আয়েশা সিদ্দিকা শেলীর সফলতা ও সংগ্রামের গল্প

0
187

মাগুরার কৃতি সন্তান বাংলাদেশ কর বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার আয়েশা সিদ্দিকা শেলী একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা র সন্তান। তিনি ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের মেধাবি ছাত্রী ছিলেন।

১৮তম বিসিএসে বিসিএস ট্যাক্সেসন ক্যাডারে যোগ দেন। তিনি কর্মজীবনে দীর্ঘদিন সিংগাপুরে লেবার কাউন্সেলর হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের উপ-সচিব, ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের সাবেক ভিপি, নব্বুই এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রুপকার , ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেত্রী প্রয়াত আইরিন পারভিন বাঁধনের ছোট বোন।

আয়েশা সিদ্দিকা শেলী চাকুরির পাশাপাশি সমাজ সেবামূলক কাজ করছেন। তিনি নারীর স্বাস্থ্য ও ব্রেস্ট ক্যানসার আক্রান্তদের নিয়ে সচেতনতা মূলক বিএসসিএফ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তিনি একজন সুলেখিকা। কবিতা, ছোট গল্প, উপন্যাস এবং নানা বিষয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন। ইতোমধ্যে তার ৩টি কাব্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

আয়েশা সিদ্দিকা শেলী বিসিএস এসোসিয়েশন , ট্যাক্সেসনের নির্বাহি পর্ষদের ২০২০-২১ সালের নির্বাচনে মহাসচিব পদে প্রার্থী হয়েছেন। আয়েশা সিদ্দিকা শেলী নয় ভাই-বোনের মধ্যে অষ্টম। বর্তমানে আয়েশা সিদ্দিকা শেলী ঢাকা কর অঞ্চল ১১ পরিদর্শী রেঞ্জ-২-এর অতিরিক্ত কর কমিশনার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। মাগুরা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

আয়েশা সিদ্দিকা লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। পড়াশোনা শেষে আয়েশা ১৯৯৯ সালে ১৮তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী কর কমিশনার পদে নিয়োগ পান। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ডেপুটি কমিশনার এবং তারপর এক বছর যুগ্ম কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছর সিঙ্গাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম ও কল্যাণ শাখার কূটনৈতিক কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করেছেন। দেশে এসে দুই মাস ট্যাক্স একাডেমির যুগ্ম পরিচালক, তারপর থেকে অতিরিক্ত কর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় রয়েছেন। রোটারি ইন্টারন্যাশনাল সিঙ্গাপুর, ঢাকা অফিসার্স ক্লাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ঢাবির পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাসোসিয়েশন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি এবং মাগুরা জেলা সমিতির সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের ২০১৪-১৬ মেয়াদের নির্বাহী সদস্য এবং ঢাকার অ্যারোমা রোটারি ক্লাবের আসন্ন প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। বাবা জেলা রাজস্ব কর্মকর্তা হওয়ায় ভাই-বোন সবারই ঝোঁক ছিল সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার। হয়েছেনও তাই।

এ বিষয়ে আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, আসলে পরিবারের সুবাদে আমরা সরকারি কর্মকর্তাদের পরিমণ্ডলে বড় হয়েছি। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত মাগুরায়ই ছিলাম। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। এ আয়কর ক্যাডারেই একসময় আমার মামা, ভাই ও দুলাভাই ছিলেন। সব মিলিয়ে ভালো একটা পরিবেশের মধ্যে আমরা বেড়ে উঠেছিলাম। আর শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবনেও তেমন কোনো বাধা অনুভব করিনি। মেয়ে হিসেবে অনেকেই নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হয়। আমি বা আমাদের ক্ষেত্রে তেমন কিছু ছিল না। তার পরও ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষেই কিছু বাধা তো থেকেই যায়। সেগুলো জয় করেই এ পর্যায়ে আসা। চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার বড় বোন আইরিন পারভিন বাঁধন ছিলেন ১১তম বিসিএস ক্যাডারের। তিনি বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব এবং নব্বই দশকের ছাত্রলীগের ডাকসু নির্বাচনে শামসুন্নাহার হলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।

২০১৬ সালে অদম্য মেধাবী আইরিন পারভিনকে স্তন ক্যান্সারের কারণে হারিয়েছি। এ রোগের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ওই বছরের ২৬ মে দ্য ব্লু স্কাই চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করি। বর্তমানে আমরা স্তন ক্যান্সার মুভমেন্ট পরিচালনা করছি। সচেতনতার অভাবে আমাদের দেশে এ রোগে মৃত্যুর হার কমছে না। সবাই যেন স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে জানতে পারে, বুঝতে পারে, আক্রান্ত হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে এবং সচেতনতা ও স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহায়তা করে থাকি। আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল গড়ে তোলা, যেখানে শুধু স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা সেবা পাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here