বন্যা আক্রান্ত জেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

0
133

বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ জন্য সার্বিক প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। আষাঢ়ের শেষে এ বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে রাজধানীজুড়েও। দেশের নদনদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দুদিন ভারী বৃষ্টি চলবে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাঙামাটিতে ১৬৫, হাতিয়ায় ১৩৫, সীতাকুন্ডে ১২৯, টাঙ্গাইলে ১২২, কুতুবদিয়ায় ১১১, সন্‌দ্বীপে ১০১ এবং চট্টগ্রামে ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া সহকারী আব্দুল আলীম মানবজমিনকে বলেন, বৃষ্টির পরিমান বাড়তে পারে।

কোথাও কোথাও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। গতকাল শুক্রবার সকালের পর থেকে দফায় দফায় বৃষ্টি হতে থাকে দেশজুড়ে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলে ভারি বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দুপুর ১২টার পর বৃষ্টি হানা দিতে থাকে দেশের মধ্যাঞ্চলে। সকাল নয়টায় পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এদিকে ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে । ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে দেশের ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান।

এছাড়া বন্যা আক্রান্ত হতে পারে এমন জেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সচিবালয়ে আন্ত:মন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে দুই কোটি ৯৩ লাখ টাকা, সাড়ে ১৭ হাজার টন চাল এবং ৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার। এসব জেলায় দু’এক দিনের মধ্যে পৌঁছে যাবে ৫০০ তাবু, তৈরি করা হয়েছে মেডিকেল টিম। এনামুর রহমান বলেন, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার এবং নীলফামারীতে বন্যা পরিস্থির অবনতি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে জায়গার অভাব হলে ব্যবহারের জন্য দুর্গত এলাকাগুলোতে ৫০০টি করে তাঁবু পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রত্যেক তাবুতে ২০ জন করে থাকতে পারবে।

এদিকে, সারাদেশের বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের পঞ্চম তলার ৪২৫ নম্বর রুমে এ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর ০২৯৫৭০০২৮। সারাদেশে বন্যা-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে এই কন্ট্রোল রুমে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পানি উন্নয় বোর্ডের ‘বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র’ এর টোল ফ্রি ১০৯০ নম্বরে ফোন করার পর ৫ প্রেস করে বন্যার পূর্বাভাস সংক্রান্ত তথ্য জানা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here