আপনার ছেলে সন্তান হোক এমনটা চান নাকি? তাহলে এই নিয়ম গুলি লক্ষ করুন!

0
253

ছেলে হবে, না মেয়ে “- এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া কি আদৌ সম্ভব? যদি বলি অবশ্যই সম্ভব, তাহলে কী বলবেন! আসলে কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে প্রসবের আগেই জেনে নেওয়া যায় ছেলে হতে চলেছে না মেয়ে। তবে এই ধরনের পরীক্ষা করা একেবারেই বেআইনি। তাহলে উপায়! কোনও চিন্তা নেই, একবার এই প্রবন্ধটি পড়ে ফেলুন। তাহলেই দেখবেন সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন।

সাধারণত ছেলে সন্তান হওয়ার আগে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। যেমন ধরুন…

১. কোন দিকে ফিরে ঘুমাচ্ছেন খেয়াল করুন!

এই সময় মা এতটাই ক্লান্ত থাকেন যে শোয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘুম চলে আসে। তারপক্ষে এটা বোঝা সম্ভবই হয় না যে কোন দিকে ফিরে তিনি ঘুমাচ্ছেন। এক্ষেত্রে এই কাজটি করতে হবে স্বামীকে। যদি দেখেন আপনার স্ত্রী বাঁদিকে ফিরে ঘুমচ্ছে, তাহলে আশা রাখতে পারেন যে আপনাদের ছেলেই হবে।

২. মর্নিং সিকনেস:

একাধিক স্টাডিতে দেখা গেছে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ঘোরা, বমি-বমি ভাব এবং আরও সব সমস্যা দেখা দিলে মনে কোনও সন্দেহ রাখবেন না যে ছেলে সন্তান হতে চলেছে।

৩. পেটের অবয়ব:

আপনার পেট কি নিচের দিকে বেশি ঝুঁকে গেছে? এমনটা হলে ছেলে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

 

৪. হার্ট রেট ওঠা-নামা করবে:

গর্ভাবস্তায় চিকিৎসকেরা প্রায়শই বাচ্চার হার্ট রেট মেপে থাকেন। এই সময় যদি দেখা যায় বাচ্চার হার্ট রেট ১৪০ বিট/ প্রতি মিনিট রয়েছে, তাহলে মনে কোনও সন্দেহ রাখবেন না যে ছেলে বাচ্চাই জন্ম নিতে চলেছে।

৫.ইউরিন কালার:

একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে গর্ভাবস্তায় মায়ের প্রস্রাবের রং যদি গাড় হলদেটে হয়, তাহলে বুঝতে হবে ছেলে সন্তান হতে চলেছে। আর যদি দেখেন উজ্জ্বল হলুদ রঙের প্রস্রাব হচ্ছে, তাহলে এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ রাখবেন না যে আপনি মেয়ে সন্তানের মা হতে চলেছেন।

৬. হাতের তালু বারে বারে শুকিয়ে যাবে :

প্রেগন্যান্সির সময় বারে বারে হাতের তালু শুকিয়ে যাওয়ার অর্থ হল ছেলে সন্তান জন্ম নিতে চলেছে।

৭. খাবার খাওয়ার ইচ্ছা বাড়বে:

ভাবি মায়ের ক্ষিদে কি খুব বেড়ে গেছে? অল্প সময় অন্তর অন্তরই মনে হচ্ছে পেটে যেন ছুঁচো দৌড়াচ্ছে? তাহলে তো অভিনন্দন জানাতে হয়। কারণ ছেলে সন্তান হওয়ার আগে এমনই সব লক্ষণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে থাকে।

৮. ব্রণর প্রকোপ বাড়বে:

প্রেগন্যান্সির সময় একাধিক হরমোনের ক্ষরণ ঠিক মতো হয় না। যে কারণে এমনিতেই বিভিন্ন রকমের ত্বকের রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু যদি দেখেন ব্রণর সমস্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে তাহলে জানবেন আপনার পেটে ছেলে সন্তান বড় হয়ে উঠছে।

৯. ব্রেস্টের মাপ:

গর্ভাবস্তায় ভাবী মায়ের ব্রেস্টের মাপ এমনিতেই বেড়ে যায়। কারণ এই সময় মায়ের শরীরে দুধের সঞ্চয় হতে শুরু করে। সাধারণত এই সময় ডান দিকের থেকে বাঁদিকের ব্রেস্ট একটু বেশি মাত্রায় ভারি হয়ে যায়। কিন্তু যদি উল্টো ঘটনা ঘটতে দেখেন তাহলে নিশ্চিত থাকবেন আপনার ছেলে হতে চলেছে।

১০. ওজন বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে:

মায়ের পেটে ছেলে সন্তান থাকলে দৈহিক ওজন স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেড়ে যায় এবং পেটটা একটু অতিরিক্ত মাত্রায় ফোলা মনে হয়। প্রসঙ্গত, মেয়ে সন্তান পেটে থাকলে সাধারণ মায়ের সারা শরীরেই মেদের হার বৃদ্ধি পায়, এমনকী মুখেও। এই ভাবেই অনেকাংশে বুঝতে পারা সম্ভব হয় যে ছেলে হতে চলেছে না মেয়ে।

১১. চুলের ঘনত্বে পরিবর্তন আসবে:

মায়ের চুলের বৃদ্ধির হার দেখেও বলে দেওয়া সম্ভব ছেলে হতে চলেছে না মেয়ে। একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে মায়ের চুলের গ্রোথ যদি স্বাভাবিকের থেকে বেশি হয়, তাহলে কোনও সন্দেহই থাকে না যে আসন্ন বাচ্চা ছেলে হতে চলেছে।

১২. পায়ের পাতা ঠান্ডা হয়ে যাবে:

এমন ধরনের লক্ষণের বহিঃপ্রকাশ ঘটলে মনে কোনও সন্দেহ রাখবেন যে ছেলে সন্তানের জন্ম হতে চলেছে।

আরো পড়ুনঃ
পুরুষ ছাড়াই নারীরা কি সন্তান জন্ম দিতে পারবে?
জেনেনিন!

দুটি সমলিঙ্গের ইঁদুর মিলে কি একটি বাচ্চা ইঁদুরের জন্ম দিতে পারে? জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে কাজটা করে দেখিয়েছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। দুটি মা ইঁদুর থেকে জন্ম নিয়েছে একটি বাচ্চা ইঁদুর, কোনো বাবা ইঁদুরের দরকার পড়েনি। প্রাণী জগতে প্রজননের নিয়ম পাল্টে দেয়া এই গবেষণাটি চালায় চীনের একাডেমি অব সায়েন্স।
চীনের বিজ্ঞানীরা বলছেন, দুটি মা ইঁদুর থেকে জন্ম নেয়া এই বাচ্চা ইঁদুরগুলো একেবারেই সুস্থ ও স্বাভাবিক। তারাও পরবর্তীতে বাচ্চা ইঁদুরের জন্ম দিয়েছে।

একই পরীক্ষা পুরুষ ইঁদুরদের ওপরও চালানো হয়। সেখানেও জন্ম দেয়া সম্ভব হয়েছে বাচ্চা ইঁদুরের, কিন্তু সেসব বাচ্চা বেশিদিন বাঁচিয়ে রাখা যায়নি। কয়েকদিন পরেই মারা গেছে।
কেন এই অভিনব পরীক্ষা?
গবেষকরা আসলে একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। প্রজননের জন্য দুই বিপরীত লিঙ্গ আসলে কতটা অপরিহার্য।মানুষ থেকে শুরু করে সব ধরনের স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে কেবল দুই বিপরীত লিঙ্গের মিলনের মাধ্যমেই বাচ্চা জন্ম দেয়া সম্ভব। মায়ের কাছ থেকে দরকার হবে ডিম্বাণু, বাবার কাছ থেকে শুক্রাণু।

প্রজননের ক্ষেত্রে যে নিয়ম-কানুন, তার কোনটি ভাঙতে পারলে একই লিঙ্গের দুজনকে ব্যবহার করে নতুন প্রাণীর জন্ম দেয়া সম্ভব, সেটাই চীনা গবেষকরা জানার চেষ্টা করছিলেন। এটি জানতে পারলে এটাও বোঝা সম্ভব কেন এসব নিয়ম এত গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে তারা এই কাজটি সম্ভব করলেন?
খুব সহজ করে বলতে গেলে সর্বাধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে। দুই মা ইঁদুর থেকে বাচ্চা ইঁদুর জন্ম দেয়ার কাজটা ছিল অনেক সহজ। তারা একটি মেয়ে ইঁদুর থেকে একটি ডিম্বাণু নিয়েছেন। আর দ্বিতীয় মেয়ে ইঁদুর থেকে নিয়েছেন এক ধরনের বিশেষ সেল বা কোষ। এগুলোকে বলা হয় ‘হ্যাপলয়েড এমব্রোয়োনিক স্টেম সেল।’

কিন্তু বিশ্বের অন্য অনেক ধরনের প্রাণীর বেলায় কিন্তু এই একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কিছু মাছ, সরীসৃপ, উভচর এবং পাখি কিন্তু একা একাই প্রজননের কাজটি করতে পারে।
কিন্তু চীনের বিজ্ঞানীরা এখন যে কাজটি করে দেখালেন, তার মানে কি প্রজননের ক্ষেত্রে পুরুষের অপরিহার্য ভূমিকা ফুরিয়ে গেল? কুমারীর পক্ষে কি তাহলে এখন সন্তান জন্ম দেয়া সম্ভব, যাকে বলা হয় ‘পার্থেনোজেনেসিস।’

নতুন প্রাণের জন্ম দেয়ার জন্য যত জেনেটিক কোড বা ডিএনএ দরকার, এই দুটিতে ছিল তার অর্ধেক অর্ধেক। কিন্তু দুটিকে মেলানোই যথেষ্ট নয়। বিজ্ঞানীরা ‘জিন এডিটিং’ এর মাধ্যমে এই দুটি থেকে তিন জোড়া করে জেনেটিক কোড ডিলিট করেছেন বা মুছে ফেলেছেন যাতে করে তাদের মধ্যে মিলন সম্ভব হয়।

তবে দুই বাবা ইঁদুরের ক্ষেত্রে কৌশলটা ছিল একটু ভিন্ন ধরনের। বিজ্ঞানীরা একটি পুরুষ ইঁদুর থেকে নিয়েছেন একটি শুক্রাণু, অন্য পুরুষ ইঁদুর থেকে নিয়েছেন একটি হ্যাপলয়েড এমব্রোয়োনিক স্টেম সেল। এটি আসলে এক ধরণের ডিম্বাণু, যা থেকে ‘জিন এডিটিং’ এর মাধ্যমে অনেক তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে।

কী জানতে পারলেন বিজ্ঞানীরা?
এই যে প্রকৃতির নিয়ম ভেঙে চীনা বিজ্ঞানীরা একই লিঙ্গের ইঁদুর ব্যবহার করে বাচ্চা জন্ম দিতে সফল হয়েছেন, এ থেকে তারা কী জানতে পারলেন? কী শিখলেন? প্রজননের ক্ষেত্রে দুই বিপরীত লিঙ্গ কেন অপরিহার্য তা বুঝতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। এ ক্ষেত্রে দুই ধরনের বিপরীত লিঙ্গের দরকার পড়ে, কারণ আমাদের ডিএনএ বা জেনেটিক কোড বাবা নাকি মা, কার কাছ থেকে আসছে, তার ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করে। জেনেটিক কোডের একটি যদি পুরুষ এবং একটি নারী থেকে না আসে তাহলে আমাদের পুরো শারীরিক-মানসিক বিকাশ গোলমেলে হয়ে পড়ে।

অর্থাৎ আমাদের যে ডিএনএ শুক্রাণু থেকে এবং যে ডিএনএ ডিম্বাণু থেকে আসে, তাতে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ‘ছাপ’ থাকে। এটিকে বলে ‘জেনোমিক ইমপ্রিন্টিং’। সেটাই আসলে নির্ধারণ করে কীভাবে এই দুয়ের সংযোগে নতুন কি তৈরি হবে।এই জেনোমিক ইমপ্রিন্টিং এর ক্ষেত্রে যদি কোনো ভুল হয়, তখন নানা রকম রোগ হতে পারে, যেমন ‘অ্যাঞ্জেলম্যান সিনড্রোম।’

চীনা বিজ্ঞানীরা যখন একই লিঙ্গের ইঁদুর ব্যবহার করে নতুন বাচ্চা ইঁদুরের জন্ম দিয়েছেন, তখন তাদের জেনেটিক এডিটিংয়ের মাধ্যমে এই জেনোমিক ইমপ্রিন্টিং বা ছাপ সংশোধন করতে হয়েছে বা মুছে ফেলতে হয়েছে। যাতে করে নতুন ইঁদুর জন্ম দেয়া সম্ভব হয়, সেটিকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়।

এই পরীক্ষা যারা চালিয়েছেন, তাদের একজন ড. ওয়েই লি বলেন, আমরা এই গবেষণার মাধ্যমে বুঝতে পেরেছি কী করা সম্ভব। আমরা দেখেছি দুই মা থেকে যে বাচ্চা ইঁদুর হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে অনেক ত্রুটি সারিয়ে তোলা সম্ভব। স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে দুই বিপরীত লিঙ্গের অপরিহার্যতাকে অতিক্রম করা সম্ভব।

তার মানে কী একই লিঙ্গের মানুষ থেকে মানবশিশুর জন্ম সম্ভব? এর উত্তর হচ্ছে- না, খুব সহসা এটি সম্ভব হবে না।ইউনিভার্সিটি অব অকল্যান্ডের ড. টেরেসা হোম বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে এর সম্ভাবনা আছে। এই গবেষণার মাধ্যমে একই লিঙ্গের যুগলরা নিজেরাই যেন স্বাস্থ্যবান শিশুর জন্ম দিতে পারেন, তার পথ খুলে যেতে পারে।

চীনা বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়ায় যেসব ইঁদুরের জন্ম দিয়েছেন, সেগুলো কতটা স্বাভাবিক তা নিয়ে অনেকের সংশয় আছে।
ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের ড. রবিন লোভেল-ব্যাজ বলেন, দুটি মা ইঁদুর ব্যবহার করে যেখানে বাচ্চা ইঁদুরের জন্ম দেয়া হয়েছে, সেখানেও আমি নিঃসন্দেহ নই যে সেগুলো স্বাভাবিক। সেখানে সাফল্যের হার কিন্তু অনেক নিচে। আমার মনে হয় না, এরকম কিছু করার কথা কেউ ভাববে।
কাজেই প্রজননের ক্ষেত্রে লিঙ্গ এখনো অপরিহার্য। এটির প্রয়োজন খুব শিগরিই ফুরিয়ে যাবে, এমনটা বলা যাচ্ছে না।

তবে তিনি এটি মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে এই পথে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক প্রশ্নের মীমাংসার দরকার হবে। অনেক ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলার উপায় খুঁজে বের করার দরকার হবে।
তার মতে যতদিন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত না হবেন যে এভাবে জন্ম নেয়া শিশু শারীরিক এবং মানসিকভাবে আর ১০টা শিশুর মতোই বেড়ে উঠতে পারবে, ততদিন এটা ঘটবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here