শুভ জন্মদিন নূরজাহান বেগম

0
227

দেশইনফো ডেস্ক:  ‘বেগম’ পত্রিকা সম্পাদক নূরজাহান বেগমের জন্মদিন আজ।

নূরজাহান বেগম একটি কিংবদন্তির নাম, একজন নিরহংকারী, সৎ, সাহসী, উদার, নিবেদিত প্রাণ সাহিত্যসেবী, সম্পাদক ও একজন ভাল মানুষের পরিচয়।

নূরজাহান বেগমের জন্ম ১৯২৫ সালে। তাঁর পিতা সাংবাদিকতার দিকপাল ‘সাওগাত’সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।১৯৪৭ সালে তিনি বেগম পত্রিকা প্রকাশ করেন। মাত্র ২২বছরেই নূরজাহান বেগম উত্তারাধিকার সূত্রে এই পত্রিকার সাথে যুক্ত হন। সেই থেকে মৃত্যুব্দী তিনি পরম যত্ন করে সন্তান আদরে এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যের সেবা করে গেছেন, তাঁর হাতে জন্ম নিয়েছেন কত শত লেখিকা।

উনিশ শতক থেকে একবিংশ শতাব্দী তিনি বেগম পত্রিকার টেবিলে বসে নিপুণ কারিগরের মত অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে লেখা সম্পাদনা, প্রেস পরিচালনা, লেখিকাদের সাথে সম্পর্ক স্হাপন,পত্রিকা বাজারজাত করা, কর্মচারীদের সাথে সাবলিল যোগাযোগ সব এক হাতে নিবিষ্ট মনে করতেন। নূরজাহান বেগমের স্বামী রোকনুজ্জামান দাদাভাই তাঁকে সৎপরামর্শ, উৎসাহ, সহযোগিতা দিয়ে তাঁর পাশে থেকেছেন মৃত্যুব্দী।

যে সময়ে নারী পত্রিকা কল্পনায় ছিল না, সেদিনেও বেগম পত্রিকা প্রতিটি নারীর কাংখিত পাঠকের তালিকায় ছিল। অতি সাধারন লেখাকেও তিনি কখনও অবহেলা করতেন না—–এমন সম্পাদক আজ আর তেমন নেই।

নুরজাহান বেগম ছিলেন প্রচার বিমুখ, নিজের কাজেই মগ্ন, আত্মনিবেদিত প্রাণ।

নূরজাহান বেগমের বাবা,মা,স্বামী একে একে সবাই ছেড়ে যান পৃথিবী থেকে, নূরজাহান বেগম ভেঙ্গে পড়েন নি, মুছড়ে যান নি। অযুত সাহসের সাথে তাঁর কর্তব্য তিনি ঠিকই পালন করেছেন।নিয়মিত অফিস করেছেন, নিয়মমত পত্রিকা প্রকাশ করেছেন, স্টাফদের বেতন দিয়েছেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে দিয়েছে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা।

তিনি লেখিকা সংঘ সম্মাননা, নারিন্দা ক্লাব থেকে সাহিত্য পদক সহ নানান পুরস্কার পেয়েছেন,তবে জাতীয় পুরস্কার হিসেবে ২০১১সালে সাংবাদিকতায় একুশে পদক পেয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে সম্মাননা স্মারক তাঁর হাতে তুলে দেন।
২০১৪ সালে তাঁর বাসভবনে তাঁর শেষ জন্মদিন পালিত হয়েছিল।

নূরজাহান বেগমের মত অতুলনীয় নারী সম্পাদকের জন্মদিন সরকারের পক্ষে বা বাংলা একাডেমি থেকে কখনোই পালিত হয়নি — এ নিয়ে তাঁর পরিবারের দুঃখ রয়েই গেছে।

২০১৫ তে নূরজাহান বেগম মৃত্যু বরন করেন।মৃত্যুর সময় তাঁর দুই কন্যা রেখে যান। দুঃখের সংবাদ এই যে,নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর একবছরের মধ্যেই তাঁর ছোট মেয়ে মিতি মারা যান।তাঁর বড় মেয়ে ফ্লোরা নাসরিন খান বর্তমানে বেগম পত্রিকার দায়িত্ব পালন করছেন।

নূরজাহান বেগম নেই, কিন্তু তিনি বেঁচে আছেন- থাকবেন তাঁর সহস্র লেখিকার হৃদয়ে যাঁদের তিনি যত্ন করে সৃজন করে গেছেন।

শুভ জন্মদিন নূরজাহান বেগম। আপনার প্রতি অতল শ্রদ্ধা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here