তিউনিসিয়া থেকে ১৭ বাংলাদেশিকে ফেরত

0
137

প্রায় তিন সপ্তাহ ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকা ৬৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১৭ জন তিউনিসিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন। গতকাল শুক্রবার বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।

সেইসঙ্গে তাদের ঠিকানা ভেরিভিকশনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাতে বার্তা পাঠিয়েছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। ফলে তাদের এরাইভাল হতে আরও সময় লাগে বলে জানা যায়।

তিন সপ্তাহ ধরে তিউনিসিয়ার সাগরে নৌকায় ভাসা ৬৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১৭ জন শুক্রবার দেশে ফিরেন। ওইদিন বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজের কিউআর-৬৩৪ ফ্লাইটে করে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

তিউনিসিয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের শরণার্থী কেন্দ্রে আর জায়গা দেয়া সম্ভব নয়। ফলে ওই নৌকাটি উপকূলীয় জারজিস শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে সাগরে ভাসতে থাকে। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা সেখানে যান।

জানা যায়, শুক্রবার আসা ১৭ জনের মধ্যে ৮জনই মাদারীপুরের। বাকি ৯ জনের মধ্যে ৪ জন চারজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার। বাকি ৫ জনের বাড়ি শরীয়তপুর, নোয়াখালী, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলায়। এ ধরনের মানবপাচার যে কোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে বলে দাবি সবার।

গত ২৮ মে ৬৪ বাংলাদেশিসহ ৭৫ জন অভিবাসন প্রত্যাশী লিবিয়া থেকে একটি ইঞ্জিন নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করে। তিউনিসিয়া উপকূলে পৌঁছানোর পর তাদের বহনকারী নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ৩১ মে মিসরের একটি কার্গো জাহাজ তাদের উদ্ধার করে। কিন্তু উদ্ধারের পর বাংলাদেশিসহ অন্যদেশের অভিবাসীরা দেশে ফিরতে রাজি হচ্ছিলো না। আর অভিবাসী আশ্রয় কেন্দ্রগুলো পূর্ণ থাকায় নৌকাটি তীরে ভিড়তে দিচ্ছিলো না তিউনিসিয়া। শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার শর্তে নৌকাটি কূলে ভিড়তে অনুমতি দেয় তিউনিসিয়া।

উদ্ধারকৃত বাংলাদেশিদের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তিউনিসে এনে রেড ক্রিসেন্ট ও আইওএম এর যৌথভাবে পরিচালিত শেল্টার হাউসে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেশে পাঠানো হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here