জাপানে বার্ষিক জন্ম ও প্রজনন হার রেকর্ড পরিমাণে কমেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমসংখ্যক মানুষের বিয়ে এবং তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পরিবার শুরুর প্রবণতা কমে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে মাত্র ৬ লাখ ৭১ হাজারের কাছাকাছি শিশুর জন্ম হয়েছে। এ হার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার কমেছে। ১৮৯৯ সালে থেকে শুরু হওয়া পরিসংখ্যানের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন রেকর্ড।
জাপানে প্রজনন হার কমে রেকর্ড এক দশমিক ১৪তে নেমে এসেছে। একজন নারী তার জীবদ্দশায় গড়ে কতজন সন্তানের জন্ম দিতে পারেন তার উপর ভিত্তি করে এ তথ্য উঠে এসেছে। এই নিয়ে টানা দশম বছরের মতো জাপানে জন্মহার কমেছে।
জন্মহার কমতে থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এই হার আগের পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত ঘটেছে। ২০৪০-এর দশকের আগে প্রজনন হার এই পর্যায়ে নামবে না বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন সরকারি গবেষকরা।
দেশটিতে এই প্রবণতার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হলো বিয়ের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়া। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে জাপানে বছরে প্রায় ৮ লাখ বিয়ে হতো। কিন্তু বর্তমানে এ হার কমে প্রায় ৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। বিয়ের হার কমে যাওয়ায় সরাসরি জন্মহার হ্রাসে প্রভাব পড়েছে।
আনাদোলু বলছে, এমন পরিস্থিতিতেও আশার আলো দেখিয়েছে সমীক্ষা। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, জাপানের প্রায় ৮০ শতাংশ অবিবাহিত মানুষ এখনও বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।


