দেশে গণতন্ত্রের-জমি এখন সম্পূর্ণভাবে বেদখল : রিজভী

0
143
দেশে গণতন্ত্রের-জমি এখন সম্পূর্ণভাবে বেদখল এমন মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখতে পুলিশ ও দলীয় ক্যাডারদের নগ্নভাবে ব্যবহার করছে আর্ন্তজাতিক খেতাবপ্রাপ্ত স্বৈরাচারী সরকার। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর থেকে অবৈধ সরকার জনআতঙ্কে ভূগছে। একমাত্র সরকার দলীয় কর্মকান্ড ছাড়া আর কাউকে সভা-সমাবেশ কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না সরকার।
বৃহস্পতিবার(৫ জুলাই)নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন,’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনকালে যেভাবে ছাত্রলীগ ও পুলিশের নির্যাতন ও নিপীড়ণের শিকার হচ্ছে, যেভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষক ও উদ্বিগ্ন অভিভাবকদেরকে পুলিশি তান্ডবের শিকার হতে হয়েছে, যেভাবে শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের হাতে ছাত্রীরা লাঞ্ছিত হয়েছে-ছাত্রলীগের এসব তান্ডব লগি-বৈঠারই পূনরাবৃত্তি বলে দেশবাসী মনে করে। প্রতিবাদী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। এবারে অবৈধ ক্ষমতার বিবর্তনে ছাত্রলীগ ভয়াল প্রেতাত্মা হয়ে ভীষণ মূর্তি ধারণ করেছে।
তিনি বলেন,’বিশ্ববিদ্যালয় নয়, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আগ্রাসী থাবায় সারাদেশই এখন বধ্যভূমি। গুম, খুন, অপহরণ, বিচার বহির্ভূত হত্যা, গ্রেফতার, নির্যাতন ও দলীয় সন্ত্রাসীদের তান্ডবই হলো এখন শেখ হাসিনার টিকে থাকার অবলম্বন।সকল শিক্ষাঙ্গনগুলোতে এখন ছাত্রলীগ ও পুলিশের তান্ডবে বিভিষিকাময় অবস্থা বিরাজ করছে। গত পরশু দিন পুলিশ প্রতিবাদকারিদের ঠেকাতে যেভাবে প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়েছিল তাতে মনে হয়েছে তারাই যেন মানববন্ধন করছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে গতকালও প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেছেন মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন,’প্রধানমন্ত্রী সেখানে  তাদেরকে কি সবক দিয়েছে তা আল্লাহ মাবুদই জানেন। ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে রক্তাক্ত করার বীরত্বে তাদেরকে একইভাবে আগামী নির্বাচনে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে মনে হয়। প্রধানমন্ত্রীর সাথে হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের উক্ত বৈঠক নতুন করে প্রতিবাদকারিদের রক্ত ঝরাতে তাদের আরও উৎসাহিত করবে। কি
সংবাদ রিজভী জানান,বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে বিএনপি’র উদ্যোগে আজকের প্রতিবাদ সমাবেশটি আগামী ৭ জুলাই  শনিবার বেলা ২টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। একই দাবিতে আগামী ৯ জুলাই সোমবার ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হবে। উক্ত প্রতীকি অনশন কর্মসূচিটি ঐদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ইতোমধ্যে ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স-রমনায় এবং ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে উক্ত প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালনের জন্য বিএনপি’র পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। ঢকায় উক্ত দুই স্থানের মধ্যে যেকোন একটিতে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া,যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী,যুবদল নেতা গিয়াস উদ্দীন মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here