সাংবাদিক সাজেদা হকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত

0
22

সাংবাদিক সাজেদা হকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলামের দায়ের করা মিথ্যা অভিযোগ বাতিল করে দিয়েছেন আদালত। গত ৯ আগস্ট ননজিআর মামলা নং ৩০৬৮/২০২৫, পল্টন মডেল থানার সাধারন ডায়েরী নং ২০৩১/২৫ এর পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে বাতিল করে দেন বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। মামলাটি নিষ্পত্তি করে নথি সংরক্ষনের আদেশ দেন তিনি।

এর আগে গত ২৪/১১/২৫ তারিখে পল্টন থানায় হাজির হয়ে বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম জানান, সাংবাদিক সাজেদা হক প্রিন্টিংয়ের কাজ নিয়ে তার ৪৬/১, সোবহান ম্যানশন, পুরানা পল্টন অফিসে যান। সে সুবাদে তিনি পরিচিত হন। এই পরিচয়ের সূত্র ধরেই সাংবাদিক সাজেদা হক একটি চুক্তি হয়েছে বলে দাবি করেন, এমন কোন চুক্তি সাজেদা হকের সাথে হয় নাই বলে জিডিতে উল্লেখ করেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বলে দাবি করা খন্দকার মিরাজুল ইসলাম। একই সাথে গত ১১/১১/২৫ তারিখে সাংবাদিক সাজেদা হক বেলা ১১:৫০ মিনিটের খন্দকার মিরাজুল ইসলামের অফিসে উপস্থিত হয়ে সে ও তার অফিস কর্মচারী কুসুম আক্তারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ খুব বাজেভাবে হেনস্থা করে এবং উচ্চস্বরে বলে যে, আমি গণমাধ্যমকর্মী, তোকে মামলা দিবো এবং জেলের ভাত খাওয়াবো।

পল্টন মডেল থানাকে এই জিডিতে আনীত অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। সেই নির্দেশ মোতাবেক তদন্তে নামে পল্টন থানা পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে পল্টন মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর মো: নূর ইসলাম। তিনি জানান, আদেশ নামা মোতাবেক তিনি প্রকাশ্য ও গোপন তদন্ত করেন। এসময় তিনি আবেদন কারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সাক্ষী ও প্রমাণসহ থানায় হাজির করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু খন্দকার মিরাজুল ইসলাম কোন সাক্ষী প্রমাণ হাজির করতে পারেন নাই। ঘটনাস্থল সরেজমিন উপস্থিত হয়ে আশে-পাশের সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করেন কিন্তু সাংবাদিক সাজেদা হকের উপস্থিতি পাওয়া যায় নাই মর্মে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। একই সাথে তিনি জানান, বিবাদী অর্থাৎ সাংবাদিক সাজেদা হকের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার সিডিআর সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করে দ্যাখেন যে, ঘটনার দিন সাংবাদিক সাজেদা হক নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় অবস্থান করছেন। অর্থাৎ ঘটনা স্থলে বিবাদীর উপস্থিতি নাই।  সাধারণ ডায়েরীর আদেবনকারীর অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া যায় নাই বলেও উল্লেখ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে সাধারণ ডায়েরীর অভিযোগ নিষ্পত্তি করে নথি সংরক্ষণের আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

সাংবাদিক সাজেদা হক জানান, জিডির (সাধারণ ডায়েরি) তদন্তে যদি বাদীর দাবি বা অভিযোগ অসত্য বা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা বিবাদী আইনগতভাবে মানহানি, মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধ এবং হয়রানির প্রতিকার পেতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন।দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলা বা অভিযোগের অভিযোগে আদালতে মামলা করার সুযোগ আছে। দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ দায়ের করার শাস্তি হলো দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড। আমি আইনি প্রতিকার চাইবো।

এর আগেও সাংবাদিক সাজেদা হকের দায়ের করা সাধারণ ডায়েরীর অভিযোগে দোষী সাবস্ত্য হন বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম। খন্দকার মিরাজুল ইসলাম ও তার অফিস সহকারী কুসুম আক্তার ৪৬/১ সোবহান ম্যানশন, পুরানা পল্টন অফিসে উভয়ে যৌথভাবে সাংবাদিক সাজেদা হককে হেনস্তা, লাঞ্ছিত ও অপমাণিত করে, হত্যার হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেন মর্মে প্রমাণ পান। ফলে উভয়ের বিরুদ্ধে পেনাল কোড আইনের ৫০৬ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিবাদীদ্বয় অর্থাৎ খন্দকার মিরাজুল ইসলাম ও অফিস সহকারী কুসুম আক্তারকে প্রকাশ্য আদালতে বিচারের প্রার্থনা জানান পল।টন মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here