নিজের ধর্ম ইসলাম ত্যাগ করে হিন্দু তরুণীকে বিয়ে, এরপর…

0
346

হিন্দু রীতিনীতি মেনে সেই প্রেমিকাকে বিয়েও করেছেন। কিন্তু সেই স্ত্রীই এখন আর স্বামী হিসেবে গ্রহণ করতে চাইছে না ইব্রাহিমকে।

অঞ্জলি জৈন (২৩) নামে এক হিন্দু তরুণীর সঙ্গে তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক মুহম্মদ ইব্রাহিম সিদ্দিকির (৩০)। সেই প্রেমিকাকে বিয়ে করতে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন তিনি। নিজের নাম রেখেছেন আরয়ান আর্য।

চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রেমিকাকে বিয়ে করতে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন ভারতের ছত্তিসগড় রাজ্যের বাসিন্দা ইব্রাহিম। তার ঠিক দুদিন পর হিন্দু রীতিনীতি মেনে রায়পুরের (ছত্তিসগড়ের রাজধানী) আর্য সমাজ মন্দিরে প্রেমিকাকে বিয়ে করেন।

বিয়ের কিছুদিন পর অঞ্জলি বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু পরিবারের কাছে বিয়ের বিষয়টি চেপে যান তিনি। পরে বাড়ির লোকেরা বিয়ের কথা জানতে পেরে মেয়েকে স্বামীর কাছে যেতে বাধা দেয়। অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়া হয় তাকে।

স্ত্রীকে ফিরে পেতে ছত্তিশগড় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ইব্রাহিম। বিচারপতির নির্দেশে গত ৩০ জুলাই আদালতে হাজির হন অঞ্জলি ও তার বাবা। আলাদাভাবে অঞ্জলির বক্তব্য শোনা হয়।
আদালতকে তিনি জানান, ‘তার পরিবার এই সম্পর্কের বিরোধী ঠিকই। তবে জোর করে তাকে আটকে রাখার বিষয়টি সঠিক নয়।’

এরপর আদালত অঞ্জলিকে কিছু সময় নিতে বলেন, যাতে তিনি নিজের ব্যাপারে নিজেই সিদ্ধান্তে আসতে পারেন। আদালত এই সময়ের মধ্যে অঞ্জলিকে বাড়ি অথবা হোস্টেলে থাকার নির্দেশ দেয়।

হাইকোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ইব্রাহিম এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। এরপর ছত্তিসগড় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র ও বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের ডিভিশন বেঞ্চ ছত্তিশগড় রাজ্য সরকারের কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠান। রাজ্য সরকারের কাউন্সিলের কাছে পিটিশনের কপি চেয়েও পাঠিয়েছে।

অঞ্জলি এবার সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চকে বলেছেন, ‘যদিও তিনি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছিলেন, তবে প্রকৃতপক্ষে তিনি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করেন।’

সুপ্রিম কোর্ট তাকে বলেন, ‘আপনি প্রাপ্তবয়স্ক, আপনাকে স্বাধীন ইচ্ছার ব্যবহার করতে হবে। যদি আপনি স্বামীর সঙ্গে যেতে না চান তবে এটি একটি বিয়ের মামলা হয়ে দাঁড়াবে।’

অঞ্জলির আইনজীবী বলেন, এটি একটি লজ্জাজনক বিয়ে। ওই ব্যক্তি আগেও দুইবার বিয়ে করেছেন এবং সেটা গোপন করেছেন।

আরো পড়ুনঃ
জেনেনিন ইসলামিক দৃষ্টিতে অল্প বয়সে বিয়ে করার ফজিলত.

বর্তমান সময়ের তরুণরা ক্যারিয়ারের ওপর বেশি গরুত্ব দেয়। তারা অল্প বয়সে বিয়ে করতে চায় না। ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়; ভালো বেতনের চাকুরির অপেক্ষায় থাকে। আর এসব হতে হতে ত্রিশ বছর পার করে ফেলে।

অনেকে বলেন- বিয়ে এবং সম্পর্ক আসলে কী তা বুঝে তবেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। বিয়ের সঠিক বয়স কোনটি তা নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে।

প্রশ্ন হলো, বিয়ের আগে ক্যারিয়ার তৈরি করা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

বিয়ে জীবনের একটা অংশ। ক্যারিয়ারও জীবনের একটা অংশ। আমার মতে বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু ক্যারিয়ারের জন্য দেরি করা উচিত না। এমনকি উচ্চতর পড়াশোনার জন্যও দেরি করা উচিত না। তবে আমি বলছি না যে, দশম শ্রেণিতেই বিয়ে করে ফেলেন। প্রাপ্ত বয়স্ক হলে অবশ্যই বিয়ে করতে পারেন। হাদিসে আছে নবীজি সা. বলেছেন, ‘হে যুবক-যুবতীরা! তোমাদের মধ্যে যাদের সামর্থ্য আছে, তোমরা বিয়ে করে ফেলো। তাহলে দৃষ্টি সংযত থাকবে, শালীনতা বজায় থাকবে।
যুব সমাজ বিয়ে করতে দেরি করছে এই চিন্তা থেকে যে তারা মনে করে, বিয়ে করলে তো স্ত্রীর দেখাশোনা করতে হবে। আর সেটা বাধা হয়ে দাঁড়াবে ক্যারিয়ার গঠনে বা উচ্চতর পড়াশোনায়। এরকম ধারণা আসলে ভুল। এর উল্টোটা চিন্তা করে দেখেন বিয়ে করলে স্ত্রী আপনাকে পড়াশোনায় সাহায্য করবে। নোট তৈরিতে সাহায্য করবে। আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করবে। আগে শুধু মা দেখা-শোনা করতেন। এখন মা’র সঙ্গে স্ত্রীও করবে।

অনেকে বলতে পারেন ‘ছাত্র অবস্থায় আমি তার ভরণ-পোষণ দিব কী করে?
তখন তো মাত্র উপার্জনের সময় আমার।’ তাদের এ আপত্তির উত্তরেই নবীজি সা. বলেছেন ‘যদি তাদের সামর্থ্য থাকে।’ সামর্থ্য বলতে পরিবার যদি তাদের খরচ বহন করতে পারে। আর বর্তমানে যারা ক্যারিয়ার গঠনের কথা বলেন, তাদের বেশির ভাগই ধনী পরিবার। তাদের সঞ্চয় করা টাকা থাকে। তাই অর্থনৈতিক কোনো সমস্যা না হলে দ্রুত বিয়ে করে ফেলা উচিত।

দ্রুত বিয়ে করে সন্তানও তাড়াতাড়ি নিবেন। অনেকে বলতে চান ‘আমি আরাম করতে চাই। একটু রিল্যাক্সে থাকতে চাই। তাই দেরিতে সন্তান নিবো।’ তাদের উদ্দেশে বলবো আরে! আরাম করতে চাইলেই তো দ্রুত সন্তান নিবেন।
২০/২৫ বয়সের মধ্যে বিয়ে করে দ্রুত সন্তানের বাবা হবেন। আর চল্লিশ বছর বয়সে আপনার ছেলের বয়স হবে আঠারো বা উনিশ। তখন আপনার ব্যবসা থাকলে তাকে বুঝিয়ে দিতে পারেন।
ব্যবসা না থাকলেও উপার্জন করার মতো বয়স ছেলের তখন হয়ে যাবে। তারপর আপনি বাকী জীবন আরাম করেন। অতএব আমি বলবো, জীবন উপভোগ করতে চাইলে দ্রুত বিয়ে করুন।
অন্যদিকে দ্রুত বিয়ে করলে সমাজের ক্ষতিকর বিষয় থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
কারণ, তরুণ বয়সে নারী সংক্রান্ত বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। কলেজ-ভার্সিটির ছেলেরা মেয়েদের কাছে নায়ক সাজার চেষ্টা করে।
অথচ বিয়ে করে ফেললে নায়িকা তো ঘরেই থাকে। তখন মাথায় আজে-বাজে চিন্তা আসবে না। পড়াশোনায়ও মনোযোগী হতে পারবেন। তাই বলছি ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবার সাথে সাথে সুযোগ থাকলে বিয়েটাও করে ফেলুন.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here