চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আইসিবি ইসলামীক ব্যাংক পিএলসির লোকসান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঋণের বিপরীতে উচ্চ হারে প্রভিশন সংরক্ষণ, দুর্বল আয় এবং সার্বিক আর্থিক চাপের প্রভাবে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) ও মোট নিট লোকসান-উভয়ই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশিত ব্যাংকটির চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ৭২ পয়সা। এ সময়ে ব্যাংকটির নিট লোকসানের পরিমাণ ৪৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৪২ পয়সা এবং নিট লোকসানের পরিমাণ ছিল ২৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির লোকসান বেড়েছে ১৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা প্রায় ৬৯ শতাংশ বেশি।
আর চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন ২০২৬) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩৫ পয়সা। এ সময়ে নিট লোকসানের পরিমাণ ২৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের একই প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ২৮ পয়সা এবং নিট লোকসান ছিল ১৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির লোকসান বেড়েছে ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা বা প্রায় ২৮ শতাংশ।
আর্থিক অবস্থার দিক থেকেও ব্যাংকটি চাপে রয়েছে। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট নিট সম্পদের (নেট অ্যাসেট) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। ফলে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) নেমে এসেছে ঋণাত্মক ২২ টাকা ৭২ পয়সায়। ঋণাত্মক নিট সম্পদ ব্যাংকটির মূলধন পরিস্থিতির দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে এবং এটি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়।




