১৭ প্রকল্প জি কে শামীমের হাতে

0
132

সচিবালয়, র‌্যাব হেড কোয়ার্টার, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতালসহ বড় বড় ১৭টি প্রকল্পের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ঠিকাদারির কাজ করছেন র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম।

তার মালিকানাধীন জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের নামে তিনি এসব কাজ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। শুক্রবার র‌্যাবের হাতে বিপুল টাকা, এফডিআর এবং মাদক ও অস্ত্রসহ ধরা পড়ার পর বিকেলে জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন।

রাজনীতির আড়ালে ঢাকা পড়েছিল তার পাপের লম্বা খতিয়ান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ‘যুবলীগ নেতা’, প্রভাবশালী ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম ধরা পড়েছেন অ্যালিট বাহিনী র‌্যাবের হাতে। গুলশানের নিকেতনের কার্যালয় থেকে গতকাল কয়েকঘন্টার অভিযান শেষে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। এসময় গ্রেপ্তার করা হয় তার সাত দেহরক্ষীকেও। এই অস্ত্রধারী দেহরক্ষীরাই সবসময় ঘিরে থাকতো তাকে।

তার বাণিজ্যিক কার্যালয় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, নগদ পৌনে দুই কোটি টাকা, অস্ত্র এবং মদ। তার বিপুল সম্পদ আর বিলাসী জীবনের কাহিনী দেখে চমকে ওঠেছেন সবাই। যুবলীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শামীম যুবলীগের কেউ নন। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুবলীগের সমবায় সম্পাদক পরিচয়ই ছিল তার ক্ষমতার উৎস। যদিও একসময় তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে তার সহ-সভাপতি পদ থাকার তথ্যও সামনে এসেছে।

চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ থাকা রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা শামীমকে ধরতে শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে সাদা পোশাকে শুরু হয় র‍্যাবের অভিযান।

গুলশানের নিকেতনের ৫ নম্বর রোডের ১১৩ নম্বর বাসা ঘিরে ফেলে। ওই বাসার তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় জিকে শামীম তার পরিবার নিয়ে থাকেন। দুইটি ফ্ল্যাটকে তিনি ডুপ্লেক্স বাসা বানিয়েছিলেন। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সব কিছু গোপন করার চেষ্টা করেন। ওই বাসায় র‌্যাবের সদস্যরা তল্লাশি শেষ করে শামীমের অফিস ১১৪ নম্বর বাড়িতে যান। ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলা ও তৃতীয় তলায় শামীমের বিলাসবহুল অফিস।

বিকেল সাড়ে ৪টায় অভিযান শেষে শামীমসহ ৮ জনকে আটক করার কথা জানায় র‍্যাব। অভিযানে ১ কোটি ৮০ লাখ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ১৬৫ কোটি টাকার ওপরে এফডিআর (স্থায়ী আমানত) পাওয়া যায়, যার মধ্যে তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি ও ২৫ কোটি টাকা তার নামে। পাওয়া যায় মার্কিন ডলার, মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র।

বিকেলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে শামীমকে আটকের ঘোষণা দেয়ার পরপরই তার অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের নামে পাওয়া টেন্ডারের তথ্য সাংবাদিকদের সরবরাহ করেন। তাদের একজন দিদার। তিনি নিজেকে জি কে শামীমের পিএস বলে দাবি করেন।

দিদারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জি কে শামীম জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেডের নামে বড় বড় ১৭টি প্রকল্পের কাজ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৪০০ কোটি টাকার কাজ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের। ৩০০-৩৫০ কোটি টাকার কাজ পঙ্গু হাসপাতালের।

এ ছাড়া বড় প্রকল্পের মধ্যে ৫০০ কোটি টাকার র‌্যাব হেডকোয়ার্টার, ১৫০ কোটি টাকার সচিবালয় কেবিনেট ভবন, ৪০০ কোটি টাকার এনবিআর, ২০০ কোটি টাকার মহাখালী ডাইজেস্টিভ এবং বেইলি রোডে ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প রয়েছে।

এর পাশাপাশি ২০-২৫ কোটি টাকার অ্যাজমা, ২০-২৫ কোটি টাকার ক্যাসার, ২০-২৫ কোটি টাকার সেবা মহাবিদ্যালয়, ৮০ কোটি টাকার নিউরোসায়েন্স, ৮০ কোটি টাকার বিজ্ঞান জাদুঘর, ১২ কোটি টাকার পিএসসি, ৩০-৬০ কোটি টাকার র‌্যাব ফোর্স, ৬৫ কোটি টাকার এনজিও ফাউন্ডেশন এবং মিরপুর-৬ তে ৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ রয়েছে জি কে শামীমের হাতে।

এসব প্রকল্পের তথ্য দিয়ে দিদার বলেন, ‘জি কে শামীম স্যার সম্মানী ব্যক্তি। সরকারের বড় বড় প্রায় সব প্রকল্পের কাজ তিনি পেয়েছেন। সুতরাং স্যারের কাছে কোটি টাকা থাকা কোনো ব্যাপার না। আমরা চাই তাকে যেন তার যোগ্য সম্মানটা দেয়া হয়।’

জি কে শামীমের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামে। তার পিতা মৃত মো. আফসার উদ্দিন। তিনি ছিলেন শিক্ষক। তবে কৈশোর থেকেই শামীম থাকতেন ঢাকায়। সুবিধাবাদী হিসেবে পরিচিত শামীম গত বিএনপি সরকারের আমলে যুবদলের রাজনীতি করতেন। ক্ষমতার পালা বদলে মিশে যান যুবলীগের সঙ্গে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here