কৃষি জমি নষ্ট করে শিল্পকারখানা নয়: প্রধানমন্ত্রী

0
139

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ দেশকে রক্ষা করতে হলে কৃষক ও জমি বাঁচাতে হবে। কৃষি জমি নষ্ট করে কোনো শিল্প কলকারখানা ও ইন্ডাস্ট্রি করা যাবে না। এছাড়া নিজেদের চাহিদা পূরণ করে কৃষিপণ্য যেন বিদেশে রফতানি করতে পারি সে ব্যবস্থা করতে হবে।

বুধবার দুপুরে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কৃষক লীগের জাতীয় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। কৃষকরাই বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখে। কৃষক ফসল ফলায়, আমরা খেয়ে বেঁচে থাকি। একটি সমাজ ও দেশের জন্য কৃষক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

‘কৃষকের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আমরা উন্নত হবো, শিল্পায়ন করবো। তবে কৃষকদের বা কৃষিকে বাদ দিয়ে নয়। কাজেই আমরা উন্নয়নে কৃষকদের সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগে কৃষক ফসল ফলাতো, কিন্তু তার পেটে খাবার ছিল না। তাদের পরনের কাপড় ছিল না। কৃষকের অধিকার সংরক্ষণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কৃষক যেন তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ই-কৃষি চালু হয়েছে। কৃষকরা যেকোনও সমস্যার সমাধানে ‘১৬১২৩’ নম্বরে কল করে জানতে পারে। আমাদের কৃষকরাও এখন যথেষ্ট পরিপক্ব। মোট কথা কৃষকদের যত ধরনের সুবিধা দেওয়ার কথা, আমরা তা দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য দেশকে কীভাবে উন্নত সমৃদ্ধশীল করে গড়ে তুলবো। সেদিকে লক্ষ রেখেই কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যে জাতীয় কৃষিনীতি-২০১৮ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কৃষি খাতে আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। আগে কৃষকদের ভর্তুকি দিতে গেলে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক মানা করতো। আওয়ামী লীগ সরকার তা সচল রেখেছে। আজ আমরা ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছি। গত ১১ বছরে আমরা কৃষি খাতে ৬৫ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, হাওর এলাকার কৃষকরা অকাল বন্যায় প্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকার কৃষকরাও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। তাদের জন্য কোনো বীমার ব্যবস্থা চালু করা যায় কি-না সেটাও আমাদের সরকার ভাবছে। বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে। এ অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষক যাতে ভালোভাবে ফসল ফলাতে পারে সে জন্য সারের দাম কমানো হয়েছে। সেচের জন্য ব্যবহার করা বিদ্যুতের ওপর ২০ ভাগ ভর্তুকি দেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সর্বভারতীয় কৃষাণ সভার সাধারণ সম্পাদক অতুল কুমার অঞ্জন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here