রেনুকে গণপিটুনি দেয়া ৩ যুবক গ্রেপ্তার

0
129

উত্তর বাড্ডায় ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাফর, বাপ্পী ও শাহীন নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘তাসলিমা হত্যায় উত্তর বাড্ডা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

প্রসঙ্গত, ২০ জুলাই সকালে উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেনু নিহত হন। তার ১১ বছরের এক ছেলে ও চার বছরের এক মেয়ে রয়েছে।

এ ঘটনায় ২০ জুলাই রাতে অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। বাড্ডা থানায় নিহতের বোনের ছেলে নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

রেনুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে প্রায় দুই বছর আগে স্বামীর সঙ্গে রেনুর ডিভোর্স হয়। তাদের সংসারে তাসফিক আল মাহি (১১) ও তাসলিমা তুবা (৪) নামের দুই সন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পর ছেলে বাবার সঙ্গে থাকে। আর মেয়ে মায়ের কাছে থাকতো। মেয়ে তুবাকে স্কুলে ভর্তি করার জন্য খোঁজখবর নিতেই শনিবার সকালে উত্তর বাড্ডায় ওই স্কুলে গিয়েছিলেন রেনু।

স্কুলের ভেতরে ছোট মাঠের কোণায় সিঁড়ির পাশে যে জায়গাটাতে রেনুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, সেখানে ইট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকালে রেনু ওই স্কুলে গিয়ে মেয়েকে ভর্তি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং এর প্রক্রিয়া জানতে চান। কিন্তু জুলাই মাসে কীভাবে একজন অভিভাবক তার সন্তানকে ভর্তির জন্য স্কুলে আসে এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। রেনুকে নানা প্রশ্নবানে জর্জরিত হতে হয় এবং সেসব প্রশ্নের সদুত্তর দিতে না পারায় রেনুকে প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ বেগম সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, রেনুকে উত্তেজিত জনতা তালাবদ্ধ কলাপসিবল গেট ভেঙে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে গণপিটুনি দিয়েছে।

তিনি বলেন, ওই নারীর কথাবার্তা সন্দেহজনক বলে অফিসের লোকজন তাকে আমার কক্ষে নিয়ে আসেন। তখন আমার সাথে আরেকজন শিক্ষক ছিলেন। আমরা তথ্য নিচ্ছিলাম যে, আপনার নাম কি, কোথা থেকে আসছেন? এর মধ্যেই বাইরে কে বা কারা ছড়িয়ে দিয়েছে স্কুলে ছেলেধরা এসেছে। অনেক মানুষ জড়ো হয়ে যাওয়ায় আমি আমার কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দিতে বলি। কিন্তু বাইরের উত্তেজিত লোকজন গেট ভেঙে এখান থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

ওই মামলায় এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা ও মোবাইলে ধারণকৃত কিছু ফুটেজ সংগ্রহ করে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে খুনিদের শনাক্তে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের বাড্ডা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা ও মোবাইলে ধারণকৃত কিছু ভিডিও ফুটেজ যাচাই-বাছাই করছি। এ ছাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। ওই ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here