গ্যাসের দাম বাড়ায় মাথাপিছু বাড়বে খরচ

0
125

গণশুনানিতে ব্যাপক আপত্তি ছিল গ্যাসের দাম না বাড়াতে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ব্যাপক আপত্তি থাকা সত্ত্বে ভোক্তাপর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম পুনঃনির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। যা আজ ১লা জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে। ভোক্তাপর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যহার বর্তমান ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ভারিত গড় ৭ দশমিক ৩৮ থেকে বাড়িয়ে ৯ দশমিক ৮০ টাকা/ঘনমিটার নির্ধারণ করেছে কমিশন। দাম বাড়িয়ে গৃহস্থালির ক্ষেত্রে মিটারভিত্তিক গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ১২ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা আগে ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৯ টাকা ১০ পয়সা।

গ্যাসের দাম প্রায় ৩৩ শতাংশ বাড়ানোয় দেশের জনগণের মাথাপিছু খরচ ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। সরকারের এ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুতের দাম নাও বাড়তে পারে বলে মনে করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সাধারণভাবে জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। সে কারণে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। তবে এবার জ্বালানির দাম বাড়লেও গড় বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়ার বদলে কমতে পারে বলে মনে করছে বিইআরসি। এজন্য দাম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না বলে মনে করছে তারা।

বাসা বাড়ির এক চুলায় প্রতিমাসে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২৫ টাকা (আগে ছিল ৭৫০ টাকা ) এবং দুই চুলায় ৯৭৫ টাকা (আগে ছিল ৮০০টাকা)। গতকাল বিকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মনোয়ার ইসলাম আরও জানান, সিএনজির ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ টাকা। যা আগে ছিল ৩৮ টাকা। হোটেল ও রেস্টুরেন্টের ক্ষেত্রে ২৩ টাকা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতেও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। যার ফলে শিল্পোৎপাদনে খরচ বাড়বে। আর  ব্যবসায়ীরাও তা তুলবেন দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দিয়ে। সর্বশেষ বাড়তি টাকা খসবে ভোক্তাদের পকেট থেকেই। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৩ টাকা ৮৫ পয়সা, সার উৎপাদনে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা, শিল্পে ১০ টাকা ৭০ পয়সা এবং চা-বাগানে ১০ টাকা ৭০ পয়সা।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ ২৬ হাজার ৪৭৯ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ঘনমিটার। যা মোট উৎপাদনের ৭৫ শতাংশ। এলএনজি আমদানির পরিমাণ ৮ হাজার ৭৮২ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ঘনমিটার। যা মোট উৎপাদন ও আমদানির ২৫ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here