নিবিড়িত সাহিত্যিক কবি ফাতিমা আলী

0
194
Fatima Ali -Deshinfo
Fatima Ali -Deshinfo

ফাতিমা আলী, একাধারে কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক। জন্ম খুলনায় হলেও আদি নিবাস ছিল ঢাকার বিক্রমপুরে। পিতার চাকুরি সূত্রে ছোটবেলায় ঘুরেছেন খুলনা ও কুষ্টিয়ার গ্রাম-গ্রামান্তরে। বেড়ে উঠেছেন এ মাটিতে। খুব কাছে থেকে দেখেছেন বাংলার গ্রাম, নদী ও প্রান্তর। প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে বেড়ে উঠার কারনে ছোট বেলা থেকেই লেখালেখিতে হাতেখড়ি। প্রথমে লিখতেন গল্প-প্রবন্ধ। কালক্রমে হয়ে যান কবি।

আমার সাথে ফাতিমা আলীর প্রথম দেখা ’৮০র দশকের শেষের দিকে। আমি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সভায় যোগ দিতে খুলনায় গেলে, খুলনার প্রেসক্লাবে উনার সাথে পরিচয় ও আলাপ। তখন তিনি লেখালেখির পাশাপাশি সাংবাদিকতার সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন।

ঐসময় গল্প-প্রবন্ধ বেশী লিখতেন। এখন কবিতা। জিজ্ঞেস করলাম, একেবারে পুরোপুরি কবি হয়ে গেলেন কি ভাবে। ফাতিমার জবাব, ‘গুরুজী আর সাঁইজী। গুরুকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশালত্ব যেমনি আমাকে মুগ্ধ করেছে। তেমন লালন সাঁইজির আধ্মাতিকতা ভাবের জগতে আমাকে করেছে মোহগ্রস্থ। নিজের অজান্তেই কখন কবি হয়ে গেছি নিজেই জানি না। জানি রবীন্দ্রনাথের বিশালত্ব। কিংবা লালনের অচিন দেশের ঠিকানা আমি কোনদিনই পাব না। তবুও লিখে যাব আমৃত্যু’। যে এলাকায় রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় গীত হয়েছিল, ‘আমি কোথায় গেল পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে’। যে গানের সুর নিয়ে খোদ রবীন্দ্রনাথ লিখে গিয়েছেন, ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি…’।

যা এখন আমাদের প্রিয় মাতৃভুমীর জাতীয় সংগীত; সে জনপদে কেটেছে ফাতিমা আলির শৈশব এবং কৈশর। আসলে ভিতরে কবিত্ব ছিল বলে এই মনীষিদের এ জনপদের প্রভাব সহজেই তাকে কবি-সাহিত্যিক বানিয়ে ফেলেছে। হাসতে হাসতে ফাতিমা আলি বললেন, রবীন্দ্রনাথতো আমাদের জামাই। মৃণালিনী দেবীর বাপের বাড়িতো এই খুলনাতেই। আর কুঠিবাড়ি তো কুষ্টিয়ার শিলায়দহে। আর সাঁইজি তো এই কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেউড়িয়াতে অচিন পাখি খুঁজেছেন আজীবন। ফকির লালন শাহ। এর প্রভাবকি সত্যিই অস্বীকার করা যায়?
ফাতিমার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে-
– ইসলামে নারী (প্রবন্ধ)
– দ্বিতীয় জীবন (উপন্যাস)
– স্নিগ্ধ করপুটে (কবিতা)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্স পরীক্ষা দেয়ার পর এমএ ফাইনাল পরীক্ষা আর দেয়া হয় নি। স্বামী আহসান মোহাম্মদ আলী মংলায় একটি বেসরকারি সংস্থায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তিনিও বিদ্যুৎসাহি ও সাহিত্য অনুরাগী। খুলনার যে ‘সমন্বিত সাহিত্য পরিষদ’ এর সাথে ফাতিমা যুক্ত, এই সাহিত্য পরিষদ প্রতিষ্ঠা হয়, মূলত আহসান মোহাম্মদ আলীর প্রচেষ্টায়। স্ত্রী-র সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মোহাম্মদ আলী পাশে থেকে উৎসাহ দেন, কোন কেন ক্ষেত্রে মোহাম্মদ আলীর ও সক্রিয় অংশ গ্রহণ দৃশ্যমান।

উঠার আগে শেষ প্রশ্নটি করলাম। শুনেছি একটি ভাল ইংরেজি স্কুলের সাথেও আপনি জড়িত। স্বামী, সংসার, ছেলে-মেয়ে, স্কুল, এতকিছুর পর সাহিত্য চর্চা করার সময় পান কিভাবে! ফাতিমার উত্তর ছিল, স্বামী, সংসার, সন্তান এসব হচ্ছে আমার জীবন। সাহিত্য হচ্ছে আমার প্রেম।

লেখক: মোতাহার হোসেন‌, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, সাবেক পরিচালক বিআইডব্লিউটিএ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here