বৈষম্য-বিরোধী নেত্রীর বুকে ধাক্কা, দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

0
53

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে একটি চায়ের দোকানে কথাকাটাকাটির জেরে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমজাদ হোসেন, তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, এবং রাত দুইটার পর ক্যাম্পাস শান্ত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, চায়ের দোকানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যশোর জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেমিক্যাল প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী সাদেকা শাহানীর বুকে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী স্বপনের ধাক্কা লাগে।

স্বপন দুঃখ প্রকাশ করলেও সাদেকা ও তার বন্ধুদের দাবি, স্বপন ইচ্ছে করেই সাদেকার বুকে স্পর্শ করেছে, ধাক্কা দিয়েছে। স্বপন বিষয়টি অস্বীকার করলেও সাদেকা ও তার বন্ধুরা স্বপনকে গালাগাল করে এমনকি সিএসই বিভাগ নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন।

এরপর সিএসই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সাদেকার বন্ধু এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিব আহমেদকে ডেকে নেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সাদেকা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের ঘটনাস্থলে জড়ো করেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ বিষয়ে সাদেকা শাহানী বলেন, “আমি ও আমার ব্যাচমেট হাবিবসহ কয়েকজন চা দোকানের ওখানে ছিলাম, তখন সিএসই’র স্বপন আমার বুকে ধাক্কা দেয়। আমি বিরক্ত হয়ে কিছু কথা বলে ফেলি। তখন স্বপন ও তার এক বন্ধু স্যরি বলে। পরে ক্যাম্পাসে ঢুকলে সিএসই’র কয়েকজন শিক্ষার্থী হাবিবকে ডাকে। আমি এটা দেখে আমার বন্ধুদের ডাক দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্রের দাবি, এই সংঘর্ষের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বরখাস্তের ঘটনাও সম্পৃক্ত।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আওয়ামীপন্থী আখ্যা দিয়ে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল কবির ও সিএসই বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মো. গালিবকে সাময়িক বরখাস্ত করে। অধ্যাপক গালিবের বরখাস্ত আদেশকে অবৈধ দাবি করে শুক্রবার দুপুরে সিএসই’র শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

শিক্ষার্থীদের ধারণা, অধ্যাপক গালিবের বরখাস্তের পেছনে বৈষম্যবিরোধীদের ইন্ধন রয়েছে, ফলে সিএসই’র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধীদের দ্বন্দ্ব চলছিল। যার জের ধরে সাদেকার বুকে ধাক্কার ঘটনাটি ঘটানো হয় বলে দাবি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, “আমার ধারণা, সংঘর্ষের নেপথ্যে অধ্যাপক গালিবের বরখাস্তের বিষয়টি থাকতে পারে। নইলে চা দোকানের তুচ্ছ কথাকাটাকাটির ঘটনায় এত বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটার কথা নয়।”

এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানতে যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here