বলিউডে প্রতিষ্ঠিত হতে বেশ পরিশ্রম করতে হয়েছে সানি লিওনকে। এ জন্য শুনতে হয়েছে নানা কথা। পর্ন জগতের অভিনেত্রী হিসেবে পথ চলা শুরু করলেও ছেড়ে দিয়েছেন সেই পেশা। তারপরেও তার অতীত পিছু ছাড়ছে না।ভারতের এক তরুণী বলছিলেন, উনি একজন অভিনেত্রী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি যা খুশি করতে পারেন। কিন্তু পাবলিক লাইফে সেটা হয় না। সানি যা করেছেন, একজন মেয়ে হিসেবে আমি সেটা করলে কেউ মানবে না।ফলে ভারতে বারবার তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামছে বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক দলগুলো। ব্যাঙ্গালোর শহরে নাচের একটি ‘লাইভ পারফরম্যান্স’ করবেন সানি লিওন। এটি সামনের মাসে হওয়ার কথা। কিন্তু তাতে ভারতীয় সংস্কৃতি রসাতলে যাবে- এই যুক্তি দেখিয়ে প্রতিবাদ করছে স্থানীয় কন্নড় গোষ্ঠীগুলি। এর আগে গত বছরেও ব্যাঙ্গালোরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর বাধার মুখে কর্নাটক সরকার সানির অনুষ্ঠান বাতিল করে। ২০১৮- এর শুরুতেও সানি লিওনের একটি অনুষ্ঠান ভেস্তে যায়।
তবে এসব নিয়ে সানি লিওন ভাবিত নন বলে দাবি করছেন। তিনি বলেন, এটা দুনিয়ার সেই হাতে গোনা দেশগুলোর একটা, যেখানে আপনি যদি একটা স্বপ্ন নিয়ে আসেন তাহলে সেই স্বপ্নকে সত্যি করা সম্ভব। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেনস স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক শমিতা সেন মনে বলেন, সানি লিওনকে পারফর্ম করতে দেব না কারণ তিনি পর্নস্টার ছিলেন, এই যুক্তিটাও ভীষণ হাস্যকর। কারণ ভারতে পর্ন তো কম জনপ্রিয় নয়! আর ভারতে চারিত্রিক নৈতিকতার সংজ্ঞাই বা কী, যেখানে বিশ্বের সেক্স ইন্ডাস্ট্রির প্রধান উৎস কামসূত্রের জন্মই এদেশে!
তবে কর্নাটক রক্ষণ ভেদিকের নেতা হরিশ বলেন, সানি যেদিন ভদ্রভাবে শাড়ি পরে পারফর্ম করবেন, তখন হয়তো আমরা সেটা মেনে নেওয়ার কথা ভাবতে পারি। শুধু তাই নয়, এই অভিনেত্রীর বায়োপিক ‘করনজিৎ কাউর : দ্য আনটোল্ড স্টোরি অব সানি লিওন’ নিয়েও প্রতিবাদ উঠে। বায়োপিকে ‘কাউর’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে তীব্র আপত্তি জানায় নানা শিখ সংগঠন। তাদের যুক্তি, ‘কাউর’ শিখ সমাজের নারীদের জন্য সম্মানজনক একটি পদবী। যিনি নিজের ধর্ম ত্যাগ করেছেন তার আর নিজের নামে কাউর ব্যবহার করার অধিকার নেই।




