ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

0
58

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

শোনা যাচ্ছে, ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর নানা কর্মকাণ্ডে বিরক্তি প্রকাশ করে কমিটি ভেঙে দেয়ার নির্দেশ দেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের প্রসঙ্গ উঠলে কমিটি ভেঙে দিতে বলেন শেখ হাসিনা। সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা আরও বলেনশেখ হাসিনা ভীষণ ক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের বর্তমান শীর্ষ নেতাদের ওপর।

ওই নেতারা আরও জানানশেখ হাসিনা বলেছেন– ‘আমি ছাত্রলীগের এমন নেতা চাই নাযাদের বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ পর্যন্ত উঠেছে।’

সূত্রটি বলছে, শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে এমন কথা বলেছেন। তবে এমন কথা বাস্তবে প্রতিফলিত না-ও হতে পারে। কিন্তু এটি স্পষ্ট যে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের কর্মকাণ্ডে বেশ ক্ষুব্ধ।

সূত্রটি আরও জানায়, সংসদের রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক হয়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৈঠক শেষে ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমানের সঙ্গে ছাত্রলীগ প্রসঙ্গে প্রায় ১০ মিনিট কথা বলেন শেখ হাসিনা।

প্রসঙ্গত ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন। চলতি বছরের শুরুতে ডাকসু নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিএম মোজাম্মেলকে ছাত্রলীগ চালিয়ে নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়।

২০১৮ সালের ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছর মেয়াদী আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এভাবে এক বছর চলার পর চলতি বছরের ১৩ মে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে এ কমিটিতে স্থান পায়নি বেশ কিছু সক্রিয় নেতাকর্মীরা।

বিবাহিত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, চাকরিজীবী ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের নতুন কমিটিতে পদ দেয়া হয়েছে অভিযোগ এনে কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে আন্দোলন করেন পদবঞ্চিতরা।

এনিয়ে কমিটিতে পদ পাওয়া নেতাদের সঙ্গে পদবঞ্চিতদের মারামারির ঘটনাও ঘটে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here