পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) একটি স্বশাসিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। যা মহান জাতীয় সংসদে পাশকৃত পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) আইন ১৯৯৯ সালের ২৩নং আইনের ৪ (২) ধারা অনুযায়ী এই ফাউন্ডেশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। এরই আলোকে উক্ত আইনের ১২(২)(চ) ধারা অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানের সকল উর্দ্ধতন বিভাগীয় প্রধান তথা পরিচালকবর্গকে নিয়োগ প্রদানের ক্ষমতা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উপর অর্পিত। এমনকি ফাউন্ডেশনের অন্যান্য কর্মচারীদের নিয়োগ তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ও ক্ষমতা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উপরে অর্পিত।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নং : ০৫.০০.০০০০.১৩২.১৯.০০৪.২৪ (অংশ-১)-৮৮৫, তারিখ: ১৭.১০.২০২৪ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অফিস আদেশ যার স্মারক নং : ৪৭.০০.০০০০.০৪৭.১১.৩৪৮.২৩-২৬৮, তারিখ: ২২.১০.২০২৪ মূলে মো: মাহমুদ হাসান, যুগ্ম সচিব (পরিচিতি নং-১৫৪৮৮)কে পিডিবিএফ এর পরিচালক হিসেবে যে প্রেষণে পদায়ন প্রদান করা হয়েছে। একইভাবে এ প্রেষণাদেশের ভিত্তিতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের স্মারক নং : ৪৭.০০.০০০০. ০৪৭.১১. ৩৪৮. ২৩.২৬৮, তারিখ: ২২.১০.২০২৪ মূলে তাঁকে এ প্রতিষ্ঠানের তাঁর নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে পিডিবিএফ এর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব অর্পন করে আদেশ করা হয়েছে।

তিনি পিডিবিএফ এ যোগদান করে শায়েদুর রহমান খান ও সাবেক পিএস মো: এস.এম ইউসুফ হাসান আল মামুনগং রা নতুন ভারপ্রাপ্ত এমডিকে দিয়ে রাতারাতি অতিরিক্ত পরিচালকসহ প্রায় ৪০০ জনের অধিক বদলি বাণিজ্য ও বিভিন্ন মামলায় শাস্তিপ্রাপ্তদের আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে প্রধান কার্যালয়সহ মাঠ পর্যায়ে ডিডিসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্বের সুযোগ করে দিয়েছেন। তাঁর ৮ মাসের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তাকে ভুলভাল বুঝিয়ে কতিপয় কর্মকর্তা দূর্নীতির সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানে একটি অস্থিরতা তৈরি করেছেন এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব অতিরিক্ত পরিচালক প্রদানসহ বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ জনের কাছ থেকে ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন শায়েদুর রহমান খান ও সাবেক পিএস মামুন গং। ভারপ্রাপ্ত এমডি যখন বুঝতে পেরেছেন যে, তাকে দিয়ে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও শাস্তিপ্রাপ্তদের প্রদান করে নিয়েছেন তখন তিনি শায়েদুর রহমান খানকে অতিরিক্ত পরিচালক ভারপ্রাপ্ত হতে যুগ্ম পরিচালক পদে নামিয়ে দিয়েছেন এবং দুর্নীতির মূলহোতা পিএস মামুনকে তার দপ্তর হতে শায়েদুর রহমান খানের অধিনে অডিট বিভাগে বদলি করেছেন।
শায়েদুর রহমান খান ও পিএস মামুনের বিরুদ্ধে আণীত অভিযোগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
১। পিডিবিএফ এর আয়নাঘর এমডির সাবেক পি এস মামুনের রুমে বসে বদলির তালিকা চুড়ান্ত করণ, তার অনুমোদন ও জারী করে, ব্যাপক বদলী বাণিজ্যের মাধ্যমে ৫ কোটি কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ : বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিডিবিএফ এ যোগদান করার পর কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই তাকে দিয়ে ভুলভাল বুঝিয়ে মাত্র ৩ মাসে ৪০০ জনের অধিক বদলী করেছেন এবং আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের দায়ে দন্ডপ্রাপ্তদের প্রশাসনে ও প্রধান কার্যালয়সহ অঞ্চলের ডিডি পদে পদায়ন করেছেন।
তার মধ্যে মাত্র ৯টি স্মারকে ৩৪০ জন ও অন্যান্য স্মারকে আরও প্রায় ৬০ জন সর্বমোট প্রায় ৪০০ জনকে অর্থের বিনিময়ে বদলী করেছেন। স্মারক নং : ৫১৮৭(১)-১ থেকে ৪৩ মোট ৪৩ জনকে ০৫.১১.২০২৪ইং তারিখে বদলী। স্মারক নং : ৫৭৭৯(১)- ১ থেকে ৪৪ মোট ৪৪ জনকে ০১.১২.২০২৪ইং তারিখে বদলী। স্মারক নং : ৬১৮৫(১)- ১ থেকে ৩৬ মোট ৩৬ জনকে ১৭.১২.২০২৪ইং তারিখে বদলী। স্মারক নং : ৬৩৪২(১)- ১ থেকে ৪৬ মোট ৪৬ জনকে ২৩.১২.২০২৪ইং তারিখে বদলী। স্মারক নং : ৬৩৯৯(১)- ১ থেকে ৪৮ মোট ৪৮ জনকে ২৬.১২.২০২৪ইং তারিখে বদলী। স্মারক নং : ০০১১(১) – ১ থেকে ৪৮ মোট ৪৮ জনকে ০১.০১.২০২৫ইং তারিখে বদলী। স্মারক নং : ০০১০(১)- ১ থেকে ১৪ মোট ১৪ জনকে ০১.০১.২০২৫ইং তারিখে বদলী। স্মারক নং : ০০৪৫(১)-১ থেকে ২ মোট ২ জনকে ০২.০১.২০২৫ইং তারিখে বদলী। স্মারক নং : ২১৮(১)- ১ থেকে ৫৮ মোট ৫৮ জনকে ১২.০১.২০২৫ইং তারিখে বদলী। সর্বমোট ৩৩৯ + ৬১= ৪০০ (চারশত) জনকে বদলী করেন।
বদলী বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন তার পি.এস মামুন এবং সহকারী প্রোগ্রামার মো: ফজলে রাব্বি খানের নেতৃত্বে স্বঘোষিত ক্যাডার, ট্রেড ইউনিয়ন-২০৭৯ এর নেতা আমির, জামাল, রেজা প্রধান কার্যালয়ের আল মামুন জুয়েল, ইকবাল, আব্দুর রহমান, শমসের ও হাবিবের নেতৃত্বে মাঠ থেকে টাকা সংগ্রহ করে পিএস মামুন ও ফজলে রাব্বির কাছে সেই টাকা পৌছানো হয়। গত ০৩ মাসে ব্যাপক বদলী, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রতিটির বদলীর ক্ষেত্রে প্রকার ভেদে ১ লক্ষ হতে ৩ লক্ষ (ইউডিবিও ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ডিডির ক্ষেত্রে ৩ লক্ষ) টাকার বিনিময়ে করে থাকেন। অঞ্চল ভিত্তিক পিএস মামুনের বদলি বানিজ্যের সিন্ডিকেটের সদস্যদের অন্যতম ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ডিডি মহব্বত হোসেন, তাকে পুরস্কার স্বরূপ রংপুর এর এস এ ডি হতে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও ডিডি পদে পদায়ন, রংপুর অঞ্চলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ডিডি মাহবুবুর রহমান, লাল মিয়া, রুহুল আমিন সরকার, এইচ এম এমদাদ, বগুড়া অঞ্চলের পাচ শ্যালক ও ভায়রা ভাই এবং ট্রেড ইউনিয়ন-২০৭৯ প্রধান কার্যালয় এর কতিপয় কর্মচারী ও সোলার প্রকল্পের কিছু অশৃঙ্খল নেতা। মাঠ পর্যায়ে কোন মনিটরিং না থাকায় খেলাপি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দারপ্রান্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে (বদলী আদেশের স্মারকের কপি সংযুক্ত)।
২। মো: এস.এম ইউসুফ হাসান আল মামুন ৪জন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সময়কাল হতে একান্ত সচিব হিসেবে প্রায় ৬ বছর ধরে একই পদে বহাল ও সোলার প্রকল্পের পিডি থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার বানিজ্য : সাবেক পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের নিকটত্মীয় ও তাঁর তদবীরে ২০১৯ সালে মামুন পি.এস হিসেবে লালমনিরহাট অঞ্চল হতে প্রধান কার্যালয়ে যোগদান করেন। দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর ধরে তিনি একই পদে দায়িত্বে থেকে ৪ জন এমডিকে ভাঙ্গিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে এখন ক্ষমতাধর পিএস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সাবেক এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এবং সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম ও সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা ব্যারিস্টার হাসান আরিফ মহোদয়ের সাবেক একান্ত সচিব মো: নাসির উদ্দিনের ফুফাতো ভাই। মো: এস.এম ইউসুফ হাসান আল মামুন ব্যস্থাপনা পরিচালকের একান্ত সচিব হিসেবে বহাল ছিলেন তবে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি এমডি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ পাওয়ার পরে তাকে তার পিএস পদ হতে অডিট বিভাগে বদলি করেন। সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের সময়ে তারই সাবেক পিএস নাসির উদ্দিনের মাধ্যমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি ও প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামীয় একাধিক ব্যক্তির সীল তৈরী করে সুপারিশ দেখিয়ে বা প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যরে সুপারিশ নিয়েপিডিবিএফ এর এমডিকে চাপ দিয়ে গত ৬ বছরে প্রায় ১৫০০ জনকে বদলী করে প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সাবেক এমডি আমিনুল ইসলামের সময়ে পিএস মামুন তার শ্বশুড় বাড়ির লোকজন শ্যালক, ভায়রা ভাই ও নিকটাত্মীয়দের প্রায় ১০ জনসহ মোট ৩০ জনকে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার মধ্যে পাবনা অঞ্চল, বগুড়া অঞ্চল ও লালমনিহাট অঞ্চলে নিয়োগ দিয়েছেন প্রায় ১৫ জনকে। মামুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে একান্ত সচিব হিসাবে কর্মরত থেকে বড় ভাই সেনা কর্মকর্তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে ক্ষমতাধর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মামুন তার অফিস রুমটি পিডিবিএফ আয়নাঘর বা রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছেন। প্রধান কার্যালয়ের ২০৭৯ ট্রেড ইউনিয়নের লোকদের কর্মরত থাকলেও জুয়েল, ইকবাল, হাবিব, আব্দুর রহমান, শমসের এর তাদের দাপ্তরিক কাজ কর্ম না করে লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে পি.এস মামুনের দপ্তরে বসিয়ে রেখে বিভিন্ন বদলী বাণিজ্যের তালিকাসহ বিভিন্নজনকে বদলির হুমকি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি প্রায় কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার নিজ জেলা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্ছ ও শ্বশুড় বাড়ী বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও মহাস্থানগড়ে চারটি গরু ও ছাগলের খামার, বগুড়া মাটির ঢালির পাশে বারপুর নামক জায়গায় ৬ শতক জায়গার উপরে একটি ১০ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করছেন, ৫টি পোল্ট্রি খামার ও তার নিজ গ্রামের বাড়ী জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্ছ উপজেলায় ১০ তলা ফাউন্ডেশনের একটি

বাড়ি নির্মানাধীন রয়েছে। এর বাইরে তার দুটি প্রাইভেট কার ও দুটির মটর সাইকেল রয়েছে। এত অল্প দিনে একজন ২৯০০০/- টাকা বেসিকের চাকুরিজীবী কিভাবে অঢেল সম্পদ ও টাকা পয়সার মালিক হয়ে যান। গত ১৩/০৫/২০২৫ইং তারিখে দুদুকের একটি টিম পিডিবিএফ এর প্রধান কার্যালয়ে ঝটিকা অভিযানে এসে অনুসন্ধান হিসেবে বিভিন্ন সময়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বিভিন্ন প্রকল্পের লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন ফাইলপত্র যাচাই করেন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময়ে সাবেক পিএস মামুনকে দুদক টিম তার প্রকল্পসহ নিয়োগ ও বদলী বানিজ্যের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনুসন্ধানের জন্য ফটোকপি সংগ্রহ করেন। এই সময়ে তিনি টের পেয়ে অফিস থেকে সরে পড়েন। ইতিমধ্যে দুদক টিম তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। পিডিবিএফ এ কর্মকর্তা ও কর্মী পদে প্রায় ১৭০০ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান এই সময়ে মামুন বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য প্রায় ৫০ জনের কাছ থেকে ২ কোটি টাকা ও বিভিন্ন পদে পদোন্নতির জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মর্মে এমডি নিশ্চিত হওয়ায় তাকে দ্রুত তার পিএস পদ হতে অডিট বিভাগে বদলী করেছেন। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে শাস্তির আওতায় আনা জরুরী।
৩। আবেদনের যোগ্যতা না থাকা স্বত্বেও বাগিয়ে নিয়েছেন শাখা ব্যবস্থাপক গ্রেড-২ পদে নিয়োগ (উপজেলা দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা) রয়েছে কয়েজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের নানান দুর্নীতি :
(ক). পিডিবিএফ অভ্যন্তরীণ অডিট প্রতিবেদন (০১.০১.২০০৪ হতে ৩১.১২.২০০৬ ইং পর্যন্ত) : শাখা ব্যবস্থাপক গ্রেড-২ পদে (বর্তমান উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা) নিয়োগ দেয়া হয়। দৈনিক প্রথম আলো ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় বিগত ১৩.১০.২০০৩ ইং তারিখে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ৩১.১০.২০০৩ ইং তারিখের মধ্যে আবেদনের সময়সীমা দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শর্তাবলীতে উল্লেখ করা হয় যে, কোন স্বীকৃতি ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ০৩ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ২০ জনকে শাখা ব্যবস্থাপক গ্রেড-২ পদের মধ্যে ০৮ জন পূর্ববর্তী চাকুরীর কর্মস্থলের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের নিকট হতে ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে না পারায় তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ০১ মাস সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র সংগ্রহের সুযোগ দিয়ে গত ০৫.০৪.২০০৫ইং তারিখে নথি অনুমোদন দেন। অডিট আপত্তিতে দেখা যায় যে, মো: শরীফ মোহাম্মদ ইউসুফ হাসান আল মামুন (০৩২০৬),মো: মশিউল আলম (০৩১৮৭),মো: শফিকুল আলম (০৩১৯০),মো: সোহরাফ হোসেন (০৩১৯৫),আল কামাল মো: মাহবুবুর রহমান (০৩১৯৬), মো: জাকির হোসেন (০৩২০২) সহ মোট ০৬ জন কর্মকর্তা অদ্যবধি চুড়ান্ত ছাড়পত্র সংগ্রহ না করা সত্বেও চাকুরী স্থায়ীকরণ করা হয়েছে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্বেও তাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা হলেন- (১) বেগম ফাতেমা খাতুন (০৩১৯৪), ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করার কোন অভিজ্ঞতা নেই। (২) মো: জাকির হোসেন (০৩২০২) এর কাগজপত্র দেখা যায় মাত্র ০৬ মাস ১৪ দিন। (০৩) মো: মুনকাছিম বিল্লা (০৩২০৩)আব্দুল আল মামুন খান (০৩১৯৮), মো: আবু সাইদ (০৩২০০), এদের অভিজ্ঞতা সনদ হিসেবে নিজ গ্রামে স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত এনজিও এর
প্রত্যয়নপত্র দাখিল করেছেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী প্রত্যয়নকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ কোন স্বীকৃত ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী কোন প্রার্থীর আবেদনপত্র ও সংযুক্ত তথ্যাদি অসম্পুর্ণ বা আংশিক হলে আবেদন পত্র বিবেচনার যোগ্য নয়। এক্ষেত্রে দেখা যায় যে, উপরোক্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকা সত্বেও তাদের আবেদনপত্র বিবেচনা করা হয়েছে যা পরবর্তীতে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। উপরোক্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে যাচাই করে তাদের নিয়োগ বাতিল সহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
(খ). ভারপ্রাপ্ত ডিডি বেগম ফাতেমা খাতুন (০৩১৯৪) পিডিবিএফ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “পল্লী রং” প্রকল্পে বিগত জানু/২০১৭ই হতে ডিসেম্বর/২০২২ পর্যন্ত পুর্নাঙ্গ নিরীক্ষা প্রতিবেদনের আলোকে ১৯,৬১,৭০২/- টাকা তসরূপ করেও এখনও প্রধান কার্যালয়ে বহাল তবিয়তে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে কোন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বা আত্মসাৎকৃত টাকা আদায়ের কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। প্রকৃত পক্ষে ফাতেমা খাতুন এর শাখা ব্যবস্থাপক গ্রেড-২ পদে আবেদন করার যোগ্যতা ছিলনা তার নিয়োগটি সম্পূর্ণরূপে অবৈধ ভাবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাকে প্রতিষ্ঠানের পল্লী রং প্রকল্পের দায়িত্বে দিয়ে প্রায় ২০,০০,০০/- (বিশ লক্ষ) টাকা আত্নসাতের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি সাবেক এমডি মাহবুবুর রহমানের একান্ত ঘনিষ্টজন ছিলেন। তাঁর মাধ্যমে ফাতেমা খাতুনের অবৈধ নিয়োগের ব্যবস্থা কারা হয়। । ৪ (গ) নড়াইল সদর কার্যালয়ে কর্মরত সাবেক ২ জন ইউডিবিও (জাকির হোসেন ও সোহরাব হোসেন) ১৬,২৬,৮০০/- টাকা ক্যাশ হোল্ডিং রেখে সেলপ কর্মকর্তাকে আত্মসাতের সুযোগ করে দেওয়া : প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ভারপ্রাপ্ত ডিডি জনাব জাকির হোসেন, পরিচিতি নং : ০৩২০২ ও মো: সোহরাব হোসেন, পরিচিতি নং : ০৩১৯৫। নড়াইল সদর কার্যালয়ে কর্মরত থাকাবস্থায় ওই কার্যালয়ের সেলপ কর্মকর্তা মো: মারুফ হোসেন, পরিচিতি নং : ০৩৮৭৯, সেলপ ঋণের আদায়কৃত টাকা ১৬,২৬,৮০০/- আদায়মূলে ক্যাশ রেজিস্টারে হাতে নগদ দেখিয়ে ক্যাশ হোল্ডিং করার সুযোগ করে দিয়ে আত্মসাতের সুযোগ করে দেন। সেই সময়ে ডিডি হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন শাহেদুর রহমান খান। তারা দুজনে সাবেক ডিডির একান্ত অনুগত দুজনে বর্তমানে শাহেদুর রহমান খানের তদবিরে হেড অফিসে পোষ্টিং পেয়েছেন। অথচ: উক্ত আত্মসাতকৃত টাকা আদায়ের জন্য কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই শাহেদুর রহমান খান ।
সুত্র বলছে যুগ্ম পরিচালক পদে অবৈধ পদোন্নতির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় উচ্চ পদে অতিরিক্ত পরিচালক ভারপ্রাপ্ত পদে পদায়ন করা হয় শাহেদুর রহমান খান। বলা হচ্ছে এই শায়েদুর রহমান খান সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী ও ডেপুটি স্পিকার মোঃ শামসুল হক টুকুর নিকট আত্মীয়। শাহেদুর রহমান খান গত ০৭.০৯.২০১৬ইং সালে অনৈতিকভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে যুগ্ম পরিচালক পদে পদোন্নতি গ্রহণ করেন। বিগত ০৭.০৫.২০১৬ইং তারিখে যুগ্ম পরিচালক পদে পদোন্নতি পরীক্ষায় মোট ১৪জন অংশ গ্রহণ করলে তার মধ্যে মোঃ শাহেদুর রহমান খান ৬৫.৩৩ নম্বর পেয়ে অকৃতকার্য হন। পরবর্তীতে প্রায় ৫ মাস পরে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর নিকট আত্মীয় ও কাছের মানুষ হওয়ায় তাঁর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে ও চাপ প্রয়োগ করে কোন প্রক্রিয়া বা পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ না করে পিডিবিএফ এর এমডিকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে নেন সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা। তাঁকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পদোন্নতি পত্র পৌঁছাতে বাধ্য করেন এমডিকে। শুধু তার পদোন্নতি নয় গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে নিয়োগ, প্রকল্পের টাকা লোপাট, বদলী বাণিজ্যসহ পিডিবিএফে দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হন।
এছাড়াও তার ছোট ভাইকে পুলিশের এএসপি পদে নিয়োগ করান টুকুর মাধ্যমে আর এটা সম্ভব হয়েছে তার নিকট আত্নীয় ও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে। উক্ত অবৈধ পদোন্নতি চ্যালেঞ্জ করে পিডিবিএফ এর এক জনৈক কর্মকর্তা মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। যার নং- ডচ-৫০১/২০২২ পিডিবিএফ প্রবিধানমালা-৩/২০১১ লঙ্ঘন করে কোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ না করে অনৈতিকিভাবে পদোন্নতির জন্য মহামান্য হাইকোর্ট বিগত ২৩.০১.২০২২ইং তারিখে রিট পিটিশনটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে তার পদোন্নতি কেন বাতিল করা হবে না মর্মে আদালত রুল জারি করেন এবং চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দাখিল করতে বলেন।
পিডিবিএফ এর এমডি গত ২২/১০/২০২৪ইং তারিখে পিডিবিএফ এ যোগদান করে গত ৩ বছরের পূর্বের মামলা হাইকোর্টে চলমান থাকাবস্থায় শাহেদুর রহমান খানকে গত ২৮.১০.২০২৪ইং তারিখে নতুন এমডি কোন কিছু বুঝার আগে তাকে কোর্টের বিষয়টি গোপন রেখে মাত্র ৫ দিনের মধ্যে তাকে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক পদে পদায়ন যা বিগত ১২.০১.২০২৩ইং তারিখে বিভাগীয় প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) পদে দায়িত্বের আদেশ থেকে অতিরিক্ত পরিচালক ভারপ্রাপ্ত কার্যকর হবে। সেই সাথে উক্ত দিন হতে দায়িত্ব ভাতা প্রাপ্ত হবেন এবং পরিচালক পদেও দায়িত্ব পালন করবেন। গত ০৫.১১.২০২৪ইং তারিখে তাঁকে মাঠ পরিচালক বিভাগ ও অডিট বিভাগে দায়িত্ব প্রদান করেন।
পিডিবিএফ এর যুগ্ম পরিচালক মোঃ শাহেদুর রহমান খানের বিরুদ্ধে গত ১০/০৫/২০২২ইং ১০টি অভিযোগ দিয়ে সাবেক এমডির বরাবরে আবেদন করলে উক্ত আবেদনটি আমলে নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ পান্নুকে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তে ১০টি অভিযোগের মধ্যে ৯টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর গত ১২.০১.২০২৩ইং তারিখে এমডির বরাবরে তদন্ত রিপোর্ট জমা করেন। এমডি তদন্ত প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে আইন শাখার ডিডি কে এম ইসরাফিলকে নির্দেশনা দিয়ে ফাইল উপস্থাপন করতে বলেন। ইসরাফিল আদৃশ্য কারণে উক্ত ফাইলটি উপস্থাপন না করে গোপন করে রাখেন শাহেদুর রহমান খানের পরামর্শে। তদন্ত প্রতিবেদনটি এফিডেভিট করে কোর্টে জমা করা হলে আদালত আমলে নিয়ে গত ১১.১২.২০২৪ইং তারিখে মহামান্য হাইকোর্ট আবেদনটি আমলে নিয়ে শুনানি শেষে ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক স্মারকের আদেশটি স্থগিত করে আদেশ জারি করেন। গত ০২.০১.২০২৫ইং তারিখে কোর্টের আদেশের কপি পিডিবিএফ এর এমডির কাছে পৌছানোর পর তাঁকে উক্ত পদ হতে সরিয়ে গত ১২.০১.২০২৫ইং তারিখ স্মারক নং-২১৪ মর্মে অতিরিক্ত পরিচালক হতে যুগ্ম পরিচালক পদ বা নিম্নপদে দায়িত্ব পালন করবেন। গত ১০/০৩/২০২৫ইং তারিখে আদালত পুনরায় তিন মাসের স্থগিত আদেশর সময় বৃদ্ধি করেন। গত ০৬.০৩.২০২৫ইং তারিখে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহম্মেদ পান্নু ও দুই জন সদস্য হারুন অর রশিদ ও রুহুল আলমকে আইন শাখার কে এম ইসরাফিলের পরামর্শ অসত্য তথ্য দিয়ে পত্রের মাধ্যমে এমডির দপ্তরে উপস্থিত হতে বলেন।
সেখানে মোঃ শাহেদুর রহমান খানের বিরুদ্ধে যে, অভিযোগ তদন্ত করেছেন তার রিপোর্ট পরিবর্তন করে তার পক্ষে দিতে হবে মর্মে তাদেরকে চাপ প্রয়োগ সহ হুমকি প্রদান করেন। সেই মোতাবেক তদন্ত রিপোর্টে একটি বিষয়ে প্রমানিত হয়নি সেটাকে ধরে অভিযোগটি আমলে না নিয়ে শাহেদকে অভিযোগ হতে দায় মুক্তি প্রদান করার ব্যবস্থা করেন এমডিকে দিয়ে কে এম ইসরাফিল। তার বিরুদ্ধে সকল অপকর্ম যাতে প্রমানিত না তার জন্য নেপথ্যে কাজ করছেন আইন শাখার বিতর্কিত কর্মকর্তা কে,এম, ইসরাফিল। প্রশাসন শাখার দায়িত্বরত যুগ্ম পরিচালক থাকা সত্ত্বেও তিনি তাকে পাশ কাটিয়ে নিজেই নোটিশ জারি করেন শায়েদুর রহমান খানকে ব্যক্তিগত শুনানির জন্য হাজির হতে বলেন এবং এমডিকে অসত্য তথ্য দিয়ে অভিযোগটি নিস্পত্তির ব্যবস্থা করেন। অথচ উক্ত তদন্ত রিপোর্টটি মহামান্য হাইকোর্টে তাঁর মামলার অতিরিক্ত অভিযোগ সংযোজন করে আমলে নিয়েছেন। হাইকোর্টে বিচারাধীন একটি বিষয়ে চলমান থাকা অবস্থায় তাকে অভিযোগ হতে অব্যাহতি দেওয়া গুরুত্বর অপরাধ।
এক্ষেত্রে তিনি মহামান্য হাইকোর্টের আদেশকে অগ্রাহ্য করেছেন যা কোর্ট অবমাননার সামিল। এ ধরনের অপতৎপরতার জন্য শায়েদুর রহমান খান ও কে এম ইসরাফিলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাগ্রহন সহ বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা জরুরী। তা না হলে প্রতিষ্ঠানের ব্যপক ক্ষতি সাধন হবে।
৫। সাবেক এমডি মাহবুবুর রহমান, শাহেদুর রহমান খানের আস্থাভজন ও দোসর প্রশাসন বিভাগের আইন শাখার স্বঘোষিত প্রধান কে.এম ইসরাফিলের দায়িত্ব ও কর্তব্য অবহেলার কারণে পিডিবিএফ এর বহু মামলায় প্রতিষ্ঠান হেরে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় তিনি প্রতিষ্ঠানের আইন উপদেষ্ঠাদের সাথে যোগসাজসে চলমান মামলাগুলো দীর্ঘায়িত করে সময় ক্ষেপন করেন এবং বেশী টাকার বিল তৈরি করতে সাহায্য করেন। তিনি বিল অনুমোদন নিয়ে বিল পরিশোধের সময় ২০% কমিশন নেন। এভাবে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি করে নিজের ভাগ্যের উন্নতি ঘটান। শাহেদুর রহমান খানের বিরুদ্ধে ১০টি অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদনটি আমলে নেওয়ার জন্য এমডির দপ্তর হতে ফাইল তোলার জন্য তাকে মার্ক করে তার কাছে পাঠানো হলে ফাইলটি যথা সময়ে উপস্থাপন না করে কাল ক্ষেপন করেন।
এভাবে ক্রমান্বয়ে ফাইলটি গায়েব করে দিয়ে শায়েদুর রহমান খানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন। তিনি নিজ উদ্যোগে শায়েদুর রহমান খানকে ব্যাখ্যা তলব করেন। তাঁকে ব্যক্তিগত শুনানির নোটিশ করেন যা তার এখতিয়ার বহির্ভূত। তাঁকে দ্রুত সময়ে মামলা না করে অভিযোগ হতে খালাশ করার জন্য অসত্য তথ্য ও এমডিকে কৌশলে ভুল বুঝিয়ে মামলা হতে খালাস দেওয়ার জন্য এমডির বরাবরে ফাইল উপস্থাপন করেন। এভাবে তিনি অনেক মামলার দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও ব্যবস্থা গ্রহণ না করে খালাশের ব্যবস্থা করেন।
প্রতিক্ষেত্রে তার আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আছে অনেক গুলো অভিযোগের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা উল্লেখ করা হলো:
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ হতে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি তদন্ত করে সৌরশক্তি উন্নয়ন প্রকল্পের ৩ জন পিডির মেয়াদকালে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা তছরুপ ও আত্মসাতের প্রমাণসহ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও প্রকল্প পরিচালক আ. আ. ম. আনোয়ারুজ্জামান এর প্রকল্প পরিচালক থাকা অবস্থায় প্রায় ২৩ কোটি টাকার আত্মসাতের প্রমান থাকা সত্বেও তার বিরুদ্ধে তার অংশের অর্ধেক ১১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের মামলাটি কৌশলে মানিস্যুট মামলা না করে সিভিল স্যুট করা হয়। মামলাটি মহামান্য হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ শেষে মামলাটি রিভিউ এর জন্য রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হয় যার সিভিল রিভিউ পিটিশন নং ৩৪৩/২০২৪। গত ১৬/০১/২০২৫ তারিখে আপিল বিভাগের কার্য্য তালিকায় আসে এবং তিন সপ্তাহের মধ্যে গত ৩০/০১/২০২৫ইং তারিখে মামলাটি ডিসমিস/খারিজ হয়ে যায়। এত বড় অংকের টাকা আদায়ের জন্য মামলাটির জন্য কোন সিনিয়র আইনজীবী নিয়োগ করা হয়নি। তার অন্যতম কারণ এই মামলায় সাবেক এমডি মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্যরা যাতে সুবিধা পায়। এই মামলায় এম.এন. সাহা নামে একজন আইনজীবীকে নিয়োগ করা হয় যা কোনভাবে এই মামলায় শুনানীর জন্য উপযুক্ত ছিলেন না। এতে মামলাটি খারিজ হয়ে যায় এবং পিডিবিএফ এর বড় ধরনের আর্থিক আদায়ে ব্যার্থ হয় যা ভবিষ্যতে অন্য আর্থিক মামলায় রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহৃত হবে একজনের ভুলের কারণে ১১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয় এ দায় কার উপরে বর্তাবে। তিনি বর্তমান এমডিকে ভুলভাল বুঝিয়ে তার কাছের মানুষ হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অথচ প্রতিষ্ঠানের বড় অংকের টাকা আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছেন শুধু তার কারনে। এই জন্য তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাসহ অন্যত্র বদলি করা জরুরী। তিনি টাঙ্গাইল দেলদুয়ার কার্যালয়ে কর্মরত থাকাবস্থায় শাহিনা আক্তার নামে একটি মহিলা কর্মীর সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার বিষয়টি ধরা পড়লে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির মাধ্যমে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সমঝোতা করে নিজেকে রক্ষা করেন। ইহা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি নারী ঘটিত অভিযোগ আছে। তিনি পিডিবিএফ এর শাহেদুর রহমান খানের সকল অপকর্মের সাথে সরাসরি জড়িত থেকে তাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন যা প্রতিষ্ঠানের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।
(৬) আইসিটি প্রকল্পের সহকারী প্রোগ্রামার পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতি: পিডিবিএফ আইসিটি প্রকল্পে সহকারী
প্রোগ্রামার পদে ২০১৫ সালের ২৬/১০/২০২৫ইং তারিখে “দৈনিক ইত্তেফাক” পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী প্রার্থীকে কম্পিউটার সায়েন্সে কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। যে সকল ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পিডিবিএফ এর প্রকল্প পরিচালকদের নিকট আত্মীয় ও মন্ত্রণালয়ে কয়েক জনের সুপারিশের ভিত্তিতে বিজ্ঞপ্তির শর্ত না থাকা সত্বেও বা উক্ত পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তাঁদেরকে সহকারী প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। তাঁর মধ্যে অন্যতম (১)। ফজলে রাব্বী খাঁন, সে তৎসময়ে অডিট বিভাগের প্রধান দেলোয়ার হোসেনের মেয়ের জামাই। (২) রেজলিন রেজওয়ান, সাবেক এমডি মাহবুবুর রহমান এর আপন ভাগ্নে। (৩) সৈয়দ আনিসুর রহমান, নিয়োগ কালিন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপপ্রধান হুমায়ুন কবীরের ভাতিজা। (৪)আশরাফুজ্জামান,সাবেক ভারপ্রাপ্ত এমডি আমিনুল ইসলামের আপন ভাগিনা। এদের অনেকের কাঙ্খিত যোগ্যতা না থাকা স্বত্বেও নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন। নিয়োগপ্রাপ্তদের সার্টিফিকেট যাচাই করলে এর প্রকৃত সত্যতা জানা যাবে এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিভাগীয় মামলা দায়ের করে শাস্তির ব্যবস্থাগ্রহণ করা জরুরি।
উল্লেখিত বিষয়ে সাবেক পিএস মামুনের সাথে প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি জানান, উপস্থাপিত বিষয় বদলি/উচ্চতর পদে পদায়ন সংক্রান্ত ইস্যুতে আমার কোন প্রকার সংশ্লিষ্টতা নেই এবং সংশ্লিষ্ট থাকার বিষয়ও নেই। এ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশাসন বিভাগ হতে নথি উপস্থাপিত হয় এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয় কর্তৃক নথি অনুমোদন সাপেক্ষে আদেশ জারি করা হয়। কাজেই আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আনা সম্পূর্ণ মনগড়া, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সোলার প্রকল্পের পিডি থেকে ৩০ কোটি টাকার বাণিজ্য। এ ধরনের কোন প্রকল্পের সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই এমনকি আমি যে প্রজেক্টের পিডি ছিলাম তার বাজেট বরাদ্দ ৯৮ লক্ষ। কাজেই বিষয়টি মনগড়া এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ৬।অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং ভিত্তিহীন। আমার কোথাও অবৈধ কোন সম্পদ নেই যতটুকু আছে তা আমার পৈত্রিক এবং কষ্টার্জিত।
এদিকে যুগ্ম পরিচালক মোঃ শাহেদুর রহমান খানকে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এসব তথ্য মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি জানান, নিজের পদোন্নতি নিজেই কখনো নেয়া যায় না। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পদোন্নতি সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করেই পদোন্নতি প্রদান করা হয়। পদোন্নতি প্রচলিত বিধি পদ্ধতি অনুসারেই কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদান করা হয়। এছাড়া, আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে (ঝঁন ঔঁফরপব)-এর অতিরিক্ত মন্তব্য না করাই সমীচীন হবে বলে মনে করি।
কোন কর্মকর্তার নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে (২০০৫ সালে) আমার কোন প্রকারে সংশ্লিষ্টতা নেই। উক্ত সময়ে (২০ বছর আগে) আমি নিজেই মাঠ পর্যায়ে উপজেলা পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলাম মাত্র এবং উক্ত নিয়োগ কমিটির কোন সদস্যও ছিলাম না। এ বিষয়ে তৎকালীন নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন। সুতরাং আমার বিরুদ্ধে আনীত বিষয়টি ভিত্তিহীন, মিথ্যা, বানোয়াট এবং সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
নড়াইল সদর কার্যালয়ে ক্যাশ হোল্ডিংয়ের বিষয়ে যে আপত্তিটি উল্লেখ করা হয়েছে, সে সময়ে আমি উক্ত অঞ্চলে কর্মরত ছিলাম না এবং উক্ত বিষয়ে আমার কোন প্রকার সংশ্লিষ্টতাও নেই। সুতরাং অভিযোগটি ভিত্তিহীন এবং সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এছাড়া বদলী সংক্রান্ত বিষয়াদি প্রশাসন বিভাগের আওতাধীন। বর্ণিত ০২(দুই)জন কর্মকর্তার বদলীর সাথে আমার কোন প্রকার সংশ্লিষ্টতা নেই এবং উক্ত সময়েও আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিভাগে কর্মরত ছিলাম না। কাজেই এ ধরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ অমূলক। কোন প্রকার তথ্য প্রমাণক বিশ্লেষণ ছাড়াই এ ধরণের অভিযোগ আনয়ন আপত্তিকরও বটে।
তিনি বলেন, আমার কোন সম্পদ আমার নেই। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট ট্যাক্স রিটার্ন-এর মাধ্যমে আমার সম্পদ বিবরণী নিয়মিত দাখিল করে থাকি। ২০১৬ সালের পরে আমার কোন পদোন্নতি হয়নি এবং আমি প্রশাসন বিভাগের কোন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাও নই। সুতরাং উল্লেখ্য প্রতিবেদন স্থগিত রাখার বিষয়টিও ভিত্তিহীন। কোন প্রকার তথ্য প্রমাণক বিশ্লেষণ ছাড়াই আমার বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ আনয়ন মোটেই যুক্তিযুক্ত নয়।
তিনি প্রতিবেদককে জানান, আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব মুহিউদ্দিন আহমদ পান্নু আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। সুতরাং তাঁকে চাপ প্রয়োগের মত ভিত্তিহীন অভিযোগ চরম মিথ্যাচার ব্যতীত আর কিছু নয়। আমার বিরুদ্ধে দুদকে আমলযোগ্য কিংবা দুদকে নিষ্পত্তিযোগ্য কোন অভিযোগ নাই। সুতরাং বর্ণিত অভিযোগটি ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
সৌরশক্তি উন্নয়ন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কোন পদে কিংবা কোন প্রকার দায়িত্বে কখনই কর্মরত ছিলাম না। অভিযোগটি ভিত্তিহীন, মিথ্যা বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তিনি জানান, আনোয়ারুজ্জামান-এর নামে মানিস্যুট নাকি সিভিলস্যুট মামলা হবে, ইহা আমার এখতিয়ার বহির্ভূত। কেননা উক্ত সময়ে আমি প্রশাসন বিভাগে কর্মরতই ছিলাম না। যতদুর জানতে পেরেছি বিজ্ঞ আইন উপদেষ্টার পরামর্শ মোতাবেক তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মদন মোহন সাহা কর্তৃক উক্ত মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার সাথে আমার কোন প্রকার সংশ্লিষ্টতা নাই এবং সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নও অবান্তর।
পিডিবিএফের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে অধীনস্ত কর্মকর্তাদের এহেন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন উত্তর দেননি।





