ফ্রান্সের অতি-ডানপন্থি নেত্রী মারিন ল্য পেন ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে নির্বাচনি প্রচারণার পুরো সময়জুড়েই তার পায়ে ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল মনিটর বা নজরদারির ট্যাগ পরতে হতে পারে।
৫৭ বছর বয়সী ল্য পেনের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তহবিল অপব্যবহারের মামলায় আদালত দোষী সাব্যস্ত করেন। সেই মামলায় তাকে কারাদণ্ড, জরিমানা এবং ইলেকট্রনিক ট্যাগের মাধ্যমে নজরদারিতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছিল।
তবে আপিল আদালত সম্প্রতি ওই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়ায় ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ খুলে যায়। এরপরই টিএফ১ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ল্য পেন বলেন, ‘আমি আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছি।’
বর্তমান জনমত জরিপে তার দল ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) এগিয়ে রয়েছে। যদিও ল্য পেন এর আগে তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছেন।
তার প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন দলের সভাপতি জর্ডান বারদেলা। তিনি জানিয়েছেন, ল্য পেন নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছেন।
অন্যদিকে বিরোধীরা ল্য পেনের প্রার্থিতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। গ্রিনস পার্টির নেত্রী মারিন তনদেলিয়ে বলেন, জনগণের অর্থ আত্মসাতের দায়ে দোষী সাব্যস্ত একজন রাজনীতিকের নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত নয়।
আদালতের রায় অনুযায়ী, কারাগারে না গিয়ে সাজা ভোগের অংশ হিসেবে ল্য পেনকে ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল মনিটর পরতে হবে। এটি একটি জিপিএস-সংযুক্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যা তার অবস্থান পর্যবেক্ষণ করবে এবং আদালত নির্ধারিত শর্ত মেনে চলছেন কি না, তা নিশ্চিত করবে।
ল্য পেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভুয়া পার্লামেন্টারি সহকারী নিয়োগ দেখিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রায় ১৪ লাখ ইউরো তার দলের কর্মীদের বেতন পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালে আদালত তাকে এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেন।
সূত্র: ফ্রান্স টোয়েন্টি ফোর, ইনডিপেনডেন্ট।





