‘রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি সভ্যতার কলংক’

0
340
অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপরাশেন ( ওআইসি)’র সহকারি মহাসচিব হাসমি ইউছুফ বলেছেন,  মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বাস্ত্যুচুতি সভ্যতার কলংক।
শুক্রবার (৫ মে) দুপুরে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সহাকারী মহাসচবি আরো বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অন্য সংস্থার পাশাপাশি জোরালো ভূমিকা রাখবে ওআইসি।
কি এবং কিভাবে সেসব ভূমিকা পালন করবে ওই বিষয়ে ওআইসি’র ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তাই সম্মেলনে বসার আগেই সরেজমিন রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ঘুরে দেখেছি আমরা।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকা’ অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করে হাসমী ইউসুফ বলেন, সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হবে ।
এরআগে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায় প্রতিনিধি দলটি প্রথমে তানজিমার খোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান।
সেখান থেকে কুতুপালং ডি ব্লক পরিদর্শন করেন। ওখানে তারা নিপীড়িত, নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের সাথে কথা বলেন।
রোহিঙ্গাদের সাথে বলা কথাগুলো দুভাষী হিসেবে উপস্থাপন করেন ইউএনএইচসিআর’র কক্সবাজারস্ত কর্মকর্তা হাজেরা খানম। এরপর বেলা ১টার দিকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রতিনিধি দল।
শুক্রবার সকাল সোয়া ৯ টায় ওআইসির প্রতিনিধিদের বহনকরা বিশেষ বিমানটি কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে।  এরপরই ওআইসি প্রতিনিধি দল কলাতলীর একটি অভিজাত হোটেল কক্ষে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার ও আরআরআরসি প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে বসেছেন। বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বৈঠক  করে।
বৈঠক শেষে তারা সড়ক পথে ক্যাম্প পরিদর্শনে যায়। বৈঠকে  ‘ওআইসি’ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে অংশ নিতে আসা ৩৮ দেশের মন্ত্রী ও ৮ পররাষ্ট্র সচিবসহ ৬৮ দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল।
ওআইসি প্রতিনিধি দলের সাথে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ.এইচ মাহমুদ আলী এবং পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক। বিকেলেই প্রতিনিধিদলটি ঢাকার উদ্দেশ্যে একই বিমানে রওয়ানা হবার কথা রয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন  সূত্র জানায়, বৈঠকে রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি ওআইসি প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের গড়িমসির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ এপ্রিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও শুক্রবারের ওআইসি প্রতিনিধি দলের এ সফরকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার। এ সফরকে অর্থবহ করতে দু’পরিদর্শক দলের কাছে রোহিঙ্গা সংক্রান্ত বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম।
উল্লেখ্য, ৫ ও ৬ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ওআইসি’র ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন। ওআইসি জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এবারের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট অন্যতম এজেন্ডা হিসেবে আলোচিত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here