ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের

0
108

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে ১০০০তম ম্যাচ। ২০০৫ সালে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম সংস্করণের হাজারতম ম্যাচটি খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ।

আর এ সুযোগটিকে স্মরণীয়ই করে রাখলেন মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। দলের দুই প্রাণভোমরা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে ছাড়াই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ভারতকে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

সময়ের হিসাবে ভারতের বিপক্ষে কুড়ি ওভারের ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের লাগলো ১০ বছর। ২০০৯ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল টাইগাররা। নটিংহামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ২৫ রানে হারতে হয় বাংলাদেশকে। সেই থেকে ঘরের মাঠ হোক, ভারতের মাঠ হোক কিংবা নিরেপেক্ষ মাঠ, বাংলাদেশের ভাগ্য বদলায়নি।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ঐতিহাসিক ম্যাচটিতে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানেই জিতেছে টাইগাররা। স্বাগতিকদের করা ১৪৮ রানের জবাবে বারবার ম্যাচের ভাগ্য দুলেছে পেন্ডুলামের মতো। তবে শেষ হাসি হেসেছেন দুই ‘ভায়রা ভাই’ মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ-ই।

ভাগ্য সত্যি সহায় হয়নি বাংলাদেশের। ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের এখনও যন্ত্রণায় পোড়ায়। জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও ১ রানে হারতে হয়েছিল। ওই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে কী, উল্টো দুই বছর পর শ্রীলঙ্কার নিদাহাস ট্রফিতে আরও বড় ধাক্কা লাগে! নিশ্চিত জিততে যাওয়া ফাইনালে দিনেশ কার্তিক বীরত্বে ভারত কিভাবে ম্যাচটি ছোঁ মেরে নিয়ে গেল, সেই হিসাব এখনও মেলান অনেক ক্রিকেটভক্ত।

নিদাহাস ট্রফির ওই ফাইনালের পর দিল্লির এই ম্যাচ দিয়েই ভারতের বিপক্ষে প্রথমবার কুড়ি ওভারের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। রান তাড়ায় নামা বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে এবারও হয়তো কারও মনে উঁকি দিয়েছে বেঙ্গালুরু কিংবা কলম্বোর স্মৃতি। তবে এবার ভুল করেননি মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। জয়ের বন্দরে দলকে নিয়ে ভারত জয়ের নতুন ইতিহাস লিখেছেন তারা।

নিঃসন্দেহে দিল্লির ম্যাচের নায়ক মুশফিক। টি-টোয়েন্টিতে তার ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। তবে দিল্লিতে ৪৩ বলে ৬০ রানের অপরাজিত ইনিংসে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। আর সেটাও এমন সময়, যখন দলের পরিস্থিতি অন্য যে কোনও সময়ের চেয়ে খারাপ।

মাঠের বাইরের নানা জটিলতাকে একপাশে ঠেলে বাংলাদেশ প্রমাণ করলো নিজেদের দিনে যে কাউকেই হারাতে পারে তারা। আর সেটা সাকিব আল হাসান কিংবা তামিম ইকবালের মতো পরীক্ষিত পারফরমারদের ছাড়াই!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here