অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চালু হচ্ছে না শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল

0
22

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সোমবার (০৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

বদলে যাচ্ছে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চেহারা। নান্দনিক রূপে তৈরি হওয়া বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে নিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায়। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ আশা করছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টর্মিনাল হবে বিশ্বের অন্যতম হাব। যেখানে পর্যায়ক্রমে অন্তত অর্ধশত দেশের বিমান ওঠানামা করবে, ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করবে। সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের আদলে তৈরি তৃতীয় টার্মিনালে মিলবে লন্ডনের হিথ্রো, তুরস্কের ইস্তাম্বুল, জার্মানির ফ্রাস্কফোর্ট কিংবা বিশ্বের অন্যান্য আধুনিক বিমানবন্দরের সব সুযোগ-সুবিধা। যাত্রী সেবা ও ব্যবস্থাপনায় থাকবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। কোনোরকম হয়রানি ছাড়াই স্বল্প সময়ে যাত্রীরা সর্বোচ্চ সেবা পাবেন তৃতীয় টার্মিনাল থেকে। আশা করা হচ্ছে, তৃতীয় টার্মিনালের কারণে বছরে দুই কোটি ২০ লাখ যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করবেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে প্রথম ও দ্বিতীয় টার্মিনালের চেয়ে বহুগুণ বেশি সুযোগ-সুবিধা থাকবে। স্থান সংকুলান থেকে শুরু করে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে নতুন টার্মিনালে। প্রথমত তৃতীয় টার্মিনালের আয়তন বর্তমান দুই টার্মিনালের মোট আয়তনের প্রায় আড়াইগুণ।

এটির আয়তন হচ্ছে দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গফুট। ৩৫০ একর জমির ওপর নির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল ভবন দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের আলোয় আলোকিত থাকবে। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে কম। বিশাল আয়তনের তৃতীয় টার্মিনাল ভবনের চারপাশ কাচ দিয়ে ঘেরা। দেয়ালে থাকছে বাংলাদেশের ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যময় ছয়টি রঙের ছটা। এখানে একসঙ্গে থাকবে ৪০টি কেবিন এক্সরে মেশিন, ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ, ১৬টি কনভেয়ার বেল্ট, ১১টি বডি স্ক্যানার ও টানেল। থাকবে ৫৪ হাজার বর্গমিটারের বহুতলবিশিষ্ট কার পার্কিং, নতুন ইমপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স ও ৬৩ হাজার বর্গমিটারের এক্সপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স। এছাড়া থাকবে রেসকিউ ও ফায়ার ফাইটিং স্টেশন এবং ৪ হাজার বর্গমিটার ইকুইপমেন্ট স্টেশন।দেশের অর্থনীতিতে আরেকটি গেম চেঞ্জার হতে যাচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। এই মেগা প্রকল্পের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে এভিয়েশন, পর্যটন, যোগাযোগ, আমদানি-রপ্তানি ও কৃষিতে। বিদেশি বিনিয়োগ, দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানেও পড়বে ইতিবাচক প্রভাব।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন, বৃহৎ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারসহ বিদেশি পর্যটক টানার মতো নানা দর্শনীয় স্থান দেশজুড়ে। কিন্তু যোগাযোগসহ নানা দুর্বলতায় বিদেশি পর্যটক তেমন আসেন না। কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন টার্মিনালে আধুনিক সেবা দূর করবে বিদেশিদের আক্ষেপ। ফলে লাভবান হবে অর্থনৈতিকভাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here