বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করল ইরান

0
46

ইরানের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক বিক্ষোভে মোট নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার। গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন মোট ৩ হাজার ১১৭ জন।

নিহত এই ৩ হাজার ১১৭ জনের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহীদ’ এবং ৬৯০ জনকে ‘সন্ত্রাসী-দাঙ্গাকারী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নিহত ‘শহীদ’-দের মধ্যে বেসামরিক আন্দোলনকারী এবং নিরাপত্তা-কর্মকর্তা ও কর্মী উভয়েই আছেন।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী আকবর পৌরজামশিদিয়ান রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “নিহতদের মধ্যে যারা বিক্ষোভে সন্ত্রাস ও দাঙ্গাবাজি করেছে, সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে— তাদেরকে ‘সন্ত্রাসী-দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে ক্যাটাগরিভুক্ত করা হয়েছে।”

“শহীদদের তালিকা সন্ত্রাসী-দাঙ্গাবাজদের তালিকা থেকে অনেক বড়। এই তালিকায় সাধারণ বেসমারিক বিক্ষোভকারী যেন আছেন, তেমনি নিরাপত্তা বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যাক কর্মকর্তা-কর্মীও রয়েছেন। নিহতদের এ দুই তালিকা প্রমাণ করে যে সরকার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত (বিক্ষোভকারীদের প্রতি) সহনশীলতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে।”

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি অবশ্য তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, ইরানে বিক্ষোভের শুরু থেকে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৪ হাজার ৫৬০ জন। গত বেশ কয়েক বচর ধরে ইরানে বিক্ষোভ এবং অস্থিরতা ইস্যুতে সঠিক তথ্য দেওয়া এই সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে— ইরানের অভ্যন্তরে নিজেদের কর্মীদের নেটওয়ার্কের বরাতে নিহতের এই সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে তারা।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। গত ১৮ জানুয়ারি ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার জন নিহত হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ইরান বিক্ষোভে নিহতদের এসব সংখ্যা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও অসহনীয় মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় ইরানে। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দেশটির ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে।

বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে ইন্টারনেট-মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে ইরান, সেই সঙ্গে দেশজুড়ে পুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করে সেনাবাহিনী।

ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়ে বর্তমানে বিক্ষোভ-উত্তেজনা অনেকটাই প্রশমন করতে সক্ষম হয়েছে ইরানের সরকার।

সূত্র : এপি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here