মার্কিন ডিপ ষ্টেটের মুখোশ উন্মোচন!

0
5
পাকিস্তানে জনপ্রিয় ও দেশপ্রেমিক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করে মার্কিন ডিপ ষ্টেট। এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিলো ভিক্টোরিয়া নুলান্ড ও ডোনাল্ড লু’র উপর। ইমরানের “অপরাধ”, তিনি তাঁর দেশের স্বার্থবিরোধী মার্কিনী আব্দার প্রত্যাখ্যান করেন। ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকেই ডিপ ষ্টেটের ষড়যন্ত্র জোরালো হয়। মাত্র একমাসের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২২ সালের ২২ এপ্রিল ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান।
বাংলাদেশেও ঘটে একই ঘটনা। মার্কিনিরা চেয়েছিলো:
১. বাংলাদেশে সামরিক ঘাঁটি করতে দিতে হবে
২. পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার কিছু অংশ খ্রিষ্টান রাষ্ট্রের জন্যে ছেড়ে দিতে হবে
৩. বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ মার্কিনিদের হাতে তুলে দিতে হবে
৪. চট্টগ্রাম ও পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর আমেরিকার দায়িত্বে দিয়ে দিতে হবে
৫. চীন ও রাশিয়ার সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপকভাবে সংকুচিত করে ফেলতে হবে।
কিন্তু শেখ হাসিনা এসব গোলামীর শর্ত মানেননি। ফলশ্রুতিতে তাঁকে অপসারিত করা হয়। যদিও মোহাম্মদ ইউনুসের প্ল্যান ছিলো ৫ অগাষ্ট শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে হ/ত্যা করে গণভবনের গেইটে ঝুলিয়ে রাখার। এবিষয়ে মার্কিনিদের মৌন সম্মতি ছিলো। ঠিক যেভাবে মার্কিনিরা যুক্ত হয়েছিলো পঁচাত্তরের পনেরো অগাষ্ট হত্যাযজ্ঞে।
পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সস্ত্রীক জেল খাটছেন – মিথ্যা মামলায়। কারাগারেই তাঁকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে একাধিকবার। ইমরান খানের দলের নিবন্ধন বাতিল হয়ে গেছে – ওই দলের কেউই দলীয় প্রতীকে নির্বাচন লড়তে পারছেন না। তিনি যাতে আর ক্ষমতায় কিংবা রাজনীতিতে ফিরতে না পারেন এবিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও মার্কিন ডিপ ষ্টেট একসাথে কাজ করছে। শেখ হাসিনাও একই ষড়যন্ত্রের জালে আটকে আছেন। তাঁকে রাজনীতিতে ফিরতে দেবেনা মার্কিন ডিপ ষ্টেট এবং পাকিস্তানি আইএসআই। এটাই রূঢ় বাস্তবতা।
 
গতকাল ভারতীয় পত্রপত্রিকায় শেখ হাসিনার ইমেইলে দেয়া কথিত সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর আওয়ামীলীগের অনেকেই উচ্ছ্বসিত। বিদেশে পালিয়ে থাকা আওয়ামীলীগের নেতারা বাংলাদেশে ওই দলের কর্মী-সমর্থকদের উস্কানি দিচ্ছেন মাঠে নামতে – সক্রিয় হতে ইত্যাদি। অথচ ২০২৪ সালের অগাষ্ট মাস থেকে আজ অব্দি আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী কারাগারে দুর্বিষহ জীবন যাপন করলেও আওয়ামী লীগ ওদের কোনোই খোঁজ নিচ্ছে  না। এমনকি এদেরকে আইনি সহায়তাটুকুও দিচ্ছেনা। কারাবন্দি ওই নেতাকর্মীদের পরিবার-পরিজন নিজেদের সহায় সম্পত্তি, এমনকি ভিটামাটি বিক্রি করেও মামলা লড়ছেন। আওয়ামীলীগের অনেক কারাবন্দি নেতাকর্মীর পরিবারের নারী সদস্যরা যৌণ হয়রানির শিকার হচ্ছেন অহরহ।
এমন কঠিন বাস্তবতার মাঝে শেখ হাসিনার কথিত সাক্ষাৎকার পড়ে অনেকেই আশার আলো দেখছেন। বিদেশে পালিয়ে থাকা আওয়ামীলীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা বাংলাদেশে থাকা দলীয় সমর্থকদের ক্রমাগত উস্কাচ্ছেন – সক্রিয় হতে। এক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন – বিদেশে নিরাপদে থেকে উস্কানি না দিয়ে আপনারা কেনো দেশে ফিরছেন না। দেশে ফিরে জেলজুলুম মোকাবেলা করার সাহস কেনো নেই আপনাদের?
সবশেষে একটা কথা। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনার চারপাশে যেমন একদল লুটেরা-বাটপার ছিলো, ঠিক একইরকম দুষ্টচক্র এখনও ঘিরে রেখেছে তাঁকে। দিল্লিতে বসেই ওই বাটপারের দল শেখ হাসিনার নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্ম করছে। এরাই যে ওই লিখিত সাক্ষাৎকার শেখ হাসিনা সেজে দিচ্ছেনা এর কোনো গ্যারান্টি আছে?
ভারত সরকার এখনও শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেয়ার অনুমতি দেয়নি। এমনকি তাঁকে মিডিয়ার সাথে কথা বলারও সুযোগ দেয়নি। তিনি যতোদিন দিল্লিতে আছেন, এই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে।
শুনেছি ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় আওয়ামীলীগের সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এমনকি শীর্ষ সারির নেতারা শতশত কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। বিদেশে তাঁরা আছেন আরাম-আয়েশে। কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামীলীগ নেতাদের অনেককেই সন্ধ্যা হলে বিভিন্ন নাইট ক্লাবে দেখা যায়। ওরা জুয়া খেলে প্রতি রাতেই উড়াচ্ছেন লাখলাখ টাকা। নিষিদ্ধ ফুর্তির পেছনে দেদারসে টাকা ঢালছেন। অথচ বাংলাদেশে অবস্থানরত দলীয় লোকদের খোঁজ নেয়ারও প্রয়োজন বোধ করছেন না। ধরনের বাটপারগুলোরই একাংশ শেখ হাসিনাকে ঘিরে রেখে নানা ধরনের ভুল পরামর্শ দিচ্ছে ক্রমাগত। এরাই দলের জন্যে বড় বোঝা।
অনেকেই নিজের মনকে হয়তো প্রশ্ন করছেন, শেখ হাসিনা কি বাস্তবেই খুব তাড়াতাড়ি ফিরবেন? আমি বলবো – প্রশ্নই ওঠেনা। শেখ হাসিনা কেনো, আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর একজন নেতাও বাংলাদেশে এসে জেলে যাওয়ার ঝুঁকি নেবেননা। ওনারা বিদেশে বসেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাহাদুরি করছেন। এর বেশি কিছু করার মুরোদ এদের নেই।
আমি চাই, আমার এই ধারণা ভুল হোক। যদি আপনি ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে অন্তত ভিডিও সাক্ষাৎকার দেন, তাহলে বুঝবো, সত্যিই ওনার খুব তাড়াতাড়ি ফেরার সম্ভাবনা আছে।
লেখক: সালাহ উদ্দিন সোয়েব চৌধুরী, সাংবাদিক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here