টসে হেরে ব্যাটিং এ বাংলাদেশ

0
874

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন, নাজমুল, সাকিব, মুশফিক, মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক, মেহেদী মিরাজ, মাশরাফি, রুবেল, মোস্তাফিজ

আফগানিস্তানের কাছে পরাজয় ক্রিকেটীয় অহংয়ে একটা আঁচড় তো দেয়ই। সেই পরাজয়টিওযদি আসে ১৩৬ রানের বিরাট ব্যবধানে! এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাল ম্যাচ শেষে তড়িঘড়ি করে আবুধাবি থেকে দুবাই ফিরে আসা। বাসে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হোটেলে ফেরা। ঘুমিয়ে দু দণ্ড জিরিয়ে নিতে না নিতেই আজ আবার নেমে পড়া সুপার ফোরের ম্যাচে। আজ ভারতের বিপক্ষে সুপার ফোরের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য তাই নানা দিক থেকেই কঠিন।অাফগানিস্তানের সাথে ম্যাচটি বাংলাদেশ জীবনমরণ লড়াই হিসেবে নেয়নি। বরং নিয়েছিল দলের কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়ে কয়েকজনকে বাজিয়ে দেখার সুযোগ হিসেবে। ৮ বোলারকে ব্যবহার করা বলে দিচ্ছে, বাংলাদেশ প্রস্তুতি ম্যাচের আদলেই খেলেছে কাল। তবু যেকোনো পরাজয়ের একটা ক্লান্তি থাকে। পরাজয় ছন্দপতনও আনে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষ ম্যাচে বিশ্রামে ছিলেন মুশফিকুর রহিম আর মোস্তাফিজ। চোটের কারণে নেই তামিম ইকবাল।

বাংলাদেশ তাই গত ম্যাচে মোস্তাফিজ আর মুশফিককে বিশ্রাম দিয়ে বেশ ভালো করেছে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই মুশফিক ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসগুলোর একটি খেলেছেন। শুধু ১৪৪ রান করেছেন বলে নয়, যেভাবে প্রায় একাই দলকে টেনে নিয়ে গেছেন। পাঁজরে চোট, ব্যথানাশক ওষুধ খাচ্ছেন একাধিক। বিশ্রামটা মুশফিকের দরকার ছিল। আজ ভারতের বিপক্ষে বাড়তি শক্তি নিয়ে তাই নামতে পারছেন।

মোস্তাফিজের অনুপস্থিতির সুযোগে দলে এসে বেশ ভালো বোলিংই করেছেন আবু হায়দার রনি। ওয়ানডেতে নিজের অভিষেক ওভারে পেয়েছেন উইকেট। ৯ ওভার বল করে ৫০ রান দিয়ে ২ উইকেট, ৫.৫৫ ইকোনমি রেটটা এখনকার ক্রিকেটে মন্দ নয়। কিন্তু মোস্তাফিজ দলে ফেরা মানে একজন পেসারকে বাদ যেতেই হবে। বাংলাদেশ চার পেসার নিয়ে খেলবে না। এখানেই বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত নিতে ভুগতে হবে। ভারতের বিপক্ষে চার ওয়ানডে খেলে ১৩ উইকেট মোস্তাফিজের। এর মধ্যে আছে তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর সেই অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স। মোস্তাফিজ একাদশে ফিরছেন নিশ্চিত।

তাহলে আবু হায়দার নাকি রুবেল হোসেন? উত্তরটা মন খারাপ করে দেবে আবু হায়দারকে। অভিষেক ম্যাচে ভালো খেলেও আজ একাদশের বাইরে যেতে হচ্ছে তাঁকে। আফগানদের বিপক্ষে রুবেল ৬ ওভার বোলিং করেছেন। ৩২ রানে ১ উইকেট। ওয়ানডেতে টানা ১১ ম্যাচে উইকেট পেয়েই আসছেন রুবেল, যা তাঁর ধারাবাহিকতার প্রমাণ। এ বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪ উইকেট আর গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ৩ উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে। ফর্ম, ধারাবাহিকতার সঙ্গে রুবেলকে এগিয়ে রাখবে অভিজ্ঞতা।

বাংলাদেশ অবশ্য ভুগবে দলের সবচেয়ে ফর্মে থাকা খেলোয়াড়টির শূন্যতায়। তামিম ইকবালের চোট একেবারেই আনকোরা এক ওপেনিং জুটি নিয়ে খেলতে বাধ্য করছে বাংলাদেশকে। জুটিটি ১৫ রান স্থায়ী হয়েছিল। লিটন টানা দুই ম্যাচে খারাপ করলেন। তবু একাদশে টিকে যাবেন মুশফিককে বাড়তি স্বস্তি দিতে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্বটা লিটনই পালন করছেন বলে।

অন্য ওপেনার হিসেবে কাল অভিষেক হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর। ১৩ বলে ৭ রানের ইনিংসে একটি দারুণ কাভার ড্রাইভ ছাড়া চোখে পড়ার মতো তেমন কিছু করেনি। সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মুমিনুল স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের কোনো গল্প লেখেননি। মুমিনুল আর শান্তর যেকোনো একজনকে বাদ পড়তে হবে। শান্ত টিকে যেতে পারেন আরও একটি সুযোগ প্রাপ্য বলে। কিন্তু মুমিনল? সুযোগ কি তারও প্রাপ্য নয়?

সব মিলিয়ে একাদশের একটা মোটামুটি চেহারা নিশ্চয়ই আপনার মনের পর্দায় ভেসে উঠেছে। তবে এটা মনে রাখা জরুরি, প্রচণ্ড গরমের কারণে সব দলই কমবেশি ফিনটেস সমস্যায় ভুগছে। তার ওপর বাংলাদেশের টানা দুই দিন ভিন্ন দুই শহরে ম্যাচ। শেষ মুহূর্তে একাদশ নির্বাচনে ফিটনেস পরিস্থিতিও একটা ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ এই ম্যাচই তো শেষ নয়, সুপার ফোরে আছে আরও দুই ম্যাচ।

তারুণ্যের চেয়ে অভিজ্ঞতায় বেশি আস্থা দেখাতে চাইলে বাংলাদেশ মুমিনুলকে ওপেনিংয়ে পাঠানোর একটা জুয়া খেলে দেখতে পারে। তাতে অন্তত দ্রুত দুই ওপেনার ফিরে আসার ঝুঁকি অনেক কমে। যদিও মুমিনুল তাঁর ক্যারিয়ারে কখনো ওপেনার হিসেবে খেলেননি। তাতে কী! দ্রুত দুই উইকেট হারালে মিডল অর্ডারকে তো ওপেনারের ভূমিকাই নিতে হয়!

ভারত একাদশ: রোহিত, শিখর ধাওয়ান, আম্বাতি রাইডু, লোকেশ রাহুল, এমএস ধোনি, কেদার যাদব, রবীন্দ্র জাদেজা/চাহার, ভুবনেশ্বর কুমার, কুলদীপ যাদব, জসপ্রীত বুমরা, যুজবেন্দ্র চাহাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here