বঙ্গমাতার ৮৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

0
185

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী আজ।

১৯৩০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ সপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয় তাকে।

বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মাত্র ৩ বছর বয়সে পিতা ও ৫ বছর বয়সে মাতাকে হারান। তার ডাক নাম ছিল ‘রেনু’। পিতার নাম শেখ জহরম্নল হক ও মাতার নাম হোসনে আরা বেগম। দাদা শেখ কাসেম চাচাতো ভাই শেখ লুত্ফর রহমানের পুত্র শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ফজিলাতুন্নেছার বিয়ে দেন। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে তিনি প্রাথমিক লেখাপড়া করেন।

টুঙ্গীপাড়ার অজপাড়াগাঁয়ের সন্তান শেখ মুজিব দীর্ঘ আপোষহীন লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে শুধু বাঙালি জাতির পিতাই নন, বিশ্ব বরেণ্য রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছিলেন, তার পেছনে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তাঁরই সহধর্মিনী ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধুর সমগ্র রাজনৈতিক জীবনে ছায়ার মতো অনুসরণ করে তার প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অফুরান প্রেরণার উৎস হয়েছিলেন বেগম মুজিব।

বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ ছয় দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু যখন বারবার পাকিস্তানি শাসকদের হাতে বন্দি জীবন-যাপন করছিলেন, তখন দলের সর্বসত্মরের নেতাকর্মীরা বেগম ফজিলাতুন্নেছার কাছে ছুটে আসতেন। তিনি তাদেরকে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা পৌঁছে দিতেন এবং লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা যোগাতেন।

বিশেষ করে আগরতলা যড়যন্ত্র মামলায় যখন কিছু কুচক্রী বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্ত করার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামকে বিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল, তখন প্যারোলে মুক্তির বিপক্ষে বেগম মুজিবের দৃঢ়চেতা অবস্থান বাংলার মুক্তি সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করেছিল। বঙ্গমাতার এই ভূমিকা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জন্মবার্ষিকী জাতীয়ভাবে উদযাপিত হবে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় দিবসটি জাতীয়ভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

জন্মদিন উপলক্ষে এদিন সকালে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা । অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতার ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

বঙ্গমাতার ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়া এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। দিবসটি উপলক্ষে একটি স্মরণিকাও প্রকাশ করা হবে।

জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বনানী কবরস্থানে শহীদ ফজিলাতুন্নেসার সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ শেষে কোরানখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগও বনানী কবরস্থানে বেগম ফজিলাতুন্নেসার কবরে শ্রদ্ধা জানাবে।

বঙ্গমাতা পরিষদ আগামীকাল বিকাল ৪টায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আলোচনা সভা এবং গুণীজনদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here