চুক্তি স্বাক্ষর : যুক্তরাষ্ট্রের জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে টাটা

0
3

ভারতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান টাটা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে। আজ সোমবার টাটা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেডের (টিএএসএল) সঙ্গে এ বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যিক জোট জ্যাভেলিন জয়েন্ট ভেঞ্চারের (জেজেভি)। জেজেভি হলো সমরাস্ত্র উৎপাদনকারী দুই বিখ্যাত মার্কিন কোম্পানি লকহিড মার্টিন এবং রাইথিয়নের একটি অংশীদারী জোট। টাটা গ্রুপের সঙ্গে চুক্তির ফলে এখন থেকে ভারতে তৈরি হবে জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র।

কয়েক দিন আগে ভারতীয় প্রতিরক্ষাবাহিনী জ্যাভেলিন ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয় করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গ একটি লেটার অব অফার অ্যান্ড এক্সেপ্টেন্স বা এলওএ চুক্তি স্বাক্ষর করে। সেই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১০০টি জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি লাঞ্চার কিনতে চায়।

সেই চুক্তি স্বাক্ষরের পরেই জেজেভির সঙ্গে জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বিষয়ক চুক্তি করল টাটা। তবে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের চুক্তির সঙ্গে টাটা-জেজেভি চুক্তির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

জেজেভির সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক চুক্তি সম্পর্কে টাটা গ্রুপের কর্মকর্তরা বলেছেন, নতুন সমঝোতা স্মারকের অধীনে, টিএএসএল এবং জেজেভি ভারতে জ্যাভলিনের অল আপ রাউন্ড (এইউআর), এবং সরঞ্জাম তৈরি বিষয়ক একটি কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে। এইইউআর বলতে সম্পূর্ণ সংযোজিত ক্ষেপণাস্ত্রটিকে বোঝায়।

সংস্থাগুলো ভারতে যন্ত্রাংশ তৈরির সুযোগও অন্বেষণ করবে। বেশ কয়েকটি ভারতীয় কোম্পানির সক্ষমতা ও দক্ষতা পর্যালোচনা ও লকহিড মার্টিন এবং রাইথিয়ন জেজেভি-র প্রধান অংশীদার হিসেবে টিএএসএলকে বেছে নেয়।

জ্যাভলিন হলো কাঁধে বহনযোগ্য একপ্রকার ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া যান এবং সুরক্ষিত ঘাঁটি ধ্বংসের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয়। এটির উচ্চমাত্রার নিখুঁত সক্ষমতার জন্য এটির ক্ষেত্রে ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ নীতি অনুসরণ করা হয়। সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে নিক্ষেপের পর সেগুলো যেন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে— তা নিশ্চিতের জন্য নিক্ষেপের পরও সেগুলোকে গাইডিং বা নির্দেশনা দিতে হয়। জ্যাভলিনের ক্ষেত্রে এই নির্দেশনার প্রয়োজন পড়ে না। মার্কিন বাহিনীর অস্ত্রাগারে একটি অপরিহার্য যুদ্ধাস্ত্র হলো জ্যাভলিন। যুক্তরাষ্ট্রও ছাড়াও বিশ্বের অনেক দেশ এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনীয় বাহিনী ব্যাপকমাত্রায় এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আসছে।

সূত্র : ফার্স্টপোস্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here