অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার ছয় মাস পার হলেও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের ফের কাজে ফিরিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে, বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা ও মব জাস্টিসের মতো হিংসাত্মক পরিস্থিতির জন্য পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে খুন, অপহরণ, চুরি, ছিনতাই ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে মোট ৫,৮৬২টি। এর মধ্যে ১৯২টি পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা এবং ৩২৯টি অপহরণের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। ১,৫৪৫টি খুনের ঘটনা ছাড়াও চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধগুলোও বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সার্বিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। যদিও খুনের ঘটনা কিছুটা কমেছে, তবে মব জাস্টিস, মানবাধিকার লঙ্ঘন, অপহরণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখল এবং পুলিশের ওপর হামলা বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে।
মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন মন্তব্য করেন, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জনগণের প্রত্যাশিত স্তরে পৌঁছাতে পারেনি। মব জাস্টিস ও কাস্টোডিয়াল ডেথের মতো ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে।” তিনি আরও বলেন, “এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যে ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন, তা দেখা যাচ্ছে না।”
গত বছরের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর পুলিশ সদস্যরা সর্বাধিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। প্রায় ৪৬০টি থানা ও পুলিশ স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে ১১৪টি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়ে যায় এবং পুনরুদ্ধার করা হয়েছে অনেকগুলো।
ডিএমপির মুখপাত্র উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, “ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় আমরা স্বল্প সময়ের মধ্যে পুলিশকে পুনরুদ্ধার করেছি। জনবল ও লজিস্টিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”
তবে অনেকেই মনে করছেন, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। মানবাধিকার কর্মী এএসএম নাসির উদ্দিন এলান মন্তব্য করেন, “পুলিশকে আরও মনোযোগী হতে হবে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও অপরাধের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, “আমরা এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম, তবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
সব মিলিয়ে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং অপরাধের হার কমানো যায়।





