গোপালগঞ্জে পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশন করেই পরীক্ষা

0
197
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসির ফাইনাল পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশন না করিয়েই চার পরীক্ষার্থী পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার সরকারি শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ কেন্দ্রের সমন্বয়কারী প্রফেসার মোঃ শওকত আলীর দাঁড়িয়ার বিরুদ্ধে টাকা নিয়েও রেজিস্ট্রেশন না করেই এ পরীক্ষা নেওয়ার অভিয়োগ করেছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
শুক্রবার এইচএসসি প্রোগ্রামের লিখিত পরীক্ষা শেষ হলেও এসব শিক্ষার্থীরা শেষ পর্যন্ত তাদের পরীক্ষার রেজাল্ট পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন ওই চার পরীক্ষার্থী।
অভিযুক্ত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সরকারি শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ কেন্দ্রের সমন্বয়কারী প্রফেসর মোঃ শওকত আলী দাঁড়িয়া। তিনি সরকারি শেখ মুজিবুর রহমান কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরতঃ ছিলেন। গত ২০১৭ সালে তিনি অবসর গ্রহন করলেও এখনও তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি প্রোগ্রামের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন।
টুঙ্গিপাড়া সরকারি শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ কেন্দ্রে চার পরীক্ষার্থী তার কাছে টাকা দিলেও হয়নি রেজিষ্ট্রেশন। পরে ওই চার পরীক্ষার্থী শারমিন আক্তার, আবুল কাশেম, শামচুল আরেফিন ও আল-মামুনকে রেজিষ্ট্রেশন ছাড়াই পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। কর্মস্থল থেকে ছুটি ও সন্তানদের অন্য কারো কাছে রেখে পরীক্ষা দিলেও হাজিরা খাতায় নেওয়া হয়নি তাদের স্বাক্ষর।
ক্ষতিগ্রস্থ পরীক্ষার্থী বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের মোঃ রেজাউল হকের মেয়ে শারমিন আক্তার বলেন, প্রোগ্রামের সমন্বয়ক প্রফেসর মোঃ শওকত আলী দাঁড়িয়াকে রেজিষ্ট্রেশনের জন্য আমারা টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের রেজিষ্ট্রেশন না করেই পরীক্ষা দেবার সুযোগ করে দিয়ে আমাদের সাথে প্রতারনা করেছেন। পরীক্ষা দেবার সুযোগ করে দিলেও হলে হাজিরা খাতায় আমাদের স্বাক্ষর না নেয়ায় সন্দেহ হয়।
ক্ষতিগ্রস্থ পরীক্ষার্থী টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাশুড়িয়া গ্রামের লুৎফর রহমান খানের ছেলে আবুল কাশেম জানান, আমি এলাকায় মুদি ব্যবসায়ী করি। এর পাশাপাশি উন্মুক্ত থেকে এইচএসসি ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। ইচ্ছা ছিলো পাশ করে একটা সরকারি চাকরীর চেষ্টা করবো। কিন্তু এখন দেখছি সব আশাই নিরাশা হয়ে গেলে শওকত স্যারের কারনে। আমরা পরীক্ষা অংশ নিয়েছি কিন্তু আমাদের ফল প্রকাশ হবে না। একই অবস্থা শামচুর আরেফিন ও আল মামুনের। দ্বিতীয় সেমিস্ট্রারের রেজিষ্ট্রেশন না করেই পরীক্ষা অংশ নিয়েছেন তারা। আর শওকত স্যার টাকা নিলেও তাদের রেজিস্ট্রেশন করেনি।
টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও ওই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছেন তা অস্বীকার অভিযুক্ত কেন্দ্র সমন্বয়কারী প্রফেসর মোঃ শওকত আলী দাঁড়িয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি ভেবেছিলাম রেজিস্ট্রেশনের সময় বর্ধিত করা হবে। তখন ওই ৪ ছাত্রের রেজিস্ট্রেশন করা হবে। কিন্তু সময় বর্ধিত না করায় এটা সম্ভব হয়নি। তাদেরকে বলেছি, আগামী বছর রেজিস্ট্রেশন করে দিবো, তখন পরীক্ষা দিতে পারবে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাকিব হাসান তরফদার জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারলাম। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গোপালগঞ্জ কেন্দ্রের সহকারি আঞ্চলিক পরিচালক আলমগীর হোসেন খান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি আজই শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here