আগামী রবিবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর শ্বেতপত্র তৈরির জন্য গঠিত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে অর্থনীতিবিদ এবং অর্থনীতিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ফোরাম (ইআরএফ) এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) আয়োজিত সেমিনারে এ তথ্য জানান ড. দেবপ্রিয়।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, প্রতিবেদনটির ফলাফল ২ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারলে কর সংগ্রহে ইতিবাচক পদক্ষেপ আসবে। দাতা সংস্থা ও বিনিয়োগকারীদের সন্দেহের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক বড় প্রকল্পে দাতা সংস্থা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অর্থায়ন করেছেন। তারা উদ্বিগ্ন এই প্রকল্পগুলো চলবে কিনা। তারা জানতে চান, আগামী দিনে বাংলাদেশ কিভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
তিনি বলেন, এই ফোরাম তৈরি করে দাতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। পাঁচটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যার প্রথমটি হচ্ছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। অন্য বিষয়গুলো হলো– ব্যক্তিগত বিনিয়োগের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা, জ্বালানি সংকট সমাধান, সরকারি অর্থায়নের প্রতিবন্ধকতা দূর করে দ্রুত প্রকল্প সম্পন্ন করা এবং সঠিকভাবে কর সংগ্রহ নিশ্চিত করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে সরকারের লক্ষ্য পূরণ হবে না।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এম এ রাজ্জাক। এছাড়া ওপেন বাজেট সার্ভের ওপর একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন ড. এম আবু ইউসূফ। ইআরএফ সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েত উল্লাহ মীরধার সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন— অর্থ মন্ত্রণালয়েরর যুগ্ম-সচিব আনারুল কবির ও প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন মাসুম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।




