সুযোগ পেয়ে বিপিএলে ভাল খেলে জাতীয় দলে ফিরতে চান মোহাম্মদ আশরাফুল

0
398

২০১৩ সালে বিপিএলের দ্বিতীয় আয়োজনে ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। প্রথম দুটি আসরে তিনি ছিলেন বিলুপ্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি ঢাকা গ্লাটিয়েটরসের খেলোয়াড়। কেবল আশরাফুলই নন, ম্যাচ গড়াপেটাসহ নানা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়েছিল সেই ফ্র্যাঞ্চাইজিও। আশরাফুলের নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার করায় তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। বহিষ্কার করা হয় ঢাকা গ্লাটিয়েটরসকেও। পাঁচ বছর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ করে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পুনরজ্জীবিত করারই স্বপ্ন দেখছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

ম্যাচ গড়াপেটার দায়ে মোহাম্মদ আশরাফুল নিষিদ্ধ হয়েছিলেন পাঁচ বছরর জন্য। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে তিনি এখন স্বপ্ন দেখেন জাতীয় ক্রিকেট দলে ফেরার। সেটি অনিশ্চিত হলেও আপাতত বিপিএলে সুযোগ মিলেছে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়কের।

মোহাম্মদ আশরাফুলকে জাতীয় দলে নেওয়া হবে কি হবে না, উচিত কি উচিত নয়, এ নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে চলছে বিতর্ক। সেই বিতর্কের মধ্যেই বিপিএলে দল পেয়ে গেলেন স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য পূর্ণ মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। বিপিএলের আজকের প্লেয়ার্স ড্রাফটে তাঁকে দলে টেনেছে চিটাগং ভাইকিংস। এবারের বিপিএলে মুশফিকুর রহিমের সতীর্থ তিনি।

উল্লেখ্য, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ মৌসুমে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের হয়ে খেলেছিলেন আশরাফুল। তবে কলাবাগানের অবনমনই হয়েছে। আশরাফুল পাঁচটি সেঞ্চুরি করলেও তাঁর স্ট্রাইকরেট নিয়ে আশান্বিত হওয়ার মতো কিছু ছিল না। এখন দেখা যাক বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে আশরাফুল নিজেকে পরিপূর্ণ রূপে মেলে ধরতে পারেন কি না!

গত ১৩ আগস্ট শেষ হয় আশরাফুলের পাঁচ বছর মেয়াদি নিষেধাজ্ঞা। এর আগে অবশ্য ২০১৬ সালে তিনি জাতীয় ক্রিকেট লিগে খেলার সুযোগ পান। খুব ভালো খেলতে পারেননি। গত দুটি বিপিএলে তিনি খেলোয়াড় ড্রাফটে ছিলেন না। এ বছর দেশের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সুযোগ পাওয়াটা আশরাফুলের জন্য বড় সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাওয়াই।

আরো পড়ুনঃ
সৌম্য এবার রাজশাহী কিংসের

বিপিএলের এবারের আসরে সৌম্য খেলবেন রাজশাহী কিংসের হয়ে।

ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সৌম্য সরকার এবার বিপিএলে খেলবেন রাজশাহী কিংসের হয়ে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ কদিন ধরেই রান পাচ্ছিলেন সৌম্য সরকার। জাতীয় লিগে দুটি সেঞ্চুরির পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও সেঞ্চুরি। এতটা ধারাবাহিক সৌম্যকে উপেক্ষা করতে পারেননি নির্বাচকেরাও। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে একপ্রকার ‘জরুরি তলব’ করেই চট্টগ্রামে উড়িয়ে এনে মাঠে নামানো হয় তাঁকে। আর সৌম্যও যেন মাঠে নামলেন, দেখলেন, খেললেন আর জয় করলেন! ৯২ বলে ১১৭ রানের রাজকীয় এক ইনিংসে নিজের ফেরাটা উদ্‌যাপন করলেন দারুণভাবেই। বাংলাদেশও পেল ৭ উইকেটের দাপুটে এক জয়।

২০১২ সালের প্রথম বিপিএলেও সৌম্য রাজশাহীর হয়ে খেলেছিলেন। তারকাখ্যাতি না থাকায় সে সময় অনেকেরই চোখে পড়েননি তিনি। বিপিএল থেকে বিলুপ্ত দুরন্ত রাজশাহী নামের সেই ফ্র্যাঞ্চাইজিটিতে খেলার পর বিপিএলে সৌম্য খেলেছেন আরেক বিলুপ্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি ঢাকা গ্লাডিয়েটরসের হয়ে। এরপর তিনি খেলেন রংপুর রাইডার্স ও চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে।

বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফট চলছে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেল। দারুণ ফর্মে থাকায় ড্রাফটে সৌম্য যে আগ্রহের কেন্দ্রে থাকবেন, সেটা জানা গিয়েছিলই। গত আসরে যদিও ‘আইকন’ ছিলেন কিন্তু পারফরম্যান্সটা ‘আইকনে’র মতো একেবারেই ছিল না। তবে এবার আইকন না হলেও রাজশাহী কিংস প্রথম সুযোগেই দলে নিয়ে নেয় তাঁকে। এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে সৌম্যর সতীর্থ হিসেবে দেশি তারকাদের মধ্যে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান, মুমিনুল হক ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here