পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়নের ঢেউ উঠেছে : প্রধানমন্ত্রী

0
105

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম একসময় অশান্ত ছিল। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর শান্তি চুক্তির মাধ্যমে আমরা এ সমস্যার সমাধান করি। এক সময়ের অন্ধকার পার্বত্য চট্টগ্রামে এখন বিদ্যুতের আলো ছড়াচ্ছে।

৪টি প্রকল্পের উদ্বোধানী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি বাড়ি ও হাট-বাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। কেউ অন্ধকারে থাকবে না, সব ঘরেই যাবে বিদ্যুৎ, জ্বলবে আলো।

কাপ্তাইয়ে একটা গবেষণার জন্য ভাসমান প্রতিষ্ঠান হিসেবেই এ জাহাজটা নির্মাণ করা হয়েছে। যারা আমাদের বিজ্ঞানী মৎস্য নিয়ে গবেষণা করেন তারা সেখানে যেতে পারবেন। ফলে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি হবে। আর এটা বৃদ্ধি পেলে মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নত হবে। মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে সেখানে মাছ প্রক্রিয়াজাত করায়ও আমরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তুলতে পারব।

শেখ হাসিনা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে মোবাইল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল বিএনপি সরকার। আমরা এসে সেখানে মোবাইল চালু করে দিই। এবং ওই অঞ্চলে বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য যেহেতু গ্রিড লাইন করা সম্ভব না, যেহেতু যথেষ্ঠ দুর্গম অঞ্চল, তাই আমরা সেখানে ব্যাপক সোলার প্যানেল দেওয়া শুরু করি। হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, রাস্তা-ঘাট তৈরি করা, পুল-ব্রিজ তৈরি করাসহ ব্যাপক হারে উন্নয়নের কাজ আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ওই অঞ্চলের মানুষ খুব দরিদ্র ছিল। আমরা তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আর সেই কর্মসূচির আওতায়ই পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে আমরা আলো জ্বালবো এটাই আমাদের লক্ষ। কোনও ঘর যেন অন্ধকার না থাকে। এর জন্য সেখানে আমরা সোলার প্যানেল প্রতিষ্ঠা করে যাচ্ছি। এর জন্য আমরা কর্মসূচি নিয়েছি। এই কর্মসূচির আওতায়ই আজকে আমরা পার্বত্য অঞ্চলে আমরা এ সোলার প্যানেল স্থাপনে এই কর্মসূচিটি উদ্বোধন করছি।

তিনি বলেন, ৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার সমাধান করি। শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরে এসেছে। সেখানকার এক হাজার ৮০০ অস্ত্রধারী আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের আমরা পুনর্বাসন করেছি। বিএনপির আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল। এখন সেখানে উন্নয়নের ঢেউ উঠেছে। সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে সেখানে রাতদিন কাজ হচ্ছে। অর্থ-নীতির গতি সঞ্চার হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্ন দ্বীপ বলে গ্রিড লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব না। এ কারণে আমরা সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলোকিত করেছি। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম নয়, বাংলাদেশের একটি ঘরও অন্ধকার থাকবে না। প্রতিটি ঘরে আলো জ্বলবে। কাজের গতি বাড়বে, সময় বাড়বে। সন্ধ্যা হলেই এখন অনেকে আর ঘুমিয়ে পড়ে না। বিদ্যুতের আলোয় কাজ করে।

এভাবেই সবার কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here