ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়তে সকলের কাছে দোয়া চাইছেন মহিউদ্দীন (ভিডিও)

0
18

ব্যবসা বড়ই বেরসিক বিষয়। ইট-কাঠ-পাথরে গড়া এই মহানগরীতে তাই মানবিক মানুষের দেখা পাওয়া বড়ই দুস্কর। হাতে হারিকেন নিয়ে উঠোনে সূচ খোঁজার মতো। দিনদিন শোচনীয়ভাবে কমছে মানবিক মানুষের সংখ্যা। হাতে গোনো- যে কজনকে মানবিক মানুষ মনে করা হয় শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন তাদের অন্যতম। কর্ম-আচরণ- এবং সেবা দিয়ে জয় করেছেন কোটি মানুষের হৃদয়। সম্প্রতি তিনি ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁর মুখোমুখি হয়েছিলেন পাক্ষিক বাংলাদেশের সম্পাদক ও প্রকাশক সাজেদা হক।

পাক্ষিক বাংলাদেশ: কেমন আছেন আপনি? প্রচারণা কেমন চলছে?
মহিউদ্দীন: ভালোভাবেই চলছে সব কিছু। আপনাদের, এলাকার মানুষের ভালোবাসায় ভালোভাবেই চলছে সবকিছু। মানুষের জন্য কাজ করার একটু সুযোগ পেয়েছি সবাই দোয়া করবেন, এলাকাবাসী আমাকে যেন সে সুযোগ দেন যাতে তাদের খেদমত করতে পারি।

পাক্ষিক বাংলাদেশ: বিজয়ী হলে কি করবেন?
মহিউদ্দীন: আমি মনে করি সোনার বাংলাকে সোনার গড়তে হলে অর্থের প্রয়োজন। দেশের মানুষের অর্থে সোনার বাংলা তৈরি করা কঠিন কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সোনার ছেলেরা, দামাল ছেলেরা আজ যখন বিশ্ব দাপিয়ে বেড়ায়, বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ তখন এমনিতেই বিশ্বাস করতে হয়, বাঙ্গালীদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। এই ক্ষণে মনে পড়ে গেল অন্য একটি বিষয় বলতে পারবেন জয়বাংলা স্লোগানটা কিভাবে এলো? কখন কীভাবে এই স্লোগানটির উৎপত্তি হয়েছিল তা সুনিশ্চিতভাবে জানা যায় না। কোথাও বলা হয়েছে যে ১৯৬৯ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর মধুর ক্যান্টিনে শিক্ষা দিবস (১৭ মার্চ) যৌথভাবে পালনের জন্য কর্মসূচি প্রণয়নের সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ-এর আহুত সভায় তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আফতাব আহমেদ ও চিশতী হেলালুর রহমান “জয় বাংলা” স্লোগানটি সর্বপ্রথম উচ্চারণ করেন। তবে ১৯ জানুয়ারি ১৯৭০-এ ঢাকা শহরের পল্টনের এক জনসভায় ছাত্রনেতা সিরাজুল আলম খান তার ভাষণে সর্বপ্রথম “জয় বাংলা” স্লোগানটি উচ্চারণ করেছিলেন বলে প্রচলিত আছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে প্রথম “জয় বাংলা” স্লোগানটি উচ্চারণ করেন ৭ মার্চ ১৯৭০-এ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জনসভার ভাষণে। এই বেতার কেন্দ্রের স্বাক্ষরসঙ্গীত ছিল জয় বাংলা, বাংলার জয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ১১ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে প্রচারিত প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহ্মদের প্রথম বেতার ভাষণটি শেষ হয়েছিল “জয় বাংলা, জয় স্বাধীন বাংলাদেশ” স্লোগান দিয়ে। আজও স্লোগানটি সমানভাবে রাজনৈতিক স্লোগান হিসাবে ব্যবহার হয়।

পাক্ষিক বাংলাদেশ: কেন রাজনীতিতে এলেন-রাজনীতি কি এখন ব্যবসা- এমন উক্তির কি জবাব দেবেন?মহিউদ্দীন: আমার সোজা কথা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ গড়ার সংগ্রামে অংশীদার হতেই আমার এই নির্বাচনী  পদ প্রার্থীতা। জনগণের রায় পেলে দেশের উন্নয়নে সামান্ন হলেও আবদান রাখতে চাই, নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ গড়ার সংগ্রামে অংশীদার হতে চাই।

পাক্ষিক বাংলাদেশ: রাজনীতিতে জড়ালেন কিভাবে?
মহিউদ্দীন: বাবার কাছেই রাজনীতির হাতেখড়ি। ছোট বেলায় দেখতাম আমাদের বাড়িতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা আসা যাওয়া করতো। আব্বা সরাসরি রাজনীতি করতের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সাথেও রাজনীতি  করেছেন তিনি। তাঁর মুখ থেকেই শুনেছি বঙ্গবন্ধু মানুষকে কতটা ভালোবাসতেন। এই ভালোবাসার মূল্য কখনো শোধ হবার নয়-এমন বলে বলে বহুবার আমি আমার বাবাকে কাঁদতে দেখেছি। সেই থেকেই আমাদের চিন্তায়-চেতনায়-আদর্শে গেঁথে আছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরে আমি ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগে যোগ দেই, সেই শুরু। এরপর যুবলীগ হয়ে আওয়ামী লীগে আসা।

পাক্ষিক বাংলাদেশ: নির্বাচিত হলে এলাকাবাসীর জন্য কি করবেন আপনি?

মহিউদ্দীন: ফজলে নূর তাপসের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করবো আগে। পাশাপাশি এলাকাবাসীর দাবিদাওয়া পূরণ করবো। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা এবং জনদুর্ভোগ লাঘোবের চেষ্টা করবো। এক লাইনে যদি বলতে বলেন তাহলে বলবো ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ তৈরিতে যা যা করা দরকার তা করার চেষ্টা করবো। এজন্য এলাবাসীর কাছে ভোট চাই, সকলের কাছে দোয়া চাই।

পাক্ষিক বাংলাদেশ: আমাদের দেশে উন্নতিকে কিভাবে বিশ্লেষন করবেন আপনি?

মহিউদ্দীন: বাংলাদেশের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। উন্নয়নের ধারাবাহিকতাটা আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি- এটা একটা বিরাট ব্যাপার। যারা এতোদিন বাংলাদেশকে দেখলেই তলাবিহীন ঝুড়ি বলতো, এখন তারাই বাংলাদেশের উন্নয়নের মূলমন্ত্র জানতে মরিয়া। আমরা এমডিজি অর্জন করেছি এখন আমরা এসডিজি অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।

পাক্ষিক বাংলাদেশ: ব্যাংকিং খাতে একধরনের তারল্য সংকট ছিলো, আছে । আপনি কিছু পদক্ষেপ নেয়ার ওয়াদা করেছিলেন- এমপি হয়ে কি সেসব কথা রাখবেন?

মহিউদ্দীন: হ্যাঁ, আমার মনে আছে । কোন ব্যবসা শুরু করতে হলে হয়তো নিজের পুঁজি নিয়ে মাঠে নামতে হয়, নয়তো যারা পুঁজি দেন এমন কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে কাজটা শুরু করতে হয়। এটা যদি সিঙ্গেল ডিজিটে হতো তাহলে ভালো হতো, আমরা চেষ্টা করছি। সার্বিকভাবে ব্যবসা-বানিজ্য’র জন্য যে অনুকুল পরিবেশটা আছে সেটাকে আরো কাঙ্খিত মাত্রায় অনুকূলে নিয়ে যেতে হবে। করের ভার কমিয়ে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অসৎ ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বয়কট করারও আমাদের দায়িত্ব।

পাক্ষিক বাংলাদেশ: বাংলাদেশ এখন কোন পথে?

মহিউদ্দীন: উন্নয়নের পথে। এতোদিন ডিজিটাল বাংলাদেশ। ২০২১ মিশন। এখন আমরা কাজ করছি ২০৪১ – এর মিশন ও ভিশন। বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হচ্ছে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনারে দিক নির্দেশনা মোতাবেক দায়িত্ব পালন করে যাবো আমরা। ইকোনমিক জোন, ইলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মাসেতু. কর্ণফুলী টানেলসহ বড় বড় প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন। সেইসব কাজ নিয়ে আমরা কাজ করছি এখন থেকেই।

পাক্ষিক বাংলাদেশ: এমপি হলে কি পরিবর্তন আনবেন?

মহিউদ্দীন: আমি যদি এই দায়িত্ব পাই, জনগণ যদি আমাদের তাদের প্রতিনিধি করে সংসদে পাঠান তাহলে আমার প্রথম দায়বদ্ধতা হবে স্থানীয় জনগণের প্রতি। সংসদে বসেও আমার কিছু দায়িত্ব থাকবে সেগুলোও সুন্দর ‍ও সুচারুরুপে পালন করা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো।

পাক্ষিক বাংলাদেশ: ভোটার কিন্তু ভোট কেন্দ্র কম আসছে, বিগত নির্বাচনে তাই তো দেখা গেলো-এ নিয়ে কোন মন্তব্য করবেন কি?

মহিউদ্দীন: হ্যাঁ, অবশ্যই করবো। আমি আমার এলাকায় যেখানেই সংযোগে যাচ্ছি, সেখানেই এ বিষয়টি উল্লেখ করছি। এ ছাড়া আমি আমার সকল নেতা-কর্মীকেও এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছি। তারা যেন ভোটারদের কাছে যায় এবং তাদেরকে কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

পাক্ষিক বাংলাদেশ: ডেঙ্গু ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের কোন পরিকল্পনা কি কিছু করেছেন আপনারা?

মহিউদ্দীন: আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব বিষয়ে সচেতন। ‍তিনি ডেঙ্গু ও করোনা ভাইরাসসহ সকল বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন। কড়া নির্দেশনা অন্যান্য সকলের প্রতিও বলবত আছে।

পাক্ষিক বাংলাদেশ: সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ
মহিউদ্দীন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here