পাকিস্তান কে ২৪০ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ

0
298

এশিয়া কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফিরেই দলের ত্রাতা জুনায়েদ খান। তার গতিতেই বিধ্বস্ত বাংলাদেশ দল। সৌম্য সরকার, লিটন দাস, মিরাজ এবং মাহমুদউল্লাহর উইকেট তুলে নেন পাকিস্তানের এই পেসার। জুনায়েদ খানের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন রিয়াদ। তার আগে ৩১ বলে ২৫ রান করেন মাহমুদউল্লাহ।

মুশফিকুর রহিম এবং মোহাম্মদ মিঠুনের বাড়তি দায়িত্বশীলতায় ২৩৯ রান তুলতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। ১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয়ে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশ দলেকে খেলায় ফেরান মুশফিক-মিঠুন। তাদের কল্যাণে আড়াইশোর কাছা কাছি রান করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৯৯ রান করেন মুশফিক। ৬০ রান করেন মিঠুন।

জুনায়েদ খানের চতুর্থ শিকার মাহমুদউল্লাহ

১ রানের আক্ষেপ মুশফিকের

এশিয়া কাপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন মুশফিকুর রহিম। উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে নিজের ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের ইনিংস খেলেন মুশফিক।

বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষেআবুধাবিতে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও অসাধারণ খেলেছিলেন মুশকিক। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার, ভালো খেলেও১ রানের জন্য সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন এউইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সপ্তমসেঞ্চুরির ঠিক কাছেগিয়েও ব্যর্থ হন মুশফিকুর রহিম। একদিনের ক্রিকেটে ১৯১তম ম্যাচ খেলেন এ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে ১১৬ বলে৯টি চারের সাহায্যে ৯৯ রান সংগ্রহ করেন মুশফিক।

এর আগে ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়ে ৯৮ রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। সেবার মাত্র ২ রানের জন্য সেঞ্চুরি দেখা পাননি। এরপর ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুরে৯০ রানে আউট হয়েছিলেন মুশফিক।

ওয়ানেডতে ১৯১ম্যাচে ৬টি সেঞ্চুরি এবং ৩০টি ফিফটিতে ৫ হাজার ১২৫রান করেছেন দেশের অন্যতম সেরা এ ব্যাটসম্যান।

ওয়ানডে ক্রিকেটে দেশের হয়ে রান সংগ্রহের দিক থেকে মুশফিক তৃতীয়।

১৮৩ ম্যাচে ১১টি সেঞ্চুরি এবং ৪২টি ফিফটির সাহায্যে ৬ হাজার ৩০৭ রান নিয়ে সবার ওপরে আছেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল।

আর ১৯২ ম্যাচে ৭টি সেঞ্চুরি এবং ৩৯টি ফিফটিতে ৫ হাজার ৪৮২ রান নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আঙুলে চিড় ধরায় খেলতে পারেননি। অন্যদিকে হাতে চোট পেয়ে দেশে ফিরে এসেছেন তামিম ইকবাল।

পাকিস্তানের বিপক্ষে অঘোষিত সেমিফাইনাল ম্যাচে মাত্র ১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে যায় বাংলাদেশ দল। সেই অবস্থা থেকে দলকে উদ্ধার করেন মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন।চতুর্থ উইকেটে মুশফিক-মিঠুনরা ১৪৪রানের জুটি গড়েন।

এর আগে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে হাল ধরেছিলেন তারা। সেদিন ষষ্ঠ উইকেটে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১২৮ রানের পার্টনারশিপ গড়েছিলেন তারা

এদিকে আঙুলের চোট বেড়ে যাওয়ায় দেশেই ফিরে আসছেন সাকিব।

আঙুলের চোট বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ নেই সাকিব আল হাসান। দেশেই ফিরে আসছেন তিনি।একরকম জোর করেই তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছিল এশিয়া কাপে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ শেষে দেশে ফিরেই সাকিব হাতের আঙুলের অবস্থা ভালো নয় জানিয়ে যত তাড়াতাড়ি অস্ত্রোপচার করিয়ে ফেলার ইচ্ছার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বোর্ড সভাপতি অস্ত্রোপচারটা জিম্বাবুয়ে সিরিজের সময় করিয়ে এশিয়া কাপটা খেলার পক্ষে তাঁর মত দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভারটা সাকিবের ওপরই ছেড়ে দেন।

বোর্ডের ইচ্ছার কথা বুঝেই ব্যথা উপেক্ষা করে খেলতে রাজি হন সাকিব। খেলেনও এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রথম চারটি ম্যাচেই। গত রোববার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর আঙুলের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। তারপরও টিম ম্যানেজমেন্টের মতো সাকিবও আশা করেছিলেন, হয়তো ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে খেলতে পারবেন। কিন্তু লাল হয়ে ফুলে থাকা আঙুল দেখে পরশু রাতেই সবাই আশা ছেড়ে দেন। যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসার সিদ্ধান্তও হয়ে যায়। প্রথমে ঠিক হয়েছিল, সাকিবের সঙ্গে থাকা পরিবার এখান থেকে ঢাকা ফিরে যাবে। সাকিব নিজে চলে যাবেন যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান টিকিট না পাওয়ায় সাকিব সিদ্ধান্ত নেন, ঢাকা গিয়ে সেখান থেকেই যেখানে যাওয়ার যাবেন। প্লেন থেকে খুদে বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, তাঁর নিজের প্রথম পছন্দ যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে যে বিশেষজ্ঞকে দেখাতে চান, তাঁকে এর আগেও দেখিয়েছেন।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিই আর খেলা হলো না সাকিব আল হাসানের। খেলা হবে না বাংলাদেশ এই এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠলেও। সংযুক্ত আরব আমিরাতেই তো আর থাকছেন না তিনি। আঙুলের পুরোনো চোটটা এমনই বেড়েছে যে, আজই ফিরে যাচ্ছেন দেশে। সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য যাবেন যুক্তরাষ্ট্র বা অস্ট্রেলিয়ায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here