শিক্ষার্থীদের সমর্থনে তারকারা

0
2

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বলিউডের অনেক তারকা নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। রাজধানী দিল্লিতে চলমান ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর এই আন্দোলনে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন ভারতীয় তারকা প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন। সালমান খানের আগে ওমি বৈদ্য, জিনাত আমান, নাসিরুদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক শাহ, অভয় দেওল, সোনাক্ষী সিনহা ও রিতেশ দেশমুখের মতো ব্যক্তিত্বরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানান।

সালমান খান: ভারতে চলমান শিক্ষার্থীদের প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার বা ‘হাইজ্যাক’ না করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ইনস্টাগ্রামে নিজের স্কুলজীবনের একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করে ৬০ বছর বয়সী এই অভিনেতা লেখেন, প্রশ্নফাঁস একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এটি সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যকার একটি সমস্যা। তাই একে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া উচিত নয়। আন্দোলনের সব কৃতিত্ব শুধু দেশের শিক্ষার্থীদেরই পাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের ‘সাহসী’ আখ্যা দিয়ে সালমান খান আশা প্রকাশ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলবে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যেন একটি আকর্ষণীয় ধারায় পরিণত হয়, যাতে বিদেশ থেকেও শিক্ষার্থীরা ভারতে পড়াশোনা করতে আসে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন এই তারকা।

নেহা কক্কর: সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এই গায়িকা। সম্প্রতি ‘জাস্টিস ফর স্টুডেন্টস’ (শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়বিচার) লেখা একটি ছবি পোস্ট করে নেহা লিখেছেন, কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে আমি আছি। আমি তোমাদের সমর্থন করি এবং তোমাদের শক্তির জন্য প্রার্থনা করি। তোমাদের স্বপ্নগুলোর গুরুত্ব অনেক। শক্ত থেকো। নেহা কক্করের এই পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। লাখ লাখ অনুরাগী ও সাধারণ ব্যবহারকারী তার এই বার্তায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকে সংকট মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গায়িকাকে ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে প্রশংসার পাশাপাশি কমেন্ট বক্সে নেটিজেনদের একাংশের কটাক্ষের মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে। কেউ কেউ রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ এনেছেন, আবার কেউ কেউ ভার্চুয়াল বার্তা না দিয়ে সরাসরি রাজপথে নেমে আন্দোলনের পরামর্শ দিয়েছেন।

সুজিত সরকার: গুণী নির্মাতা সুজিত সরকার বলেছেন, ‘প্রতিবাদ করা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে তা নিয়মের ভেতরে থেকে করা উচিত। বিরোধিতা অবশ্যই করবে, কিন্তু সীমানা মেনে।’

রাজ কুমার রাও: পুলিশের হামলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে অভিনেতা রাজকুমার রাও এক লিখিত বার্তায় বলেন, ‘তরুণরা যখন নিজেদের অবহেলিত মনে করে, তখন সমাজ ও রাষ্ট্রের উচিত তাদের কথা শোনা। প্রতিটি কণ্ঠস্বরের সম্মান, ন্যায্যতা ও মর্যাদার সঙ্গে শোনার অধিকার রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে কথা বলা আমাদের আসল শক্তি। সহিংসতা কেবল কষ্ট বাড়ায়, যেকোনো সঠিক সমাধান থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দেয়।’ রাজকুমারের মতে, সংঘাত না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার সময় এখন। তার ভাষ্য, ‘আমরা সবাই দেশের উন্নতি চাই। উন্নতির মূল ভিত্তি হলো সবার জন্য সঠিক শিক্ষা।’

প্রীতি জিনতা : জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা উদ্বেগ প্রকাশের পর তোপের মুখে পড়েন। তবে সেটার বিপরীতে তিনি পুনরায় আরো স্পষ্ট প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রীতি তার পোস্টে লেখেন, ‘শিক্ষার্থীদের সমর্থন করা এবং শিক্ষার সংস্কার দাবি করা অত্যন্ত জরুরি, যা তরুণদের ভবিষ্যতের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন যেন কোনো দেশবিরোধী গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। অনলাইনে এত ঘৃণা ও বিভাজন দেখে আমার মনে প্রশ্ন জাগছে—দেশের ভেতরের ও বাইরের কিছু অপশক্তি কি আমাদের শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও হতাশাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে কাজ করা শুরু করেছে?’ এই পরিস্থিতির সুন্দর সমাধানের প্রত্যাশা করে প্রীতি লিখেছেন, ‘আমি সবসময় কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাস করি। পাশাপাশি আমাদের গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা এবং সরকারের ওপর আস্থা রাখি। তাই আন্তরিকভাবে আশা করি, উভয় পক্ষ অর্থপূর্ণ ও গঠনমূলক আলোচনায় বসবে। আন্দোলনের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অপশক্তিকে ছেঁটে ফেলতে হবে, যাতে আমাদের যুবসমাজ ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হয়।’

নাসির উদ্দিন শাহ: শিক্ষার্থীদের ওপ হামলা করায় পুলিশকে ‘গুন্ডা’ বলে সম্বোধন করেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তিনি লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মনটা দুঃখে বিষণ্ণ হয়ে আছে। আমি রাগে ফুঁসছি। দেখতে পাচ্ছি আমাদের বাচ্চাদের ওপর কীভাবে নির্যাতন করছে ওই গুন্ডারা, যাদের দেখে আমেরিকার আইস এজেন্টদের কথা মনে পড়ছে। মুখে মুখোশ পরে, হাতে ডান্ডা। বাচ্চাদের কথাটাও একটু ভাবুন। ভুলে যাবেন না এর পরিণাম আপনাদেরও ভুগতে হবে।’ আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেছেন, ‘বহু মানুষের সমবেদনা আপনার সঙ্গে রয়েছে। আপনারা লড়তে থাকুন। দেশের যুব সম্প্রদায়ের কাছে আমরা বরাবরই আশাবাদী। এখন সেই আশা আরও বেড়েছে। আপনারা আপনাদের লড়াই লড়তে থাকুন। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।’

আরমান মালিক: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে নিজের গান প্রকাশ স্থগিত করেছেন আরমান মালিক। আজ ২২ জুলাই তার ‘গয়া কাম সে’ গানটি মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু সিদ্ধান্ত বদলেছেন শিল্পী। এক ভিডিও বার্তায় আরমান বলেন, “২২ জুলাই গানটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, ওইদিন আমার জন্মদিনও বটে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার মন সায় দিচ্ছে না। তাই গানটি শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে আরেকটু সময় নিচ্ছি। কথা দিচ্ছি, পরিস্থিতি শান্ত হলে ঠিক সময়ে ‘গয়া কাম সে’ গানটি নিয়ে আসব।”

হানি সিং: জনপ্রিয় র‍্যাপার হানি সিং-ও তার গানের কাজ স্থগিত করেছেন। নতুন গানের টিজার প্রকাশের কথা থাকলেও সেটা আপাতত স্থগিত রেখেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্ট দিয়েও সংহতি জানিয়েছেন তিনি। এক বার্তায় হানি সিং লিখেছেন, ‘আমাদের দেশের তরুণরা অমর। ভোলেনাথ এ সময় তাদের শক্তি দিন।’

এছাড়াও বলিউডের শীর্ষ গায়ক অরিজিৎ সিংও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাঞ্জাবের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা দিলজিৎ সোসাঞ্জও। এর বাইরে নন্দিত অভিনেত্রী শাবানা আজমি, অভিনেতা প্রকাশ রাজের মতো শিল্পীরা সশরীরে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here