যাগ করতে পারেন- গোপন-সূত্রে এমন তথ্য পেয়ে দুদক প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো: নূরুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন জানায়। আদালতের নির্দেশনা পেয়ে গত ২১ অক্টোবর নূরুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক। অথচ শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরপরই ‘গ্রুপ অব কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম রফিকুল ইসলাম নোমানও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

সূত্রমতে, জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে তথা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে বিশেষ দূত পাঠিয়ে শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো: নূরুল ইসলামের গুলশানের বাসা থেকে ৭০ কোটি টাকা নেন। কিন্তু ছাত্র-জনতার অভূত অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট ভারত পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এ ঘটনায় অনেকের মতোই হতভম্ব হয়ে পড়ে ‘টেক্সটাইল টাইকুন’খ্যাত নোমান গ্রুপ। নূরুল ইসলাম বুঝতে পারেন, অচিরেই নাড়া পড়তে পারে তার অবিশ্বাস্য ঋণ জালিয়াতির ঘটনায়। তিনি রাতারাতি বড় ছেলে এসএম রফিকুল ইসলাম নোমানকে পাঠিয়ে দেন দেশের বাইরে। প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নিজেও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে দেশ ছাড়ার। কিন্তু এরই মধ্যে আদালতের নির্দেশক্রমে নূরুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক। তবে রহস্যজনক কারণে নিষেধাজ্ঞা আওতার বাইরে রাখা হয় গ্রুপ অব কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা সুফিয়া খাতুন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম রফিকুল ইসলাম নোমান, পরিচালক নূর-ই-ইয়াসমিন ফাতিমা, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জাবের, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জোবায়ের, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তালহা এবং পরিচালক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদকে। অথচ এদের প্রত্যেকের নামে প্রতিষ্ঠান খুলে নূরুল ইসলাম বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে দুদক মহাপরিচালক ও মুখপাত্র মো: আকতার হোসেন বলেছে, যারা বিগত আ’লীগ সরকার আমলে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নেয়ার সঙ্গে জড়িত তাদের কাউকেই ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ আইনে নেই।

উল্লেখ্য, ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো: সহিদুর রহমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here