বিশ্বকাপে অনিশ্চিত সাকিব

0
152

মাসখানেক আগের একটা ছোট্ট ইনজুরি, ক্রমেই সেটা বড় হয়ে এখন সাকিব আল হাসানের ২০১৯ বিশ্বকাপ ফেলে দিয়েছে শংকায়। আগামী বছরের ৩০ মে থেকে ইংল্যান্ডে বসতে যাচ্ছে ক্রিকেটের পরবর্তী বৈশ্বিক আসর। সেখানে সাকিবের মত একজন অলরাউন্ডারকে অবশ্যই প্রয়োজন বাংলাদেশের। কিন্তু তিনি খেলবে কি খেলবেন না- আঙুলের চোটের কারণে পুরো বিষয়টাই এখন অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।

ডাক্তারদের সর্বশেষ আপডেট হল- আগামী ছয়মাস ছুরি-কাঁচির নিচে যেতে পারবেন না সাকিব, যতক্ষণ না সংক্রমণ পুরোপুরিভাবে দূর হচ্ছে। সঙ্গে হাড়ে কোনো প্রকার চিড় আছে কিনা সেটাও দেখতে হবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার চূড়ান্ত ফল পাওয়া যাবে। এরপরই সাকিবের সামগ্রিক অবস্থা জানা যাবে।

বর্তমানে সাকিব মেলবোর্নের ইপওর্থ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার গ্রে হয়-এর অধীনে ৭২ ঘন্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়াতে অন্তত আরও আটদিন থাকতে হবে তাকে। সাকিবকে এন্টিবায়োটিক আর ইনজেকশন দিতে শুরু করেছেন ডাক্তার। ইনজুরি আবার ফিরে আসবে কিনা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে তিনমাস পর মাঠে ফিরবেন সাকিব।এরপর আবার তার টেস্ট সম্পন্ন হবে। সবকিছু শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পরই অস্ত্রোপচার করা হবে তার আঙুলে।

বেশ উদ্বেগ নিয়ে সাকিব বলেছেন, ‘সংক্রমণের কারণে আগামী ছয়মাসে অস্ত্রোপচার করার কোনো সুযোগ নেই। যদি অস্ত্রোপচার শেষে কোনো কারণে সংক্রমণ থেকে যায় তবে আমার হাতটাই শেষ হয়ে যাবে। কাজেই কেউ ঝুঁকি নেবে না। সংক্রমণ শতভাগ কেটে যাওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

সাকিব আরও বলেন, ‘দেড় থেকে দুই মাস পর যখন ওষুধ নেয়া বন্ধ হবে, এরপর সংক্রমণ বৃদ্ধি পায় কিনা তা দেখার জন্য আরও এক থেকে দুই মাস অপেক্ষা করতে হবে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে আমাকে কিছুদিন খেলাও চালিয়ে যেতে হবে। যখন সকল পরীক্ষা সম্পন্ন হবে এবং আমরা নিশ্চিত হব যে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়া কিংবা ফিরে আসার আর কোনো সম্ভাবনা নেই, তখন আমরা অস্ত্রোপচার করাতে পারি। সবমিলিয়ে ছয় মাস কিংবা এক বছরও লেগে যেতে পারে। ডাক্তাররা তাই মনে করছেন।’

সাকিবকে ছুরি-কাঁচির নিচে যেতে হবেনা, যদি ওষুধ নেয়ার পর তার ব্যথাটা আপনা-আপনিই সেরে যায়। অস্ত্রোপচারের পর আঙুলের স্বাভাবিক নড়াচড়ায় কিছুটা সমস্যা হতে পারে।তবে সেটা ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাবার মত উপযোগী থাকবে বলেই বিশ্বাস সবার।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ে আর শ্রীলংকাকে নিয়ে ঘরের মাটিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে ডান হাতের কনিষ্ঠা আঙুলে চোট পান সাকিব। এরপর তিনি আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও খেলেছেন।সফর থেকে ফেরার পরপরই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার অস্ত্রোপচারের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বাগড়া দেন। সাকিবকে এশিয়া কাপের পর অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন তিনি।কিন্তু সিদ্ধান্তটা মোটেও ভালো কিছু ছিলনা। এশিয়া কাপের মাঝপথে আরব-আমিরাত থেকে তীব্র ব্যথা নিয়ে দেশে ফেরেন সাকিব।হাসপাতালে যাওয়ার পর দেখা যায়, তার হাতে পুঁজ হয়ে গেছে। এরপর উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশে গত ৫ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান সাকিব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here