মহান মে দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আমি দেশের সকল মেহনতি মানুষ ও বীর পরিবহন শ্রমিক ভাই-বোনদের জানাই সংগ্রামী শুভেচ্ছা। ১৮৮৬ সালের শিকাগো শহরের শ্রমিকদের রক্তঝরা আত্মত্যাগের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। পরিবহন খাত দেশের অর্থনীতির সচল চাকা। অথচ আজকেও আমাদের পরিবহন শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেও অনেক শ্রমিক অনাহার ও অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
ব্যক্তিমালিকানাধীন পরিবহন শিল্পের নূন্যতম মজুরী কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকার ১৩টি গ্রেডে পরিবহন শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণ করেন। শ্রম আইন অনুযায়ী পরিবহন মালিক কর্তৃক শ্রমিকের নিয়োগপত্র প্রদান করার বিধান থাকলেও কোন মালিকই কোন শ্রমিককে নিয়োগপত্র প্রদান করে না। পরিবহন শ্রমিকরা ট্রিপ ভিত্তিক পারিশ্রমিক পায়। তাদের কোন মাসিক বেতন নেই। শ্রম আইন অনুযায়ী মালিকের কাছ থেকে পরিবহন শ্রমিকরা কোন প্রকার সুবিধা পান না। মজুরী কমিশনের প্রজ্ঞাপনে শ্রমিকের দুই ঈদে ও নববর্ষে উৎসব ভাতা পাওয়ার বিধান থাকলেও কোন মালিক শ্রমিকদের তা প্রদান করেন না। গাড়ীর রুট পারমিট ও রেজিষ্ট্রেশন করার সময় পরিবহন মালিককের ২ জন চালকের নিয়োগপত্র বিআরটিএ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে জমা দিতে হয়। কিন্তু মালিক কোন চালকের নিয়োগপত্র জমা দিয়েছেন তা মালিকই জানেন, চালক জানেন না। এমনকি বিআরটিএ এর পক্ষ থেকে ঐ নিয়োগপত্র যাচাই বাছাই করা হয় না।
আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে সরকারের প্রতি আমাদের আকুল আবেদন:
৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা: পরিবহন শ্রমিকদের জন্য দৈনিক ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। ৮ ঘন্টার অধিক কাজ করলে তার ওভারটাইম দিতে হবে। ন্যায্য মজুরি: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে সংগতি রেখে অবিলম্বে বাঁচার মতো মজুরি কাঠামো গঠন করতে হবে। চাকরির নিরাপত্তা: প্রত্যেক পরিবহন শ্রমিকের জন্য নিয়োগপত্র এবং উৎসব বোনাস বাধ্যতামূলক করতে হবে। পেশাগত নিরাপত্তা: সড়কে শ্রম আইন পরিপন্থি চাঁদাবাজি ও অহেতুক শ্রমিক হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
আসুন, সকল অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। মে দিবস অমর হোক!
লেখক: মোহাম্মদ হানিফ খোকন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অটোরিকশা অটোটেম্পু ট্যাক্সীকার-চালক শ্রমিক ফেডারেশন।





