সদ্যই পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরকারী কুয়েত এবার ভারতের সঙ্গেও একই খাতে সহযোগিতা চুক্তি করতে চায় কুয়েত। গতকাল শুক্রবার চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কুয়েতের সামরিক বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠকও হয়েছে।
বৈঠকে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব অমিতাভ প্রসাদ। তার সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষা বিভাগের ৩ বাহিনীর প্রধান, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং সমরাস্ত্র প্রস্তুতকারী কোম্পানি ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও), আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল সার্ভিস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা।
আর কুয়েতের প্রতিনিধি ছিলেন দেশটির সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রায়েদ আল সাক্রান। বৈঠক উপলক্ষে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে কুয়েতের সামরিক বাহিনীর যে ৫ সদ্যস্যের প্রতিনিধি দল এসেছে, সেই দলের নেতা ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রায়েদ।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দেশটির বার্তাসংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, “২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কুয়েত সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সফরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল দুই দেশের সরকারের মধ্যে। সেই সমঝোতা স্মারককেই বড় ও বিস্তৃত চুক্তিতে উন্নীত করতে চায় ভারত এবং কুয়েত।”
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, চুক্তির চূড়ান্ত বক্তব্য বা বিষয়বস্তু এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে শুক্রবারের বৈঠকে ভারত এবং কুয়েত উভয়েই প্রশিক্ষণ, মহড়া, সামরিক বাহিনীর জন্য নির্ধারিত ওষুধ ও প্রতিরক্ষা শিল্প এবং সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম গবেষণার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হতে পারে সহযোগিতা চুক্তিতে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের সঙ্গে ‘প্রটোকল এগ্রিমেন্ট-২০২৬’ নামে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি করেছে কুয়েত। চুক্তি স্বাক্ষরের পর কুয়েতের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এ চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতে দু’দেশের সহযোগিতার মাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করা।”
‘প্রটোকল এগ্রিমেন্ট – ২০২৬’ স্বাক্ষরের পরপরই পাকিস্তানের চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে বিস্তৃত চুক্তি স্বাক্ষরের আগ্রহ দেখাল কুয়েত।
সূত্র : পিটিআই, ফার্স্টপোস্ট।





