ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনি

0
174

নূরুল আজম রনি: ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনি। ছাত্রলীগের শরীরে মিথ্যা কলঙ্ক, ৭৪ সালে বাসন্তীর শরীরে মাছ ধরার জাল একই সূতোয় গাঁথা।

বাসন্তীর ভাগ্যও পরিবর্তন হয়নি, খলনায়কদেরও মৃত্যু হয়েছে অস্বাভাবিক ও নৃশংসভাবে।

স্বাধীনতার পর ভয়াবহ বন্যা কবলিত বাংলাদেশে মারাত্বক দূর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিলো।কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলাট বাঁক প্রতিবন্ধী কিশোরী বাসন্তীকে তৎকালীন স্থানীয় রিলিফ চেয়ারম্যান আনছার ও ইত্তেফাক পত্রিকার তৎকালীন ঢাকার ফটোসাংবাদিক আফতাব আহমেদ রিলিফ ও ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে শরীরে মাছ ধরার জাল পেছিয়ে মুখে কাঁচা পাটের ডগা খেতে দিয়ে দুটি ছবি তুলেছিলো।সেই দুই ছবির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রতি বিদেশীদের অনাস্থা ও দেশবাসীর হতাশা তৈরি হয়েছিলো।অসামান্য জনপ্রিয় বঙ্গবন্ধুকে খাটো করতে শুটিং করে ছবি প্রদর্শন করার পর খালেদা জিয়ার হাত থেকে জাতীয় পুরস্কার জিতেছিলো ফটোসাংবাদিক আফতাব খান।

শেষ পরিনতি খুব জগন্য ছিলো তার।হাত-পা-মুখ বাঁধা অবস্থায় আফতাব আহমেদের মৃতদেহ তাঁর রামপুরার বাসভবনের ফ্লোরে পড়েছিলো কয়েক বছর আগে।আর ঐ রিলিফ চেয়ারম্যান আনছারও খুন হয়েছিলো নিজ বাড়ির সামনে।কিন্তু বাসন্তীর কথা জিয়া এরশাদ উৎফুল্ল খালেদা কারো মনে ছিলো না।শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করলে বাসন্তীর জন্য জমি ও বাড়ি নির্মান করে দেন।নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেলে ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এলে আবারো জমি ও বাড়ি নির্মান করে দিয়েছেন।

কয়েকবছর আগে সে বাড়িও নদীতে বিলিন হয়ে গেলে সরকারী প্রতিবন্ধী ভাঁতা নিয়ে নি:সন্তান বাসন্তী তার ভাইয়ের বাড়িতে বাস করছেন।ইতিহাস এভাবেই ক্ষমা করেনি দোষীদের।বাপ হারানো শেখের বেটির বিশাল মনের উচ্চতার কারনেই তিনি আজও বেঁচে আছেন দেশ সেবার জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here