ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনেসহ নিহত ১০

0
152

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বিয়ের গাড়িবহরের একটি মাইক্রোবাসে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় বর ও কনেসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ট্রেনের সামনে থেকে ছিটকে পড়ে ও মাইক্রোবাসে থাকা কয়েকজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানার ওসি হারুন মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহতদের সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন- বর রাজন হোসেন (২৫) সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের কান্দাপাড়া গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে এবং উল্লাপাড়ার চরঘাটিনায় কনে সুমাইয়া খাতুনের (২০), বরের মামাতো ভাই শিশু আলিক (১০), মাইক্রোবাস চালক কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল এলাকার মন্টু সেখের ছেলে স্বাধীন (৩০), বরযাত্রী শহরের রামগাতি মহল্লার আব্দুল মতির ছেলে আব্দুস সামাদ (৫০), তার স্ত্রী হাওয়া বেগম (৪৫), ছেলে শাকিল (২০), কালিয়া হরিপুর চুনিয়াহাটির মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে ভাষান সেখ (৫৫), শহরের সয়াধানগড়া মহল্লার সুরুত আলীর ছেলে আব্দুল আহাদ (২৫) এবং নূর আলম (৩৫)।

তারা উল্লাপাড়া উপজেলার গুচ্ছগ্রাম থেকে বিয়ের পর কনে নিয়ে বরের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদরের উত্তর কান্দাপাড়ায় ফিরছিল।

উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল হামিদ জানান, উল্লাপাড়ায় বিয়ে শেষে নববধূকে নিয়ে বরের মাইক্রোবাসটি বেতকান্দি যাচ্ছিল। পথে অসাবধানতাবশত অরক্ষিত ওই রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়ে। একই সময়ে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ‘পদ্মা এক্সপ্রেস’ ট্রেন এটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে নিয়ে প্রায় ২০০ গজ দূরে গিয়ে ট্রেনটি থামে।

উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা নাজির হোসেন জানান, বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি অরক্ষিত রেলক্রসিংটি অতিক্রম করার সময় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ধাক্কা দিয়ে মাইক্রোবাসটি ছেচড়ে নিয়ে যায়। প্রায় ২শ গজ দূরে গিয়ে ট্রেনটি থামার পর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাসটি লাইনের উপর থেকে সরানো হয়। এরপরই ট্রেনটি গন্তব্যের দিকে ছেড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৮ জন মারা যায়। দুর্ঘটনার পরই আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারের পর রাতে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক রোকনউজ্জামান জানান, আহত অবস্থায় ৩ জনকে হাসপাতালে আনা হলে আব্দুল আহাদ মারা যান। আহতদের মধ্যে সুমনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নাজমুল আহসান নামে একজন অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।