নারী ফুটবলারের ভিডিও ধারণ, নিষিদ্ধ কোচ

0
3

গোপনে নারী ফুটবলারদের ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠেছিল চেক প্রজাতন্ত্র জাতীয় দলের কোচ পিটার ভ্লাচোভস্কির বিরুদ্ধে। যে কারণে তাকে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা। চেক গণমাধ্যম বলছে, ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

এর আগে এফসি স্লোভাচকো ক্লাবের নারী ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের দায়ে পিটারকে এক বছরের স্থগিত কারাদণ্ড এবং দেশীয় পর্যায়ে পাঁচ বছরের কোচিং নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। যেসব খেলোয়াড়ের ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী ছিলেন ১৭ বছর বয়সী এক ফুটবলার। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত কোচ অপরাধ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করেন বলে চেক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন করে তাকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে এক বিবৃতিতে উয়েফার কন্ট্রোল, এথিকস অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি বডি (সিইডিবি) জানিয়েছে, ‘সম্ভাব্য অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে একজন এথিকস ও ডিসিপ্লিনারি ইন্সপেক্টর নিয়োগের পর ভ্লাখোভস্কিকে আজীবনের জন্য ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিইডিবি ফিফার কাছে এই নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী কার্যকর করার অনুরোধ এবং চেক প্রজাতন্ত্রের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে পিটার ভ্লাখোভস্কির কোচিং লাইসেন্স বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে।’

চেক প্রজাতন্ত্র জাতীয় নারী দলের কোচ হওয়ার আগে ভ্লাখোভস্কি নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দলেরও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এফসি স্লোভাচকোর এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুতর এবং উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। ২০২৩ সালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং এটি আমাদের ক্লাবের ওপর, বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত খেলোয়াড়দের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগ সম্পর্কে জানার পরপরই ক্লাব দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, সাবেক ওই কোচের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করে। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে ক্লাব নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছে এবং বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, সংবেদনশীলতা ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সম্মান রেখে মোকাবিলা করেছে।’

এর আগে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চেক প্রজাতন্ত্র জাতীয় দলের এক নারী ফুটবলার ক্রিস্টিনা জাঙ্কুকে যখন পুলিশ স্টেশনে ডেকে নিয়ে নিজের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখানো হয় প্রথমে তার বিশ্বাস হচ্ছিল না। যা ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের ভেতর সাবেক কোচ পিটার ধারণ করেছেন। ব্যাকপ্যাকের পেছনে ক্ষুদ্র গোপন ক্যামেরা সেট করে ১৫ ফুটবলারের ভিডিও সংরক্ষণ করা হয়েছে, এর মধ্যে আছেন সর্বকনিষ্ঠ ১৭ বছর বয়সী একজনও। অথচ পিটার এর আগে একবার চেক প্রজাতন্ত্রের সেরা নারী কোচ হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here