বিড়াল টাকে বাসর রাতেই মারতে হবে, বাসর রাতে ‘বিড়াল মারা’ বলতে যা বুঝায়!

0
799
বিয়ে করতে গেলেই ঠাট্টার সম্পর্কীয় আত্মীয় কিংবা বন্ধুরা আপনাকে পরামর্শ দেবে বাসর রাতে বিড়াল মারার জন্য। কারণ আপনি জানেন যে, এটি আসেলে সত্যিকারের কোন বিড়ালকে মারা নয়, হতে পারে তা মিলন সংক্রান্ত কোন ব্যাপার, ইতি-উতি!

আপনি তখন মুচকি হাসবেন; মনে মনে এও ভাববেন যে- কাজটি কি করে করা যায়।

তবে এটা ঠিক যে, এই বিড়াল মারা ব্যাপারটির মধ্য দিয়েই সংসারে আধিপত্য বিস্তারের একটা প্রচেষ্টা চালানো যায়।
মজার ব্যাপার হলো- যে আপনাকে বিড়ার মারার কথা বলল তার কাছে জিজ্ঞেস করেও কোন সদুত্তর পাবেন না। কারণ এ বিষয়ে তার জ্ঞানও আপনারই মতো।

এবার শুনুন তবে আসল কথা। বাসর রাতে বিড়াল মারার আগে জেনে নিন গল্পটি-
তা হলো, একটি গল্পকে কেন্দ্র করে বাসর রাতে বিড়াল মারার প্রথাটি আমাদের সমাজে প্রচলিত।

একদা বাগদাদের বাদশাহ’র ছিল দুইজন কন্যা। সবসময় দুই রাজ কন্যার সেবায় দশ পনেরো জন দাসী প্রস্তুত থাকতোই। কখন কোন রাজকন্যার কি দরকার হবে আর তারা হুকুম পালন করবে।তার ছিলনা কোন রাজপুত্র। তাই রাজকন্যারা ছিল বাদশার অনেক আদরের।

দুই রাজকন্যারই একটা করে বিড়াল ছিলো!

বিড়াল দুটো ছিলো তাদের সবসমযয়ের সঙ্গী। খেতে বসলে এমনকি ঘুমাতে গেলেও বিড়াল দুটো তাদের সঙ্গে থাকত। দেখতে দেখতে দুই রাজকন্যাই একসময় বড় হয়ে গেলো; হলো বিবাহ উপযোগী। এ অবস্থায় বাদশাহর চিন্তা বাড়তে লাগল, কারন এই দুই রাজকন্যার জামাইদের উপরেই তার এই বিশাল রাজ্যের দায়িত্ব দিয়ে যেতে হবে। সুতারাং এমন যোগ্য দুজন ছেলে খুঁজে বের করতে হবে। যারা এই গুরু দায়িত্ব ভালো করে পালন করতে পারবে।

সারা রাজ্যে অনেক খোঁজাখুঁজি করে এমন দুইভাই পাওয়া গেলো যাদের কাছে রাজকন্যাদের বিয়ে দেয়া যায় বলে বাদশাহ’র মনে হল। তারপর অনেক ধুমধাম করে বিয়ে হল দুই রাজকন্যার একসাথে। অতঃপর বাদশাহ দুই মেয়ের জামাইকে সমান ভাবে রাজ্যের দায়িত্ব ভাগ করে দিলেন।

বাসর রাতে ‘বিড়াল মারা’ বলতে যা বুঝায়!

বিয়ের পর দু’ভাই রাজ্য চালনা নিয়ে অনেক ব্যাস্ত হয়ে পরলো। দু’জনের অনেক দিন দেখা সাক্ষাত নেই। হঠাৎ করেই রাজ্যের একটা বড় অনুষ্ঠানে তাদের দেখা হয়ে গেলো। দুইজনই আবেগে আপ্লুত হলো একে অপরকে পেয়ে।

কথায় কথায় ছোট ভাই জিজ্ঞাসা করলো তাদের বৌ মানে রাজকন্যাদের কথা। তখন বড় ভাই বলল হুম, বড় রাজকন্যা তাকে অনেক সমীহ করে চলে। তার কোন কাজই করা লাগে না। ইত্যাদি ইত্যাদি। এইসব শুনে ছোটভাই বলল ছোট রাজকন্যা তার কোন যত্নই করে না। সবসময় রাগারাগি করে এমনকি মাঝে মাঝে গায়েও হাত তুলে।

ছোট ভাই অবশেষে বড় ভাইকে জিজ্ঞেস করল- কিভাবে রাজকন্যাকে বশ করলে?

বড় ভাই বলল, রাজকন্যার বিড়ালের কথা। ছোট ভাই বলল হ্যাঁ ওই বিড়ালকে তো আমার চাইতেও বেশি যত্নে রাখে। বড় ভাই বলল, হ্যাঁ, প্রথম দিন বাসর রাতে ঘরে ঢুকেই আমি একটা তরবারি দিয়ে ওই বিড়ালের ওপরে দিলাম এক কোপ। ব্যাস একবারে দুইভাগ!

এই ঘটনায় বড় রাজকন্যা ভাবলো আমি মনে হয় অনেক বড় কোন বীর, এরপর থেকেই সে আমাকে অনেক সমীহ করে চলে।

এমন কথা শুনে ছোটভাই মনে মনে ভাবলো, ঠিক আছে আজ বাড়ি ফিরেই বিড়ালটাকে শেষ করবো।

অনেকদিন পর আবার দুই ভাইয়ের দেখা। এবার ছোট ভাইএর শরীরে অনেক কাটা দাগ। বড়ভাই জিজ্ঞাসা করলো- কি খবর কোন যুদ্ধে আহত হয়েছিলে নাকি?

ছোটভাই বলল,না ভাই কিন্তু আমার বেলায় ঘটনা উল্টো হল। তোমার ঘটনা শুনে আমি ওইদিন বাসায় গিয়ে তরবারি নিয়ে এক কোপে বিড়ালটাকে দুইভাগ করে দিলাম।  আমাকে এর শাস্তি সরূপ একমাস কারাবন্দি আর অত্যাচার ভোগ করা লাগলো।

বড়ভাই তখন বলল,পরে মারলে কোন লাভ নাই।বিড়াল বাসর রাতেই মারতে হয়,

এগুলো শুধুই গল্প কথা।প্রকৃতপক্ষে বাসর রাতে বিড়াল মেরে কিছু হয়না।  তাই বলছিলাম কি, বিড়ালটাকে একটু বুঝে শুনেই মারুন!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here