অক্ষয় খুব সহজ পথ দেখিয়েছিলেন : বিবেক

0
3

রামগোপাল বর্মার ‘কোম্পানি’ ছবি দিয়ে ২০০২ সালে বলিউডে রাজকীয় অভিষেক হয়েছিল বিবেক ওবেরয়ের। প্রথম ছবিতেই নজর কেড়েছিলেন খোদ সমালোচকদেরও। কিন্তু এর ঠিক পরের বছরই ২০০৩ সালে ওলটপালট হয়ে যায় বিবেকের জীবন। সুপারস্টার সালমান খানের সঙ্গে এক প্রকাশ্য বিবাদের জেরে রাতারাতি বলিপাড়ায় কোণঠাসা হয়ে পড়েন তিনি।

একের পর এক হাতছাড়া হতে থাকে কাজ, চারপাশ থেকে আসতে থাকে শুধুই প্রত্যাখ্যান। মানসিক ও পেশাদার জীবনের সেই চরম অন্ধকার সময়ে বিবেকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর বন্ধু ও সহ-অভিনেতা অক্ষয় কুমার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই দুঃসহ স্মৃতি হাতড়ে অক্ষয় কুমারের মহানুভবতার কথা প্রকাশ করেছেন বিবেক। অভিনেতা জানান, তখন কোনো কাজ না পেয়ে চরম হতাশায় দিন কাটছিল তার। ঠিক তেমনই এক দিনে আচমকাই তাঁর ফোনে ভেসে ওঠে অক্ষয়ের নাম।

বিবেকের কথায়, ‘অক্ষয় কুমার আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কোথায় আছি। আমি বলেছিলাম, ‘বাড়িতে আছি, খুবই ভেঙে পড়েছি।’ আধ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি আমার বাড়িতে চলে আসেন। বসে অনেকক্ষণ কথা বলেন। জানতে চান, আমি কী সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।’

বিবেককে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে অক্ষয় তখন এক বাস্তবসম্মত জীবনবোধের কথা শুনিয়েছিলেন। অক্ষয় নাকি সেই সময়ে বিবেককে বলেছিলেন, ‘এই পরিস্থিতি আমি বদলাতে পারব না। তবে তোমার মানসিকতা ইতিবাচক করার চেষ্টা করতে পারি।’

পুরোনো দিনের কথা স্মরণ করে বিবেক বলেন, ‘অক্ষয় বলেননি যে তিনি আমার হয়ে লড়াই করবেন বা কোনও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন। বরং তিনি খুব সহজ একটি পথ দেখিয়েছিলেন।’ তবে বলিউডের অলিখিত সেই ‘বয়কট’ সংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি বের হওয়া বিবেকের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। শত প্রতিকূলতার মাঝেও নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করেছিলেন ‘ওমকারা’ কিংবা ‘শুটআউট অ্যাট লোখন্ডওয়ালা’র মতো সফল ছবিতে।

সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বিবেক বলেন, ‘এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা খুব কঠিন। নিজেকে বোঝাতাম, শুধু একটা ভাল ছবির অপেক্ষা করতে হবে। আমি ‘ওমকারা’, ‘শুটআউট অ্যাট লোখন্ডওয়ালা’র মতো ছবিতে কাজ করেছি। প্রশংসা ও পুরস্কারও পেয়েছি। তবু অনেকে বলতেন, তোমার সঙ্গে কাজ করতে চাই, কিন্তু পারছি না। খুব চাপ রয়েছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here