মাদারীপুরে মহাসড়কের ২৫ কিলোমিটার বেহাল দশা

0
151
মাদারীপুর প্রতিনিধি : ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশের ২৫ কিলোমিটার খানাখন্দে পরিপূর্ণ। সড়কের অনেক স্থানে দেবে গেছে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যানবাহনের যাত্রী ও চালক চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
ঈদকে সামনে রেখে সড়কে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত কাজ চালাচ্ছে মাদারীপুর সড়ক বিভাগ। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে ভুরঘাটা পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার অংশ মাদারীপুর সড়ক বিভাগের অধীনে। এই অংশের ভাঙ্গা থেকে মাদারীপুরে সদর উপজেলার সোমাদ্দার পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়কের বর্তমানে বেহাল দশা।
মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের সূত্র জানা গেছে, চলতি বছর মার্চ মাস থেকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মস্তফাপুর থেকে টেকেটহাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ চলমান। যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। বর্তমানে এই কাজের ৪০ ভাগ শেষ হয়েছে।
কিন্তু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বড়ৈতলার ১০ কিলোমিটার এর মধ্যে ৫ কিলোমিটার অংশ খানাখন্দ থাকায় এ অংশটি সিলকোট করে ঢেকে দেয়া হয়েছে। তবে ভাঙ্গা থেকে বড়ৈতলার বাকি ৫ কিলোমিটার সড়ক এখনো বেহাল। এই অংশে পিচ উঠে ছোট-বড় গর্ত ও বিভিন্ন অংশে দেবে গেছে। টেকেরহাট বাসস্টান্ড থেকে রাজৈর বাসস্টান্ড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে গেছে।
সড়কের টেকেরহাট বাসস্টান্ড, সাধুর ব্রিজ, ঘটকচর, মস্তফাপুর, রাজৈর অংশে রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় বড় গর্ত। এছাড়াও অধিকাংশ ব্রিজের এ্যাপ্রোচ সড়কে গর্ত হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সদর উপজেলার ঘটকচর সেতু, রাজৈর বাসস্টান্ড এলাকার সেতু, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বড়ইতলা এলাকার সেতুসহ বেশ কয়েকটি সেতুর গোড়ায় পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বর্তমানে সমাদ্দার অংশের পর থেকে সংস্কার কাজ চালছে ।
সোনালী পরিবহনের চালক ইলিয়াস আহম্মেদ বলেন, ‘প্রতিদিন এই সড়কটি দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করি। কিন্তু সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গাচুরা। প্রায় অংশই খানাখন্দে ভরা। সড়কটি অস্থায়ীভাবে ইট, পাথর দিয়ে মেরামত করলেও বেশিদিন টিকছে না। ঈদে এ সড়ক পথে ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতে হবে।’
দৈনিক এ পথে চলাচলকারী যাত্রী রিপনচন্দ্র মল্লিক বলেন, ‘সড়কটি এমনিতেই ছোট। এর মধ্যে আবার খানাখন্দে ভরা। এর কারণেই আমাদের দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। সড়কটি ঈদের আগে সংস্কার না হলে ঈদে যাত্রীদের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাবে কয়েকগুণ।’
মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরগামী শুভযাত্রা পরিবহনের চালক কবির মোল্লা বলেন, ‘প্রতিদিন এই রুটে চলাচল করি। রাস্তায় গর্ত আর ভাঙ্গা থাকায় গাড়ি সঠিক নিয়ন্ত্রনে চালানো কষ্টকর। এতে নির্ধারিত স্থানে সময় মত পৌছানো সম্ভব হয়না। এক ঘন্টার রাস্তা শেষ করতে সময় লাগে দেড় ঘন্টা।’
মাদারীপুর স্বচ্ছতার জন্য নাগরিক (স্বজন) কমিটির সদস্য কুমার লাভলু বলেন, ‘ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহন চলাচলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন বিকল হয়ে গেলে যানজট সৃষ্টি হয়ে যাত্রী ও চালকরা দুর্ভোগে পড়ে। আমরা দেখছি সড়ক বিভাগ এই সড়কের কাজ তেমন করছে না। নামে মাত্র সংস্কার করছে।’
মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুন নবী তরফদার বলেন, ‘আমরা ঈদের আগে এই সড়কের কাজ প্রায়ই শেষ করে ফেলবো। তবে বৃষ্টি হলে আমাদেরই বা কি করার। তাই এখন পুরোদমে কাজ চলছে। সড়কের কোথাও এখন গর্ত নেই। ইটের খোয়া আর পাথর দিয়ে গর্ত ভরাট করা হয়েছে। এখন সড়কে ওভার লেনের কাজ চলছে। আশা করছি ঈদের আগে কাজ শেষ হয়ে যাবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here